19 C
Dhaka
রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
Home Blog

ধর্ষণের পর নারীকে নির্জন জায়গায় ফেলে ইয়াবায় ফাঁসাল পুলিশ

ধর্ষণের পর নারীকে নির্জন জায়গায় ফেলে ইয়াবায় ফাঁসাল পুলিশ

এক নারীকে ধর্ষণের পর গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। এরপর পুলিশ গিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করে। এই সাজানো মামলায় চার মাস কারাভোগ করেন তিনি।

সীতাকুণ্ড থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য মামলাটি সাজিয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতা করেন ওই নারীর স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরাসহ ১৩ জন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা ( ডিবি) পুলিশের তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মঈনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সম্পত্তির ভাগ না দিতে ওই নারীকে ধর্ষণের পর ইয়াবাসহ পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তে তিন পুলিশ সদস্য সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। ২২১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আরেক তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুকও একই কথা বলেন।

ঘটনাটি গত বছরের ২৯ আগস্টের। ওই দিন বিকেলে ওই নারীকে নিয়ে তাঁর স্বামী হালিশহর থানায় যান। স্বামী অভিযোগ করেন, তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করছেন এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এই অভিযোগ করে তিনি সন্ধ্যায় স্ত্রীকে বাসায় রেখে দোকানে যান। রাতে ফিরে দেখেন বাসার জিনিসপত্র এলোমেলো, স্ত্রী নেই। পরদিন দুপুরে খবর পান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে তাঁর স্ত্রী সীতাকুণ্ড থানায়। পুলিশের করা মাদক মামলায় কারাগারে যান স্ত্রী।

এরপর স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করেন স্বামী। আদালত ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অপরদিকে স্ত্রীর জামিনের আবেদন করলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে ধর্ষণ, অপহরণ ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বর্ণনা দিয়ে ওই নারী আদালতে জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া তাঁর প্রথম স্বামীও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর কথা উল্লেখ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী প্রণব মুখার্জি বলেন, পুলিশের করা মাদক মামলাটি প্রত্যাহার চেয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ডিবি ও পিবিআইয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হবে।

দুটি সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সীতাকুণ্ড থানার সাবেক ওসি ইফতেখার হাসান, উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজ মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসাইন, ওই নারীর স্বামীর মৃত প্রথম স্ত্রীর ছেলে, তাঁর স্ত্রী, বড় মেয়ে, তাঁর স্বামী, ছেলের শ্যালক, তাঁদের চার সহযোগী ও ওই নারীর প্রথম স্বামী। তাঁরা কেউ গ্রেপ্তার হননি। নির্যাতন করে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথম স্ত্রীর ছেলে বলেন, তিনি এসব কাজে জড়িত নন। তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

যেভাবে ফাঁসানো হয়
পিবিআই ও ডিবির তদন্ত থেকে জানা যায়, নগরের হালিশহরের বাসা থেকে ওই নারীকে মাইক্রোবাসযোগে সীতাকুণ্ডের কুমিরা গেট এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তাঁর কোমরে দুই হাজার ইয়াবা বড়ির একটি ব্যাগ গুঁজে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের এসআই সিরাজ মিয়া দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াবাগুলো জব্দ করেন। এতে নারী কনস্টেবল হালিমা আক্তারসহ চারজনকে সাক্ষী রাখা হয়। ওই নারী অচেতন থাকায় তাঁকে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দেন এবং এটা ‘পুলিশ কেইস’ বললেও শোনেননি এসআই সিরাজ মিয়া। পরদিন সীতাকুণ্ড থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ওই নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক মামলার জব্দ তালিকায় স্থানীয় বাসিন্দা আলী শাহকে দ্বিতীয় সাক্ষী রাখা হয়েছে। তিনি সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান, এসআই সিরাজ মিয়া ও এএসআই জাকির হোসাইনের সঙ্গে ২৯ আগস্ট বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ১৫–১৬ বার মুঠোফোনে কথা বলেন। ইয়াবা উদ্ধারের সময় নারী কনস্টেবল না থাকায় পরদিন কনস্টেবল হালিমা আক্তারের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়া হয় জব্দ তালিকায়। নিয়ম অনুযায়ী সংবাদদাতা আলী শাহকে মামলার বাদী করা হয়নি। ইয়াবা জব্দকারী এসআই সিরাজ মিয়া নিজেও বাদী হননি। কনস্টেবল হালিমাকে ধমক দিয়ে জব্দ তালিকায় সিরাজ মিয়া সই নেন বলে তদন্তে জানা যায়।

এসআই সিরাজ মিয়া সীতাকুণ্ড থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে রাঙামাটি জেলা ডিবি পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানার মালিক আমি না। ওসির নির্দেশে সব হয়েছে।’

সীতাকুণ্ড থানার ওই সময়ের ওসি ইফতেখার হাসান বর্তমানে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, থানার কর্মকর্তারা ইয়াবা উদ্ধার করেছেন। যদি কাউকে ফাঁসানো হয়ে থাকে, তবে তদন্ত করে বাদ দেওয়া উচিত। যখন অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল তখন তিনি সীতাকুণ্ডে ছিলেন না।

ওই নারী জানুয়ারির শুরুতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ধর্ষণ করেও ওরা থেমে থাকেনি। পুলিশের সহায়তায় ইয়াবা দিয়ে মামলা করায়। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের এমন শাস্তি চান, যাতে কোনো মেয়ের জীবন এভাবে কেউ তছনছ করতে না পারে।

ডিভোর্স নিয়ে সেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মিতুর উদ্দেশ্য

ডিভোর্স নিয়ে সেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মিতুর উদ্দেশ্য

দীর্ঘ নয় বছর প্রেম। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকাকে। বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারেন বিভিন্ন ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটায় তার প্রেমিকা। এরপরেও সব ভুলে বিয়ে করে শুরু করে সংসার। এর কিছুদিন পরে আবার জানতে পারে নতুন কিছু পরকীয়া প্রমিকদের সাথে রাত কাটাচ্ছে তার স্ত্রী। এতকিছু সহ্য না করতে পেরে অবশেষে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।

বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের কথা। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৪টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ডাক্তার মুসতাফা মুরশেদ আকাশ। সেখানে নিজের আত্মহত্যার কথা জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে নিজের স্ত্রীর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এবং ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে আত্মহত্যার জন্য নিজের বউকে দায়ী করেন। পাশাপাশি শ্বশুর শাশুড়িকেও দায়ী করেন তিনি।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিক চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বরের নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

আকাশের সঙ্গে সংসার করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর। পরিবারের চাপ আর স্বামীর প্রচণ্ড ভালোবাসায় অনেকটা করুণা করে স্বামীকে ডিভোর্স দেননি মিতু।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানান মিতু। ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান মিতু।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এরপর মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম।

মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই বয়ফ্রেন্ডকে আসামি করা হয়েছে।

সাত বছরের প্রেমের সূত্র ধরে তিন বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়। মাঝেমধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশির ভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

ডা. আকাশের এক আত্মীয় বলেন, ‘বিয়ের পর মিতুকে নিয়ে সুখে ছিল না আকাশ। বিয়ের আগে মিতু দীর্ঘ সময় মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায় ছিল। সে ওই দেশের কালচার মেনে চলার চেষ্টা করত। বিয়ের পর একাধিক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা পছন্দ ছিল না আকাশের। তাদের বিয়ের কাবিননামা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। মিতুকে ডিভোর্স দিলে আইন অনুযায়ী দিতে হতো কাবিনের সব টাকা। মিতুর বেপরোয়া স্বভাব চরিত্র এবং চালচলন পছন্দ না হলেও আকাশ বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে মেনে নিয়েছিল। এ কারণেই বেপরোয়া জীবন যাবন করে আকাশের কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে সেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মিতুর উদ্দেশ্য।’

ডা. আকাশের ছোট ভাই নেওয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘গত ১৪ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে মিতু। ঘটনার দিন মিতু আকাশের সঙ্গে বাসায় ছিল। মিতুর পরকীয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার রাতে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে মিতু রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করে আকাশ। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।’

নগর পুলিশের উত্তর জোনের এডিসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডা. আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। মিতুকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন, আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।’

এদিকে মৃত্যুর আগে আত্মহত্যার জন্য আকাশ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রী তানজিলা হক মিতুকে দায়ী করেছেন।

ফেসবুক শেষের স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’

আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়ায়, প্রেম করে বেড়ায় আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল নালাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত।

ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলেনা।

বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করনা, মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা।

হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে, না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল।

ও আমাকে আর কি ভালবাসল? কিসের বিয়ে করল?

আমি শেষ পর‍্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচনা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে। আমাই এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই। তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনা আমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক। অনেকেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমিঞ্জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার। যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা’।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে ফেসবুকে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর বেশ কিছু পরকীয়ার গোপন মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও তার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন। এর আগে নিজের ফেসবুকে আরও কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন আকাশ। যেগুলো দেখলে যে কেউ বুঝবেন, আকাশ প্রচণ্ড অভিমান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। স্ত্রীর আচরণে বিরক্ত ছিলেন তরুণ এ চিকিৎসক। স্ত্রীর চরিত্র নিয়েও খোলামেলা লিখেছেন তিনি। স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর প্রতি পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন আকাশ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল আইএসআই

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল আইএসআই

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। কিন্তু ওই পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইকোনোমিক টাইমস’ এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইকোনোমিক টাইমসে মঙ্গলবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ সরকার তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগীদের নিয়ে ওই হত্যা পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। পরিকল্পনাটি করেছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।’ হত্যাকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা বিপুল অস্ত্রও সরবরাহ করে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘আইএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাভিদ মোক্তার ওই হত্যা পরিকল্পনার প্রধানের ভূমিকা পালন করেন। জেনারেল নাভিদ ছাড়াও আইএসআইয়ের বেশকিছু এজেন্ট ওই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু সদস্য নাকি এ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে পাকিস্তান সমর্থিত মৌলবাদী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হত্যা পরিকল্পনায় ছিল কিনা- তা জানা যায়নি।’

এক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গ্রিসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে করে একে-৪৭, কারবিন বন্দুক ও গ্রেনেড নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বন্দরে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ওই জাহাজটি মাঝপথে ডুবে যায়। ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতায় থাকাকালীন যেভাবে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র দেশে নিয়ে আসে, একইভাবে এসব অস্ত্র আনার ব্যবস্থা করা হয়।’

আরেকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার মাধ্যমে একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। জাহাজ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণেরও পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

ইকোনোমিক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস ওই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।’

এর আগে ইকোনোমিক টাইমস বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সমর্থিত বিএনপি ও মৌলবাদী দল জামায়াতে ইসলামীকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আর এসব পরিকল্পনার মূলহোতা হলেন তারেক রহমান।’ সূত্র: কালেরকন্ঠ।

আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলার জন্য বিএনপি-জামাতের সমর্থন গাজী ইয়াকুবের পক্ষে

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং জামাত এই নির্বাচন নিয়ে নতুন কৌশল করার চেষ্টা করছে। যদিও তারা বলেছে বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না বাইরে থেকে কোন একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগকে চমকে দিতে চায়। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তারা মনে করছে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মানুষ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি, সেটা নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা বিক্ষোভ রয়েছে। এটাকে তারা এই নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায়, আওয়ামী লীগ বিরোধী একজন প্রার্থী তারা দাঁড় করাতে চায় এবং তাকে সমর্থন দিতে চায়।

জামাতের একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা অন্য কোন প্রার্থীকে ভোট দেবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যেমনটি হয়েছিল ২০০৪ সালে তৎকালীন ঢাকা-১০ (তেজগাও-রমনা) আসনের উপনির্বাচনে। সেসময় বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালুর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী না থাকলেও তারা বিকল্পধারার মেজর এমএ মান্নানকে সমর্থন দিয়েছিল। যদিও সে নির্বাচনে ফালু জয়লাভ করেন। একইভাবে বিএনপি এবং জামাতও কোন একজন প্রার্থীকে নীরবে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের সমীকরণ জটিল করতে চায়। তাদের সমর্থিত প্রার্থী যেন পুরোদমে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে, জনগণের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পায় সেদিকে নজর দেবে বিএনপি জামাত।

নির্বাচনে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী হিসেবে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেছে। এই নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হবেন  যেহেতু তিনি মাত্র ১ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন তাই আতিকুল ইসলাম চেয়েছিলেন এই নির্বাচন যত কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় তার জন্য ততো ভালো। এই নির্বাচনে অধিকাংশ দলের অনাগ্রহ থাকলেও আতিকুল ইসলামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কোন সুযোগ খুবই কম। ইতিমধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান মনোনয়নপত্র কিনেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল হক রুবেল নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রচারণাও শুরু করেছেন। তবে আতিকুলের মূল চ্যালেঞ্জ হতে পারেন ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী গাজী ইয়াকুব। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে কোনো ভাবে তিনি নির্বাচনে থাকবেন। একইসঙ্গে তিনি বিএনপি এবং জামাতের সমর্থন পাওয়ার জন্য দল দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলার জন্য বিএনপি-জামাতের সমর্থন গাজী ইয়াকুবের পক্ষেই যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন শেখ হাসিনা

ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মত দিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ না করার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, তিনি সংলাপ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমার দরজা সবার জন্য খোলা। কোনো চাপে নয়, আমি তাদের কাছে শুনতে চাই তাঁরা কি চায়।’ আজ দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় এভাবেই পাল্টে গেল আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে তিনি সংলাপ করবেন, দিন তারিখ ঠিক করে তাঁদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) জানাতে। প্রধানমন্ত্রীর এই কৌশলে ধরাশায়ী হলো ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিকেলে যখন সংলাপে সম্মতির ঘোষণা দিলেন, তখন বিব্রত এবং অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ. স. ম. আবদুর রব বললেন, ‘সত্যি বলতে কি আমরা চিন্তাও করিনি এত দ্রুত এবং সহজে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সংলাপে রাজি হবেন।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বললেন, ‘শেখ হাসিনা যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন, তা আরেকবার প্রমাণ করলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা আলোচনার টেবিলে আমরা সংকট সমাধানের একটা পথ খুঁজে পাবো।’

গতকাল রোববার রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন ড. কামাল হোসেন । আর দলের সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেন গণফোরামের নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। রাতেই  আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা সংলাপের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, শুধু মন্ত্রীদের নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় শেখ হাসিনা সংলাপে যেতে রাজি হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা  ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন। এরফলে সংলাপ ফেলে চটজলদি ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন জনসমর্থন পাবে না। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশকে তিনি উত্তপ্ত হতে দিলেন না। আন্তর্জাতিকভাবেও এর ফলে সরকারের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতা প্রমাণিত হলো। এরপর যদি সংলাপ ব্যর্থও হয় তবুও একতরফা নির্বাচনের জন্য কেউ সরকারকে দায়ী করতে পারবে না। স্পষ্টত: শেখ হাসিনা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের ঘাড় থেকে নামিয়ে বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দিলেন।

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে বৈঠকে সংলাপের চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই বৈঠকে নেতারা বলেছিলেন, সরকার কিছুতেই রাজি হবে না। ঐ বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, সরকার সংলাপ টংলাপ করবে না। ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, আমরা চিঠি দিলে তো সরকার নাকচ করবে। আমরা এটাই চাই। এর ফলে আমরা সবাইকে বলতে পারব সরকার সংলাপ চায় না। এর ফলে আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া সহজ হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না- এজন্যই সংলাপ চায় না, এটা প্রমাণ করতেই ড. কামাল চিঠি দিয়েছিলেন।

কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের কৌশল বুমেরাং হলো তাঁদের জন্যই। বেগম খালেদা জিয়া জেলে, বিএনপির অনেক নেতা গ্রেপ্তার এবং পলাতক। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নেতা কর্মীদের ভুল বার্তা দেবে বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ইতিমধ্যেই সংলাপের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।

তিনি বলেছেন ‘সরকার তো বলেই দিয়েছে সাত দফার একটি দাবিও মানবে না। তারপরও সংলাপে যাব কী করতে? নাস্তা খেতে?’ তিনি মনে করেন, ‘এর আগের বারও, শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে টেলিফোন সংলাপে ডেকে সবাইকে দেখিয়েছেন। ঐ টেলিফোন দিয়েই তিনি একতরফা নির্বাচন সেরে নিয়েছেন। এবারও হয়তো তাই করবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ এর নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করেছিলেন। ওই সংলাপের জন্য বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানালে তা বেগম জিয়া প্রত্যাখ্যান করেন।

এবার সংলাপে শেখ হাসিনা কী চমক দেখাবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

বাপ এমপির মনোনয়ন চান আর ছেলে চান সিটি করপোরেশন

বাপ এমপির মনোনয়ন চান আর ছেলে চান সিটি করপোরেশন
ছবি সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের কার্য নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ছেলে সিটি কর্পোরেশনের মনোনয়ন চায়; বাপ এমপি মনোনয়ন চায়; আওয়ামী লীগে কি আর লোক নেই।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি একথা বলেন। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা।

এমনকি যাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী একথা বলেছেন, মাসখানেক আগে ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়েও আওয়ামী লীগের শীর্ষ আরেক নেতারও তোপের মুখে পরেছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে নৌকার ভোট বাড়াতে তৃণমূলে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের মন জয় করে ভোট বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমি কাউকে খাওয়ায়ে দেবো না, সমস্ত জরিপ হচ্ছে, সকলের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। জনপ্রিয়তার বিচারে যে এগিয়ে থাকবেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা নতুন সদস্য সংগ্রহের সময় কোনভাবেই যেন অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সবার সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আদর্শ পরিপন্থী অনুপ্রবেশকারীরা স্বার্থ হাসিলসহ বিভিন্ন মতলব নিয়ে দলে প্রবেশ করে। স্বার্থ হাসিল শেষে তারা চলে যায়, দলের দুর্নাম করে। তাই অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি যারা অনুপ্রবেশ করাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠোবোধ করবে না আওয়ামী লীগ। বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা আগামী নির্বাচনে সারাদেশে দলের অবস্থান এবং সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন।

কেন্দ্রীয় এক নেতা  বলেন, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্যের ছেলে যিনি সিটি করপোরেশনে ঝামেলা করছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দলের ক্ষতি করছেন। তিনি বলেন, বাপ এমপির মনোনয়ন চান আবার তার ছেলে সিটি করপোরেশন চান-সবই যদি তাদের দেই, আমার দলের অন্যরা তো আছেন। এ সময় সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়া ব্যাক্তির হেলিকপ্টারে করে এলাকায় যাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয় বৈঠকে।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, একুশে আগস্টের হত্যাকারী তারেক রহমান, তাকে কী আমরা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই? আমাদের সুশীলরা তো মনে হচ্ছে সেটাই চায়। না, সেটা আমরা হতে দিব না। বাংলার মানুষ যতদিন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে যাবে এ রকম জঙ্গি ও খুনি দলের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এদের বিচার হতে থাকবে। তারেক রহমানকেও আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘২১ শে আগস্ট : বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই যে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিএনপির জোট করেছে, তারা নাম দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না- এই যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যাদের নামও আমি জানি না। তারা এখন বিএনপির সঙ্গে হাত মেলালো।

তিনি বলেন, আমার দুঃখ, বাংলাদেশকে যেটা থেকে আসলে রক্ষা করা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে এই যে জঙ্গি দল বিএনপি। তাদের হাত থেকে রক্ষা করায় এখন বাধা দিচ্ছে এই ঐক্যফ্রন্ট। জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে বাঁচিয়ে দেয়া এবং রিহ্যাবিলেট করা। এই সুশীলরা এখন ঐক্য করেছে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।

জয় বলেন, ২১ আগস্টের পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা তাকের রহমানকে গ্রেফতার করে সামরিক বাহিনী। কিন্তু কারা তাকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন-এই ঐক্যফ্রন্টেরই লোকজন। এই মইনুল হোসেনই তারেক রহমানকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তখন থেকে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বসে আসে। এই কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও মইনুল হোসেন সেই ১/১১ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে যড়যন্ত্রে যুক্ত। এটা আজকে প্রমাণিত হলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আওয়ামী লীগ খুনী না, সন্ত্রাসীর দল না- আওয়ামী লীগ হলো স্বাধীনতার দল।আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। বন্দুকের নালা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। তাই এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কোনো যায় আসে না।

জয় আরও বলেন, আমি জরিপ করে দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেই। বিএনপি-সুশীল-জামায়াত এক হয়েও এখন বাংলাদেশের কোনো শক্তি নাই আওয়ামী লীগকে ভোটে হারাতে পারে। তাই আমাদের আর কোনো ভয় নাই। আওয়ামী লীগের কোনো ভয় নাই। দেশ এগিয়ে এসেছে, দেশের মানুষ সুখে ও শান্তিতে আছে। আওয়ামী লীগ এখন কাউকেই ভয় পায় না। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ এই অবস্থানে এসেছে। আওয়ামী লীগকে সরানো এতো সহজ নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি আমাদের মতো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতো তাহলে কী আওয়ামী লীগের একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতো? একটা নেতাকর্মীও বেঁচে থাকতো না। আপনারা কী মনে করেন, এই সুশীলরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে। আমার চরিত্র যদি তারেক রহমানের হতো তাহলে কী আজকে বেগম জিয়া শুধু মাত্র জেলে থাকতো? না। এই কথা তাদের মনে রাখা উচিত। আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আমাদের চরিত্র তাদের মতো না। আমরা খুনি না, আমরা সন্ত্রাসী না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার দল।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সুশীলরা নিরপেক্ষতার কথা বলে। সন্ত্রাস, মানুষ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী কোনো নিরপেক্ষতা হতে পারে? তাহলে তারা নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝাতে চাইছে? যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়। তারা বলে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। কিসের থেকে রক্ষা করতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে, একুশে আগস্টের মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না, এখান থেকে রক্ষা করতে হবে?

তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়েছে, যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ছাড় হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে থাকব। নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চায়। যারা একটি ভোট পায় না তাদের আমরা ভয় পাই না। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না। আমরা পরোয়া করি না।

এমপির সঙ্গে তসলিমার ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করলেন মেয়ে !

এমপির সঙ্গে তসলিমার ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করলেন মেয়ে
ছবি সংগৃহীত

তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য। এজন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিতও হয়েছেন। আর অন্য একটি হল তার জীবনযাপন। জীবনে তিন বার বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের বাইরেও যে তার বিভিন্ন জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল- সে বিষয়টিও খোলাখুলি জানিয়েও দিয়েছেন।

এবার ভারতের বিজেপির এমপির সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসলো। আর বিষয়টি জানিয়েছেন তাদের মেয়ে দাবিকারী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য (!)। ভারতের অনলাইন পোর্টাল কলকাতা২৪x৭ এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভার এমপি জর্জ বেকার আসামের এক গ্রিক পরিবারে জন্ম নেয়। বেকার পেশায় অভিনেতা। অসমীয় ভাষার পাশাপাশি অনেক বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। যাত্রার মঞ্চ এবং টেলিভিশনেও তাকে দেখা গেছে। ২০১৪ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন জর্জ বেকার। লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে লড়াই করলেও জিততে পারেননি। তবে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়ে তিনি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হিসেবে লোকসভার সদস্য হয়েছেন।

এই জর্জ বেকারের সঙ্গেই নাকি সম্পর্ক ছিল তসলিমা নাসরিনের। এদের সন্তানই হচ্ছে বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেহালায় গৌরী ভট্টাচার্য নামের এক নারীর কাছে বড় হয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরী ভট্টাচার্য জর্জ বেকারের স্ত্রী অর্পিতার বোন। গৌরীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার এই পালিত কন্যা এই সম্পর্কে আগেই জানতেন বলে জানা যায়।

স্মৃতিচারণের সুবিধার্থে দিয়েছেন কয়েকটি ছবি। একই সঙ্গে তার জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য-প্রমাণ কোথায় রয়েছে তাও জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘আমি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। আমার স্বামীর নাম ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আমার বাবার নাম জর্জ বেকার। মায়ের নাম তসলিমা নাসরিন।’

ন্মের পরে বেশ কয়েক বছর জন্মদাতা বাবা-মা জর্জ বেকার এবং তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেই সময়ের বেশ কিছু ছবি গৌরীদেবী তাকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সেই ছোটবেলার স্মৃতি আবছা হলেও তার মন থেকে মুছে যায়নি বলেও জানিয়েছেন অঙ্কিতা। আরও অনেক ছবি এবং প্রমাণ গৌরীদেবীর দাদা রণজিতের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরীদেবীর জীবদ্দশায় ভাতারের বাসিন্দা ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে হয় অঙ্কিতার।

অঙ্কিতা ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছেন, নিজের প্রকৃত বাবা-মায়ের বিষয়ে জানার পরে জর্জ বেকারের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। নিরাশ হতে হয়নি তাকে।

অঙ্কিত বলছেন, ‘জর্জ বেকারের কাছে আমি পিতৃস্নেহ পেয়েছি।’ যদিও তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অঙ্কিতার অভিযোগ স্ত্রী অর্পিতার চাপেই কন্যা অঙ্কিতাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন জর্জ বেকার। বন্ধ করে দিয়েছেন সমস্ত যোগাযোগ।

বাবার সম্মানের কথা ভেবেই সমগ্র বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। তবে যাতে তিনি চুপ থাকেন তার জন্য অনেক হুমকিও এসেছে। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু ‘নিজের প্রাপ্য আদায়ের জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই আর চুপ থাকতে পারলাম না’ বলছেন অঙ্কিতা।

মা তথা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের যোগাযোগ হয়েছিল? এই বিষয়ে কিছু বলেননি অঙ্কিতা। নাগরিকত্ব না থাকলেও বর্তমানে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে রয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ওই শহরেই অবশ্য রয়েছে ভারতের সংসদ ভবন। দেশটি সংসদ সদস্যরাও ওই শহরেই থাকেন। এর পর প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শাবি ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শাবি ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল
ছবি সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তরিকুল ইসলামের ইয়াবা সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তরিকুলের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা, ইয়াবাসহ মাদকসেবন ও ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরিকুল ইসলামের ইয়াবা সেবনের একাধিক ছবি সংবলিত পোস্ট আসতে থাকে।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসব পোস্টে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। শাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ তার এক পোস্টে উল্লেখ করেন, আমরা যে সময় ক্যাম্পাস ছেড়েছি তখন এতটা বাজে অবস্থা রেখে আসিনি।

তরিকুল ফাওখোর, মাদকসেবন যে করবে তা ভাবতে পারিনি। এখন সে মাদকসেবনের পাশাপাশি ব্যবসাও করে। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক। পোস্টে তিনি তরিকুল ইসলামকে ইয়াবাসেবন ও ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

জানা যায়, তরিকুল খুলিয়াপাড়া, আখালিয়া এলাকার এলাহী ৯/এ নং বাসায় বসবাস করতেন। পরে সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে তিনি ওই বাসা ত্যাগ করেন। ওই বাসায় বসেই ইয়াবা সেবন করতেন বলে তরিকুলের একাধিক সহকর্মী নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন অনুসারী হয়ে যেখানে অন্য নেতারা নিজে চলতে পারেন না সেখানে তরিকুল সিলেট শহরে ফ্ল্যাট নিয়ে বসবাস করতেন, দামি দামি মোটর বাইক চালাতেন।

অনেক আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছিল না। এমনকি হলসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ইয়াবা সরবরাহ করত তরিকুল।

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা : ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান ও ছাত্রলীগ কর্মী শামীম বিশ্বাস ২০১৩ সালের শেষের দিকে ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে অংশ নেয়া খলিল ও শামীমের ছবি ও খবর একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও তরিকুলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগে পদ পায় ও রাজনীতি করে। এমনকি বর্তমানে খলিলুর রহমান ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংগুলোতে প্রথম সারিতে অবস্থান করেন।

অভিযুক্ত শাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি তরিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ছবিটি দুই বছর আগের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ দুষ্টমি করে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ আকন্দের সঙ্গে কথা বললে তিনি যুগান্তরকে জানান, আমি ছবি তুলতে যাব কেন? আমি তো ইয়াবা সেবন করি না। আর এটা দুই বছর আগের নয়, সাম্প্রতিক ছবি। সে যাদের সঙ্গে ইয়াবা সেবন করে তারাই এটা সরবরাহ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসায় জিরো টলারেন্স দেখাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

কিছু সংসদ সদস্যের নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তারা মনোনয়ন পাবে না

কিছু সংসদ সদস্যের নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তারা মনোনয়ন পাবে না
ছবি সংগৃহীত

বর্তমান সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার আমলনামাই আমার হাতে এসেছে। সবার আমলনামা যাচাই-বাছাই করছি, গত কয়েকদিন ধরে ৫০ জন বর্তমান সংসদ সদস্যদের রিপোর্ট দেখেছি, আজ আরও ২০ জনের দেখলাম। অনেকের অবস্থা ভালো না। এদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন না, বাদ পড়বেন।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় দলের যৌথ সভায় তিনি এব কথা বলেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথী মনোনয়নের জন্য দলের বর্তমান সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ডের ওপর বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে ।এসব রিপোর্ট এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে জমা পড়েছে। ওইসব রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই্। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আসন্ন নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। আসন্ন নির্বাচনে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে আজীবনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।অতীতে অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। পরে নানা কারণে তাদের নমনীয় দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। কিন্তু এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সারাজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দলে তারা স্থান পাবে না।

যাদের জনপ্রিয়তা আছে তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যে মনোনয়ন পাবে না তাকেও যে মনোনয়ন পাবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কারণ দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী হতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ