28 C
Dhaka, BD
শনিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৮
Home Blog

বি চৌধুরীর বাসায় ডা. জাফরুল্লাহ

বি চৌধুরীর বাসায় ডা. জাফরুল্লাহ
ছবি সংগৃহীত

বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় গেছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার রাত পৌনে দশটার দিকে বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসায় যান তিনি। বি. চৌধুরীর প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বি চৌধুরীর বাসায় এসেছেন। তবে কী কারণে এসেছেন তা আমি জানি না’।

তবে বৈঠক শেষে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আগে যারা ছিল তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়ে কিছু হয় নাকি? আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহি বি চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও দলের মহাসচিব মেজর (অব) মান্নানের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আমিও কিছুক্ষণ ছিলাম সেখানে।

১৩ অক্টোবরের ঘটনার জন্য ডা. জাফরুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বি চৌধুরীকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে তারা থাকতে পারেননি। এটা ভালো বা সঠিক হয়নি। এই কথাটিই বলতে এসেছেন তিনি।’

প্রসঙ্গত ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে শুরু থেকে বিকল্পধারা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মতদ্বৈততার কারণে তাদের বাইরে রেখেই গত শনিবার গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নয়া জোট।

এর দুদিন পর বি. চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম একজন উদ্যোক্তা।

মাহবুব তালুকদার বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়য়েন জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন

মাহবুব তালুকদার বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়য়েন জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন
ছবি সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক থেকে আবারও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বেরিয়ে গেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এ ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয়, নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ছে নির্বাচন কমিশন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে গিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক পাঁচ দফা দাবিও উত্থাপন করেছেন মাহবুব তালুকদার। এসব দাবির মধ্যে ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারের সাথে সংলাপের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়য়েন জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। কারণ গতকাল তিনি যে দফাগুলো দিয়েছেন তার সবই বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের ৭ দফা দাবির অনুকরণে।

এছাড়া অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে বিএনপির একাধিক নেতার বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার শপথ নেন।

সব দলের উর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করাই একজন নির্বাচন কমিশনারের কাজ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রথম থেকেই যেন একটি মিশন নিয়ে নেমেছেন মাহবুব তালুকদার। ফলে নির্বাচনের আগেই নির্বাচন নিয়ে নানা রকম সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বেঁধে উঠছে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার স্পষ্টতই বিএনপির পক্ষে ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন নিয়ে যাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় সেটাই তারঁ মূল লক্ষ্য বলে মাহবুব তালুকদারের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে।

নারী পাচারে আশুলিয়া যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিজ বাড়ি থেকে আটক

নারী পাচারে আশুলিয়া যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিজ বাড়ি থেকে আটক
ছবি সংগৃহীত

আশুলিয়ায় নারী পাচারের অভিযোগে যুব মহিলা লীগের আশুলিয়া ইউপি সভাপতি আসমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।শনিবার রাতে আশুলিয়ার আউকপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত আসমা আউকপাড়া এলাকার গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি আশুলিয়া থানা শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি।

আশুলিয়া থানার এসআই মুরাদ জানান, আসমার বিরুদ্ধে একই এলাকার ফিরোজ তার স্ত্রী লিপিকাকে বিদেশে পাচারের অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগও রয়েছে।রোববার দুপুরে আসমাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা নিয়ে ফের মিথ্যাচার করল বিএসএফ মহাপরিচালক

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তরক্ষী সংস্থাগুলোর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। তাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক কে কে শর্মা দাবি করেছেন, ‘আনন্দের কথা, চলতি বছরে সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।’

এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো তাদের “বিএসএফ প্রধানের দাবি: এ বছর সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি” শিরোনামের সংবাদ প্রতিবেদনে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট–

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

বিএসএফ মহাপরিচালক এবারই প্রথম নয়, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ঢাকায় একই পর্যায়ের বৈঠকেও একই দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে ডেইলি স্টারের বাংলা ভার্সনের এই সংবাদটি পড়তে পারেন- “চলতি বছরে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি হত্যার খবর নেই: বিএসএফ মহাপরিচালক”

অবশ্য ডেইলি স্টার তাদের ওই প্রতিবেদনেই মানবাধিকার সংস্থার বরাতে জানিয়েছিলো বিএসএফ মহাপরিচালকের দেয়া তথ্য সঠিক নয়। পত্রিকাটি থেকে উদ্ধৃত দিচ্ছি–

“এদিকে, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, চলতি বছরে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে তিনজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, তিনজনকে অপহরণ করা হয়েছে।”

বিএসএফ মহাপরিচালকের আজকের দাবির প্রেক্ষিতে প্রথম আলো তাদের রিপোর্টে বাংলাদেশের দুটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে লিখেছে–

“অবশ্য বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকারের তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।”

তবে অধিকারের ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চলতি বছরের আট মাসের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪ জন। জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ১ এবং জুলাই মাসে ১ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট দেখুন–

অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট
অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট

তবে  অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে নিহতের এ সংখ্যা আরও বেশি বলে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

#৫ জানুয়ারি দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিবেদন– ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত

#১১ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

#২৮ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে বাংলাদেশি কিশোর নিহত

#৬ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইনাডু বাংলা’ এর বরাতে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন– বিএসএফের গুলিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

#২১ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন
সংবাদপত্রে প্রতিবেদন

উপরের সবগুলো সংবাদ প্রতিবেদনগুলো মতে, চলতি বছর বিএসএফের গুলিতে অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

জুলাই মাসের ৬ তারিখ ৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। যুগান্তরকে রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শামীম আল মাসুদ ইফতেখার বলেছিলেন, “খোঁজ নিয়ে রাজশাহী বিজিবি জানতে পেরেছে নিহতরা সম্ভবত ভারতেরই নাগরিক। এর পরও তারা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা সেটির সত্যতা যাচাইয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্তের ওই এলাকায় সম্ভাব্য সব উপায়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।”

পরে এ নিয়ে আর কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায় না। ফলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ৩ জন নিহতের কথা উল্লেখ করেছে। অধিকার-এর রিপোর্টে ফেব্রুয়ারি মাসে একজনের নিহত হওয়ার যে তথ্য দেয়া হয়েছে সেটি অনলাইনে  তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে খোঁজে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন হয়নি।

বিএসএফের হাতে চলতি বছর নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৩, ৪ বা ৭ জন- যা-ই হোক না কেন এটা স্পষ্ট যে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার দাবি পুরোপুরি অসত্য। (নিহতের বাইরে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এমনকি বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি স্কুলছাত্রের চোখ অন্ধ হওয়ার ঘটনাও আছে।)

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি BSS-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত জরিপের অস্তিত্ব নাই

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি BSS-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত জরিপের আস্তিত্ত নাই

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীং সংবাদ সংস্থা BSS (বাসস) -এর বরাতে মূলধারার সব সংবাদমাধ্যমে একটি সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে গবেষণা সংস্থা আইআরআই এর জরিপ সংক্রান্ত। “শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে : আইআরআই জরিপের ফলাফল” শিরোনামে BSS-এর রিপোর্টটি পড়ুন নিচের দুই স্ক্রিনশটে–

এই সংবাদটিই প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, বাংলাট্রিবিউনসহ সব সংবাদমাধ্যমে BSS-এর বরাতেই প্রকাশ করা হয়েছে (কেউই আইআরআই এর ওয়েবসাইট দেখে সেখানে কী আছে তা জানায়নি)। দেখুন নিচের স্ক্রিনশটে–

গতকাল (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত BSS-এর রিপোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরছি–

#বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়েছে।”

‘সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভে’ এর নামটি ভুলভাবে রিপোর্টে এসেছে। এছাড়া International Republican Institute’s (IRI) -এর Center for Insights in Survey Research আলাদা কোনো গবেষণা সংস্থা নয়। এটি আইআরআই’র এর জরিপ সংক্রান্ত বিভাগ।

#বাসসের রিপোর্টে বলা হয়েছে- “জরিপের প্রতিবেদনের একটি কপি আজ বাসস পেয়েছে।” তবে কোন সূত্র থেকে পেয়েছে তার উল্লেখ নেই।

#আরও জানানো হয়েছে- “চলতি বছরের এপ্রিলের ১০ তারিখ থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান চালানো হয়।”

#বাসসের ইংলিশ ভার্সনের রিপোর্টে বলা হয়েছে জরিপটির শিরোনাম ছিল “National Survey of Bangladesh Public Opinion”.

এদিকে bdfactcheck.com পক্ষ থেকে আজ ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আইআরআই’র ওয়েবসাইটে খোঁজে গত ৩০ আগস্ট বা তার নিকটবর্তী আগে বা পরের কোনো তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কোনো জরিপ বা গবেষণা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

Country ভিত্তিক প্রকাশিত জরিপ ও গবেষণা রিপোর্টের যে তালিকা রয়েছে তাতে Bangladesh অংশে সর্বশেষ গবেষণা রিপোর্টটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। শিরোনাম New Research: Economic Anxieties and Corruption Pose Daily Challenge to Bangladeshis

তার আগের রিপোর্টটি ছিল জরিপ। New Poll: Bangladeshis Optimistic for the Future; Support More Inclusive Government শিরোনামের এই রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৭।

আইআরআই’র ওয়েবসাইটেCountry ভিত্তিক জরিপ ও গবেষণা রিপোর্টের তালিকায় Bangladesh অংশে সর্বশেষ রিপোর্টগুলো দেখতে পারেন এই লিংকে গিয়ে।

এছাড়া “National Survey of Bangladesh Public Opinion” শিরোনামে একটি গবেষণা রিপোর্ট আছে যেটি প্রকাশের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৭। দেখুন এখানে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, বাসসের রিপোর্টে বলা হয়েছে- “জরিপের প্রতিবেদনের একটি কপি আজ (৩ সেপ্টেম্বর) বাসস পেয়েছে।” এখানে স্পষ্ট নয় বাসস ‘কপি’টি কিভাবে বা কোথায় পেয়েছে। এবং জরিপকারীদের সম্মতিতে ‘কপি’টি পেয়েছে, নাকি বিনা সম্মতিতে গোপনে সংগ্রহ করেছে।

কোনো জরিপকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের পরিচালিত জরিপ নিজেদের কোনো স্বীকৃত মিডিয়ামে (সংবাদ সম্মেলন, নিজেদের ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি আকারে) প্রথমে প্রকাশ না করে গোপেনে অন্য কাউকে ‘একটি কপি’ দিয়ে তা প্রকাশের সুযোগ দেয়া- এমনটি স্বাভাবিক অনুশীলন নয়। এতে জরিপকারীদের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া এবং জরিপের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা থাকে।

একইভাবে যদি বাসস (বাসস জরিপের ইতিবাচক ফলাফল ভোগকারী পক্ষ বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা) গোপনে জরিপের প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করে সেটি প্রকাশ করে থাকে তাহলেও এতে জরিপকারীদের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এবং জরিপের ইতিবাচক ফলাফল ভোগকারীদের হস্তক্ষেপের কারণে জরিপের গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

bdfactcheck.com এর পক্ষ থেকে আইএরআই’র কাছে জরিপটি সম্পর্কে জানতে চেয়ে ইমেইল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আপডেট পেলে আমরা আমাদের পাঠকদের জানাবো।

বিয়ে করছেন টাইটানিক অভিনেতা

বিয়ে করছেন টাইটানিক
ছবি সংগৃহীত

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। হলিউডের অস্কার জয়ী অভিনেতা। ‘দ্য রেভেনান্ট’ মুভির জন্য ২০১৬ সালে অস্কার জিতেন তিনি। তবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন ‘টাইটানিক’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এবার বিয়ে করতে চলেছেন ডিক্যাপ্রিও। কনের নাম কামিলা মোহনে।

গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনার এই মডেলের সঙ্গে ৮ মাসের প্রেম চলছে ডিক্যাপ্রিওর। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তার কাছের মানুষদের ভাষ্য, প্রেমের ব্যাপারে নাকি দুজনই খুব সিরিয়াস। তারা বিয়ের বিষয় নিয়েও ভাবছেন।

এর আগেও অবশ্য ব্রাজিলের মডেল জিজালে বানচেনের সঙ্গে লিওর প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। জিজালে বিয়ে করতে রাজি থাকলেও ডিক্যাপ্রিওই নাকি পিছিয়ে যান।

জানা গেছে, এখন লিও-কামিলা ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সী মডেল-অভিনেত্রী কামিলা বিয়েতে তার পরিবারের তরফ থেকেই নাকি সায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘টাইটানিক’। এর পরিচালক, লেখক ও সহপ্রযোজক বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জেমস ক্যামেরন। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট।

এর জ্যাক চরিত্রে লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় লাখো তরুণীর হৃদয় কেড়ে নেয়। বিশেষ করে ছবির শেষে তার মৃত্যু আজো সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি সিনেমাপ্রেমী মানুষ।

২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ছবিটি। ১১টি ক্ষেত্রে একাডেমি পুরস্কার জিতে নেয় এবং সর্বকালের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা ছবির তালিকায় স্থান দখল করে।

২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
ছবিঃ প্রতীকী

আগামী ২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। সূত্রটি জানায়, আগামী ২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। নির্দিষ্ট দিনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্য কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।

নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন-সংক্রান্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে জন্য ৪০ হাজার ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা করেছে ইসি। এর মধ্যে সম্ভাব্য ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪ হাজার ৪৫৩টি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর আসন অনুসারে ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছে। এমনকি তাদের প্রার্থী বাচাইও প্রায় চূড়ান্ত। নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে বাইরে তারা কিছু প্রকাশ করছেন না।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামী ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করেছে।

তবে আরেক বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এখনো নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে মুখ খুলছে না। তারা এখন পর্যন্ত বলছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছোটখাট দলগুলোও জোট করে মাঠে নামার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঈদের আগেই কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি

ঈদের আগেই কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সোমবার নড়াইলের মানহানির মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা কুমিল্লার নাশকতা মামলার বিষয়েও গতকাল রোববার সুখবর পেয়েছেন খালেদা। ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। মানহানি ও নাশকতা মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালতে খালেদা জিয়ার মামলা রইলো কেবল দুটি। ওই দুটি মামলায় জামিন পেলে ঈদের আগেই সম্ভব হতে পারে খালেদা জিয়ার মুক্তি।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, তাঁরা এই দুটি মামলা হাইকোর্টে নিয়ে আসছেন এবং আশা করছেন ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই হাইকোর্ট থেকে বেগম জিয়ার জামিন আদেশ নিয়ে আসতে পারবেন। এই দুটি মামলায় যদি খালেদা জিয়ার জামিন হয়ে যায় এবং সরকার আবার আপিল ডিভিশনে আবেদন না করে তবে ঈদের আগেই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

এই মুহূর্তে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করার বদলে আইন-আদালতের বিষয়গুলো সম্পন্ন করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। আমেরিকাসহ অন্যান্য দাতা দেশের পরামর্শ এর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। দেশগুলো বিএনপিকে বলেছে আদালতের বিষয়গুলো আগে সমাধান করতে। তাই বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়ার পরও যদি সরকার মামলাগুলোকে আপিল বিভাগে নিয়ে যায় অথবা অন্য কোনোভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করে তখনই বিএনপি আন্দোলনের বিষয়টি মাথায় নেবে।

আন্দোলন প্রসঙ্গে দাতা দেশগুলো বিএনপিকে বারবার বলেছে, দলটি আর যাই করুক না কেন সহিংস আন্দোলনে যেন না যায়। আর প্রত্যুত্তরে বিএনপি বলেছে সহিংসতা ছাড়া বাংলাদেশে কখনো সরকার পতন সম্ভব হয় না। তখন বিএনপিকে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। সবকিছুর আগে বিএনপি যেন আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে। তাই এই মুহূর্তে কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দিকেই জোর দিচ্ছে বিএনপি।

খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। আর দুটি মামলায় জামিন হলেই আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। এরপর সরকার কেবল দুটি কাজ করতে পারে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো আবার আপিল বিভাগে দিতে পারে। তবে আপিল বিভাগ আবার বেগম জিয়ার জামিন বহাল রাখতে পারে যেটি কুমিল্লার নাশকতা মামলার ক্ষেত্রে হয়েছে। অবশ্য এটি আদালতের বিষয়, সরকারের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করবে।

আপিল না করে খালেদা জিয়ার মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে সরকার আরেকটি কাজ করতে পারে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দিতে পারে সরকার। এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা হলে তাঁর মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে বিএনপি আশা করছে এমন কিছু হবে না। ঈদের আগেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। আর জামিন পাওয়ার পরও যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় তবে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলনে যাবে বলে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যাতীত সব কোটা তুলে দিয়ে মেধা প্রাধান্য পাবে

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যাতীত সব কোটা তুলে দিয়ে মেধা প্রাধান্য পাবে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ছবি সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সুপারিশ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রায় থাকায় এ বিষয়ে আদালাতের শরণাপন্ন হয়ে সরকার পরামর্শ চাইবে বলে জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আমরা মেরিটকে (মেধা) প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তবে কোর্টের একটি রায় রয়েছে- মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি খালি থাকে, তবে খালি রাখতে হবে। এটির ব্যাপারে কোর্টের মতামত চাইব, কোর্ট যদি এটিকেও উঠিয়ে দেয়, তবে কোটা থাকবে না।

‘আর কোর্ট যদি রায় না দেন, ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে। তবে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি সবটুকু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এটি হল প্রাথমিক প্রপজিশন,’ বলেন সচিব।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সামনে আসবে কীভাবে— এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, তারাও (পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী) অনেক অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরাল আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’, যা ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই আর রাখা হবে না।

তবে পরে সংসদে তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখতে হাই কোর্টের রায় আছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। প্রথমে কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় দেয়া হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে আরও ৯০ কর্মদিবস দেয়া হয়।

যুবলীগ নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ধর্মমন্ত্রীর ছেলে, তাই মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

যুবলীগ নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ধর্মমন্ত্রীর ছেলে, তাই মামলা নিচ্ছে না পুলিশ
ছবি সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ হত্যার ১৩ দিন পরও মামলা নেয়নি পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে মোহিত উর রহমান শান্ত প্রধান আসামি; তাই এজাহার নথিভুক্ত করা হচ্ছে না। পুলিশ বলছে, তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই ময়মনসিংহের আকুয়ার নাজিরবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ শেখ। তাকে গুলি, গলা কেটে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আজাদের মা ও স্ত্রীর অভিযোগ, ধর্মমন্ত্রীর ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল পাঠান ও ধর্মমন্ত্রীর ভাতিজা মন্তু বাবুর নির্দেশে আজাদকে হত্যা করা হয়। মামলার এজাহারে তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানি করতেই এজাহারে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে।

হত্যার দু’দিন পর ২ আগস্ট ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন নিহত আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু। তিনি এজাহারে মোহিত উর রহমান শান্তসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু এখনও এজাহারটি নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এজাহারে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা আসলেই হত্যায় জড়িত ছিলেন কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।

তদন্তসাপেক্ষে মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়ার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মামলা নথিভুক্ত না করে পুলিশ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে। আইনে খুনের মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। একজন ব্যক্তি খুন হয়েছেন, তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে, ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; মামলা নিতে এর চেয়ে বেশি কারণের প্রয়োজন নেই আইনে। জ্যোতির্ময় বড়ূয়া বলেন, হয়তো প্রভাবশালীদের নাম এসেছে বলেই মামলা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আইন অনুযায়ী আসামি যে-ই হোক, পুলিশকে মামলা নিতে হবে। তার পর তারা তদন্ত করে দেখবে, যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হত্যায় জড়িত ছিলেন কি-না। তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেবে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় মামলা নেওয়ার আগে তদন্তের সুযোগ নেই। মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওসি মাহমুদুল হাসানের দাবি, আইনে মামলা গ্রহণের আগে তদন্তের সুযোগ রয়েছে এবং মামলা নথিভুক্ত না করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নিবাস চন্দ্র মাঝির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলামও জানান, এজাহার নথিভুক্ত না করার বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত আছে। তিনি বলেন, এজাহারে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের সংশ্নিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজাহারে বলা হয়েছে, একজন আসামি (মোহিত উর রহমান শান্ত) ফোনে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আসলেই ফোনালাপ হয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যার নির্দেশের সত্যতা পেলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

আজাদের স্ত্রীর অভিযোগ, মন্ত্রীর ছেলেকে আসামি করায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। মোহিত উর রহমান শান্তর অনুসারীরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগে ‘মন্ত্রী-মেয়র গ্রুপের’ বিরোধ অনেক দিনের। আজাদ একসময় মন্ত্রীপুত্রের অনুসারী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি পক্ষ বদলে ময়মনসিংহের পৌর মেয়র ইকরামুল টিটুর পক্ষভুক্ত হন।

আজাদ হত্যা মামলার এজাহারেও দাবি করা হয়েছে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও জমি দখলের কাজে ব্যবহূত হতে চাননি বলেই আজাদ মন্ত্রীপুত্রের পক্ষ ত্যাগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোহিত উর রহমান শান্ত। তবে এ অভিযোগ শুরু থেকেই নাকচ করে আসছেন মোহিত উর রহমান। তিনি হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর সমকালের সঙ্গে আলাপে বলেন, আজাদ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ছিলেন। এ কারণেই আজাদকে পরিত্যাগ করেন তিনি। প্রকাশ্য সভায় আজাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বক্তব্য দিয়েছেন। আজাদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মোহিত উর রহমান নিজেও খুনের বিচার দাবি করেন।

ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আজাদকে নবগঠিত মহানগর যুবলীগের কমিটিতে পদ পাইয়ে দিয়েছিলেন শান্ত। আরেক যুবলীগ নেতা ফরিদ শেখের সঙ্গে দীর্ঘ বিরোধ ছিল আজাদ শেখের। ফরিদকেও এজাহারে আসামি করা হয়েছে।

ফরিদ শেখ মন্ত্রীর পরিবারের অনুসারী। আজাদের সঙ্গে বিরোধে ফরিদকে সমর্থন দিয়েছিলেন শান্ত। তাই মন্ত্রী পরিবারের আনুগত্য ছেড়ে মাস কয়েক আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন আজাদ। মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মেয়র ইকরামুল হক টিটু একই বলয়ের নেতা। স্থানীয় রাজনীতিতে তারা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও শান্তর বিরোধী। ইকরামুল হক বলেন, আজাদকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে। একই দাবি মোয়াজ্জেম হোসেনেরও। তাদের দু’জনেরই ইঙ্গিত মন্ত্রীপুত্রের দিকে।

আকুয়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চুরিসহ আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। মন্ত্রীপুত্রের হাত ধরেই তিনি রাজনীতিতে আসেন। পরে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কয়েক মাস আগে ধর্মমন্ত্রীর ছোট ভাই ও আকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আফাজউদ্দিন সরকারের কার্যালয়ে গুলি ছুড়েছিলেন আজাদ শেখ। মন্ত্রীর এলাকায় ‘মেয়র গ্রুপের’ রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলেছিলেন আজাদ। এর মধ্যে ২০ জুন আজাদের কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেদিনের সংঘর্ষে মন্ত্রীর দুই ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী সরকার ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক উষানকেও অংশ নিতে দেখা যায়।

আজাদের স্ত্রী জানান, বাড়ি ও কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা করতে চেয়েছিলেন আজাদ। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরেই বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছিল মন্ত্রীর অনুসারী ও আজাদের অনুসারীদের মধ্যে।

আজাদের স্ত্রী এজাহারে উল্লেখ করেন, ৩১ জুলাই অস্ত্র হাতে আসামিরা তাদের বাড়িতে আক্রমণ করে। প্রাণ বাঁচাতে আজাদ বাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়ে নাজিরবাড়ি মসজিদের দিকে যান। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে মিলন। গুলিবিদ্ধ আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি নুরুল পিস্তল দিয়ে দুটি গুলি করে। আসামিরা আজাদকে সেখান থেকে জুবলি কোয়ার্টারের গলিতে তুলে নিয়ে যায়। আসামি রাজীব, রকি, ফজলু, রতন, শ্রাবণ ও মেহেদি আজাদকে মাটিতে চেপে ধরে। আসামি স্বপনের হাতে থাকা ছোরা নিয়ে আজাদের গলা কাটে মিলন। আসামি নুরুল ও রানা চাপাতি দিয়ে বুকে কুপিয়ে আজাদের কলিজা ও ফুসফুস ছিঁড়ে নিয়ে যায়।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল পাঠান জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন আকুয়ায় ছিলেন না তিনি। শান্তও সেদিন ময়মনসিংহে ছিলেন না। তারপরও তাদের নাম এজাহারে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আজাদের মা সুফিয়া খাতুন বলেন, কয়েক মাস আগে থেকেই আজাদকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন শান্ত। মন্ত্রী পরিবারের বিরোধিতা করায় আজাদের কলিজা ছিঁড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। খুনিরা আজাদকে হত্যা করে কলিজা ছিঁড়ে নিয়েছে। সুফিয়া খাতুনের দাবি, মন্ত্রীর ছেলের হুকুমেই তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ