28 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
Home Blog

ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন শেখ হাসিনা

ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মত দিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ না করার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, তিনি সংলাপ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আমার দরজা সবার জন্য খোলা। কোনো চাপে নয়, আমি তাদের কাছে শুনতে চাই তাঁরা কি চায়।’ আজ দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় এভাবেই পাল্টে গেল আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে তিনি সংলাপ করবেন, দিন তারিখ ঠিক করে তাঁদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) জানাতে। প্রধানমন্ত্রীর এই কৌশলে ধরাশায়ী হলো ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিকেলে যখন সংলাপে সম্মতির ঘোষণা দিলেন, তখন বিব্রত এবং অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ. স. ম. আবদুর রব বললেন, ‘সত্যি বলতে কি আমরা চিন্তাও করিনি এত দ্রুত এবং সহজে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সংলাপে রাজি হবেন।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বললেন, ‘শেখ হাসিনা যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন, তা আরেকবার প্রমাণ করলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা আলোচনার টেবিলে আমরা সংকট সমাধানের একটা পথ খুঁজে পাবো।’

গতকাল রোববার রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন ড. কামাল হোসেন । আর দলের সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেন গণফোরামের নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। রাতেই  আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা সংলাপের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, শুধু মন্ত্রীদের নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় শেখ হাসিনা সংলাপে যেতে রাজি হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা  ড. কামাল হোসেনের কৌশলকে টেক্কা দিলেন। এরফলে সংলাপ ফেলে চটজলদি ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন জনসমর্থন পাবে না। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশকে তিনি উত্তপ্ত হতে দিলেন না। আন্তর্জাতিকভাবেও এর ফলে সরকারের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতা প্রমাণিত হলো। এরপর যদি সংলাপ ব্যর্থও হয় তবুও একতরফা নির্বাচনের জন্য কেউ সরকারকে দায়ী করতে পারবে না। স্পষ্টত: শেখ হাসিনা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের ঘাড় থেকে নামিয়ে বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দিলেন।

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে বৈঠকে সংলাপের চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই বৈঠকে নেতারা বলেছিলেন, সরকার কিছুতেই রাজি হবে না। ঐ বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, সরকার সংলাপ টংলাপ করবে না। ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, আমরা চিঠি দিলে তো সরকার নাকচ করবে। আমরা এটাই চাই। এর ফলে আমরা সবাইকে বলতে পারব সরকার সংলাপ চায় না। এর ফলে আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া সহজ হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না- এজন্যই সংলাপ চায় না, এটা প্রমাণ করতেই ড. কামাল চিঠি দিয়েছিলেন।

কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের কৌশল বুমেরাং হলো তাঁদের জন্যই। বেগম খালেদা জিয়া জেলে, বিএনপির অনেক নেতা গ্রেপ্তার এবং পলাতক। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নেতা কর্মীদের ভুল বার্তা দেবে বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ইতিমধ্যেই সংলাপের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।

তিনি বলেছেন ‘সরকার তো বলেই দিয়েছে সাত দফার একটি দাবিও মানবে না। তারপরও সংলাপে যাব কী করতে? নাস্তা খেতে?’ তিনি মনে করেন, ‘এর আগের বারও, শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে টেলিফোন সংলাপে ডেকে সবাইকে দেখিয়েছেন। ঐ টেলিফোন দিয়েই তিনি একতরফা নির্বাচন সেরে নিয়েছেন। এবারও হয়তো তাই করবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ এর নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করেছিলেন। ওই সংলাপের জন্য বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানালে তা বেগম জিয়া প্রত্যাখ্যান করেন।

এবার সংলাপে শেখ হাসিনা কী চমক দেখাবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

বাপ এমপির মনোনয়ন চান আর ছেলে চান সিটি করপোরেশন

বাপ এমপির মনোনয়ন চান আর ছেলে চান সিটি করপোরেশন
ছবি সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের কার্য নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ছেলে সিটি কর্পোরেশনের মনোনয়ন চায়; বাপ এমপি মনোনয়ন চায়; আওয়ামী লীগে কি আর লোক নেই।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি একথা বলেন। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা।

এমনকি যাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী একথা বলেছেন, মাসখানেক আগে ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়েও আওয়ামী লীগের শীর্ষ আরেক নেতারও তোপের মুখে পরেছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে নৌকার ভোট বাড়াতে তৃণমূলে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের মন জয় করে ভোট বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমি কাউকে খাওয়ায়ে দেবো না, সমস্ত জরিপ হচ্ছে, সকলের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। জনপ্রিয়তার বিচারে যে এগিয়ে থাকবেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা নতুন সদস্য সংগ্রহের সময় কোনভাবেই যেন অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সবার সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আদর্শ পরিপন্থী অনুপ্রবেশকারীরা স্বার্থ হাসিলসহ বিভিন্ন মতলব নিয়ে দলে প্রবেশ করে। স্বার্থ হাসিল শেষে তারা চলে যায়, দলের দুর্নাম করে। তাই অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি যারা অনুপ্রবেশ করাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠোবোধ করবে না আওয়ামী লীগ। বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা আগামী নির্বাচনে সারাদেশে দলের অবস্থান এবং সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন।

কেন্দ্রীয় এক নেতা  বলেন, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্যের ছেলে যিনি সিটি করপোরেশনে ঝামেলা করছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দলের ক্ষতি করছেন। তিনি বলেন, বাপ এমপির মনোনয়ন চান আবার তার ছেলে সিটি করপোরেশন চান-সবই যদি তাদের দেই, আমার দলের অন্যরা তো আছেন। এ সময় সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়া ব্যাক্তির হেলিকপ্টারে করে এলাকায় যাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয় বৈঠকে।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, একুশে আগস্টের হত্যাকারী তারেক রহমান, তাকে কী আমরা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই? আমাদের সুশীলরা তো মনে হচ্ছে সেটাই চায়। না, সেটা আমরা হতে দিব না। বাংলার মানুষ যতদিন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে যাবে এ রকম জঙ্গি ও খুনি দলের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এদের বিচার হতে থাকবে। তারেক রহমানকেও আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘২১ শে আগস্ট : বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই যে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিএনপির জোট করেছে, তারা নাম দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না- এই যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যাদের নামও আমি জানি না। তারা এখন বিএনপির সঙ্গে হাত মেলালো।

তিনি বলেন, আমার দুঃখ, বাংলাদেশকে যেটা থেকে আসলে রক্ষা করা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে এই যে জঙ্গি দল বিএনপি। তাদের হাত থেকে রক্ষা করায় এখন বাধা দিচ্ছে এই ঐক্যফ্রন্ট। জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে বাঁচিয়ে দেয়া এবং রিহ্যাবিলেট করা। এই সুশীলরা এখন ঐক্য করেছে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।

জয় বলেন, ২১ আগস্টের পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা তাকের রহমানকে গ্রেফতার করে সামরিক বাহিনী। কিন্তু কারা তাকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন-এই ঐক্যফ্রন্টেরই লোকজন। এই মইনুল হোসেনই তারেক রহমানকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তখন থেকে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বসে আসে। এই কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও মইনুল হোসেন সেই ১/১১ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে যড়যন্ত্রে যুক্ত। এটা আজকে প্রমাণিত হলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আওয়ামী লীগ খুনী না, সন্ত্রাসীর দল না- আওয়ামী লীগ হলো স্বাধীনতার দল।আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। বন্দুকের নালা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। তাই এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কোনো যায় আসে না।

জয় আরও বলেন, আমি জরিপ করে দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেই। বিএনপি-সুশীল-জামায়াত এক হয়েও এখন বাংলাদেশের কোনো শক্তি নাই আওয়ামী লীগকে ভোটে হারাতে পারে। তাই আমাদের আর কোনো ভয় নাই। আওয়ামী লীগের কোনো ভয় নাই। দেশ এগিয়ে এসেছে, দেশের মানুষ সুখে ও শান্তিতে আছে। আওয়ামী লীগ এখন কাউকেই ভয় পায় না। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ এই অবস্থানে এসেছে। আওয়ামী লীগকে সরানো এতো সহজ নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি আমাদের মতো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতো তাহলে কী আওয়ামী লীগের একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতো? একটা নেতাকর্মীও বেঁচে থাকতো না। আপনারা কী মনে করেন, এই সুশীলরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে। আমার চরিত্র যদি তারেক রহমানের হতো তাহলে কী আজকে বেগম জিয়া শুধু মাত্র জেলে থাকতো? না। এই কথা তাদের মনে রাখা উচিত। আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আমাদের চরিত্র তাদের মতো না। আমরা খুনি না, আমরা সন্ত্রাসী না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার দল।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সুশীলরা নিরপেক্ষতার কথা বলে। সন্ত্রাস, মানুষ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী কোনো নিরপেক্ষতা হতে পারে? তাহলে তারা নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝাতে চাইছে? যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়। তারা বলে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। কিসের থেকে রক্ষা করতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে, একুশে আগস্টের মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না, এখান থেকে রক্ষা করতে হবে?

তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়েছে, যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ছাড় হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে থাকব। নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চায়। যারা একটি ভোট পায় না তাদের আমরা ভয় পাই না। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না। আমরা পরোয়া করি না।

এমপির সঙ্গে তসলিমার ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করলেন মেয়ে !

এমপির সঙ্গে তসলিমার ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করলেন মেয়ে
ছবি সংগৃহীত

তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য। এজন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিতও হয়েছেন। আর অন্য একটি হল তার জীবনযাপন। জীবনে তিন বার বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের বাইরেও যে তার বিভিন্ন জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল- সে বিষয়টিও খোলাখুলি জানিয়েও দিয়েছেন।

এবার ভারতের বিজেপির এমপির সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসলো। আর বিষয়টি জানিয়েছেন তাদের মেয়ে দাবিকারী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য (!)। ভারতের অনলাইন পোর্টাল কলকাতা২৪x৭ এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভার এমপি জর্জ বেকার আসামের এক গ্রিক পরিবারে জন্ম নেয়। বেকার পেশায় অভিনেতা। অসমীয় ভাষার পাশাপাশি অনেক বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। যাত্রার মঞ্চ এবং টেলিভিশনেও তাকে দেখা গেছে। ২০১৪ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন জর্জ বেকার। লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে লড়াই করলেও জিততে পারেননি। তবে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়ে তিনি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হিসেবে লোকসভার সদস্য হয়েছেন।

এই জর্জ বেকারের সঙ্গেই নাকি সম্পর্ক ছিল তসলিমা নাসরিনের। এদের সন্তানই হচ্ছে বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেহালায় গৌরী ভট্টাচার্য নামের এক নারীর কাছে বড় হয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরী ভট্টাচার্য জর্জ বেকারের স্ত্রী অর্পিতার বোন। গৌরীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার এই পালিত কন্যা এই সম্পর্কে আগেই জানতেন বলে জানা যায়।

স্মৃতিচারণের সুবিধার্থে দিয়েছেন কয়েকটি ছবি। একই সঙ্গে তার জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য-প্রমাণ কোথায় রয়েছে তাও জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘আমি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। আমার স্বামীর নাম ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আমার বাবার নাম জর্জ বেকার। মায়ের নাম তসলিমা নাসরিন।’

ন্মের পরে বেশ কয়েক বছর জন্মদাতা বাবা-মা জর্জ বেকার এবং তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেই সময়ের বেশ কিছু ছবি গৌরীদেবী তাকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সেই ছোটবেলার স্মৃতি আবছা হলেও তার মন থেকে মুছে যায়নি বলেও জানিয়েছেন অঙ্কিতা। আরও অনেক ছবি এবং প্রমাণ গৌরীদেবীর দাদা রণজিতের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরীদেবীর জীবদ্দশায় ভাতারের বাসিন্দা ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে হয় অঙ্কিতার।

অঙ্কিতা ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছেন, নিজের প্রকৃত বাবা-মায়ের বিষয়ে জানার পরে জর্জ বেকারের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। নিরাশ হতে হয়নি তাকে।

অঙ্কিত বলছেন, ‘জর্জ বেকারের কাছে আমি পিতৃস্নেহ পেয়েছি।’ যদিও তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অঙ্কিতার অভিযোগ স্ত্রী অর্পিতার চাপেই কন্যা অঙ্কিতাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন জর্জ বেকার। বন্ধ করে দিয়েছেন সমস্ত যোগাযোগ।

বাবার সম্মানের কথা ভেবেই সমগ্র বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। তবে যাতে তিনি চুপ থাকেন তার জন্য অনেক হুমকিও এসেছে। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু ‘নিজের প্রাপ্য আদায়ের জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই আর চুপ থাকতে পারলাম না’ বলছেন অঙ্কিতা।

মা তথা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের যোগাযোগ হয়েছিল? এই বিষয়ে কিছু বলেননি অঙ্কিতা। নাগরিকত্ব না থাকলেও বর্তমানে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে রয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ওই শহরেই অবশ্য রয়েছে ভারতের সংসদ ভবন। দেশটি সংসদ সদস্যরাও ওই শহরেই থাকেন। এর পর প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শাবি ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া শাবি ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল
ছবি সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তরিকুল ইসলামের ইয়াবা সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তরিকুলের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা, ইয়াবাসহ মাদকসেবন ও ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরিকুল ইসলামের ইয়াবা সেবনের একাধিক ছবি সংবলিত পোস্ট আসতে থাকে।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসব পোস্টে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। শাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ তার এক পোস্টে উল্লেখ করেন, আমরা যে সময় ক্যাম্পাস ছেড়েছি তখন এতটা বাজে অবস্থা রেখে আসিনি।

তরিকুল ফাওখোর, মাদকসেবন যে করবে তা ভাবতে পারিনি। এখন সে মাদকসেবনের পাশাপাশি ব্যবসাও করে। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক। পোস্টে তিনি তরিকুল ইসলামকে ইয়াবাসেবন ও ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

জানা যায়, তরিকুল খুলিয়াপাড়া, আখালিয়া এলাকার এলাহী ৯/এ নং বাসায় বসবাস করতেন। পরে সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে তিনি ওই বাসা ত্যাগ করেন। ওই বাসায় বসেই ইয়াবা সেবন করতেন বলে তরিকুলের একাধিক সহকর্মী নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন অনুসারী হয়ে যেখানে অন্য নেতারা নিজে চলতে পারেন না সেখানে তরিকুল সিলেট শহরে ফ্ল্যাট নিয়ে বসবাস করতেন, দামি দামি মোটর বাইক চালাতেন।

অনেক আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছিল না। এমনকি হলসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ইয়াবা সরবরাহ করত তরিকুল।

ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতা : ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান ও ছাত্রলীগ কর্মী শামীম বিশ্বাস ২০১৩ সালের শেষের দিকে ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে অংশ নেয়া খলিল ও শামীমের ছবি ও খবর একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও তরিকুলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগে পদ পায় ও রাজনীতি করে। এমনকি বর্তমানে খলিলুর রহমান ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংগুলোতে প্রথম সারিতে অবস্থান করেন।

অভিযুক্ত শাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি তরিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ছবিটি দুই বছর আগের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ দুষ্টমি করে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ আকন্দের সঙ্গে কথা বললে তিনি যুগান্তরকে জানান, আমি ছবি তুলতে যাব কেন? আমি তো ইয়াবা সেবন করি না। আর এটা দুই বছর আগের নয়, সাম্প্রতিক ছবি। সে যাদের সঙ্গে ইয়াবা সেবন করে তারাই এটা সরবরাহ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসায় জিরো টলারেন্স দেখাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

কিছু সংসদ সদস্যের নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তারা মনোনয়ন পাবে না

কিছু সংসদ সদস্যের নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তারা মনোনয়ন পাবে না
ছবি সংগৃহীত

বর্তমান সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার আমলনামাই আমার হাতে এসেছে। সবার আমলনামা যাচাই-বাছাই করছি, গত কয়েকদিন ধরে ৫০ জন বর্তমান সংসদ সদস্যদের রিপোর্ট দেখেছি, আজ আরও ২০ জনের দেখলাম। অনেকের অবস্থা ভালো না। এদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন না, বাদ পড়বেন।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় দলের যৌথ সভায় তিনি এব কথা বলেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথী মনোনয়নের জন্য দলের বর্তমান সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ডের ওপর বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে ।এসব রিপোর্ট এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে জমা পড়েছে। ওইসব রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই্। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি আসন্ন নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। আসন্ন নির্বাচনে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে আজীবনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।অতীতে অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। পরে নানা কারণে তাদের নমনীয় দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। কিন্তু এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সারাজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দলে তারা স্থান পাবে না।

যাদের জনপ্রিয়তা আছে তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যে মনোনয়ন পাবে না তাকেও যে মনোনয়ন পাবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কারণ দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী হতে হবে।

মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আজীবন বহিষ্কার

মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আজীবন বহিষ্কার
ছবি সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। অতীতের মতো এবার আর ছাড় দেবে না দলটি। বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের (পার্লামেন্টারি পার্টি) সদস্যরা যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া নির্বাচন ইস্যুতে আরও ১৫টি সাব কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের জন্য গঠিত ৩৩ সদস্যের প্রধান কমিটি ওই সাব কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ড তদারকি করবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, অতীতে অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। পরে নানা কারণে তাদের নমনীয় দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। কিন্তু এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সারাজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দলে তারা স্থান পাবে না।

যাদের জনপ্রিয়তা আছে তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যে মনোনয়ন পাবে না তাকেও দলের পক্ষে কাজ করতে হবে। কারণ দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী হতে হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত

ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত
ছবি সংগৃহীত

নির্বাচন পেছানো নিয়ে যে উদ্যোগ মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিকরা গ্রহণ করেছে, ভারত তা নাকচ করে দিয়েছে। বরং ভারত মনে করছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন হোক, এটাই ভারতের আকাঙ্খা। সম্প্রতি উপ সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস জি ওয়েলস বাংলাদেশ সফর করে বিভিন্ন মহলের কাছে সংবিধানের ১২৩ এর (খ) ধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন মার্চ-এপ্রিলে করার ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবটি লুফে নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ সরকারের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

তবে সরকার বলেছে, সেভাবে নির্বাচনে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলেই কেবল সংবিধানের ১২৩ এর ‘খ’ ধারা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সংসদের মেয়াদ অবসান হলে তখন ১২৩ এর ‘খ’ কোন ভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ১২৩ এর ‘খ’ হলো আনপ্রিসিডেন্টেড একটা ব্যাপার। দেশে অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় বা কোন কারণে যদি সংসদ নেতা মনে করেন, তিনি সংসদ ভেঙ্গে দেবেন বা এমন কোন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় যে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে বা যদি সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, সে রকম অবশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ১২৩ এর ‘খ’ ধারা প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান সংসদ অন্য কোন কারণে ভেঙ্গে যাচ্ছে না বরং সংসদের স্বাভাবিক মেয়াদের অবসান ঘটছে। কাজেই মেয়াদ অবসানের ৯০ দিন পূর্বে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে।

মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গত সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তাবনা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও এই নিয়ে অনেক আলাপ আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়নও চাইছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা ন্যূনতম সমঝোতা। ঐক্যমত সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন যেন গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যে পিছিয়ে দেয়া হয়।

তাঁরা মনে করছে, এখন যদি নির্বাচন তফসীল ঘোষণা করা হয়, তাহলে আলাপ-আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। আবার বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের পথে হাটতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছে। এমনকি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এমন তথ্যও পেয়েছে, এক তরফা নির্বাচন হলে এবার জাতীয় পার্টিও নির্বাচন বর্জন করতে পারে। একতরফা নির্বাচন হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকারও লঙ্ঘিত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছে।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন করবে এবং নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ীই হবে। তিনি বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমরা যতোদূর জানি, নির্বাচন কমিশন নির্বাচেনের তফসীল ঘোষণার জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত। এটা নিয়ে যারা বিতর্ক করছে, তাঁরা নির্বাচন বানচালের সহযোগিতা করছে এবং দেশে সাংবিধানিক সংকটের চক্রান্ত করছে বলে তিনি মনে করেন।

আওয়ামী লীগের এই অবস্থানের সঙ্গে ভারতও সমমত পোষণ করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। কারণ ভারত মনে করছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভারতের লোকসভার নির্বাচন আগামী বছর এপ্রিলে হওয়ার কথা। কাজেই, ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতের রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল শক্তিগুলো ভারতের নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। এজন্য তাঁরা সে সময় বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে নজড় দিতে পারবে না ও বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাতেও পারবে না। এজন্য ভারত চাইছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। ডিসেম্বরেই নির্বাচনের জন্য ভারত বিএনপি, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট সংলগ্ন দলগুলোকে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন রকম কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালেও ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালেও ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ
ছবি সংগৃহীত

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় দল (পার্লামেন্টারি পার্টি) এর যৌথসভায় এ আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ইনশাল্লাহ ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারবো। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে। আমরা না থাকলে কেউ ভালোভাবে পালন করবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের সাথে আছে। জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস আছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যে উন্নয়নের ছোঁয়া সকলের জীবনে উন্নতি এনেছে, নিশ্চয়ই সকলে তা উপলব্ধি করবেন। আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেবেন, আওয়ামী লীগকে জয়ী করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আমরা পালন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করবো।

তিনি বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা যখন স্বাধীনতার ২৫ বছর পালন করি তখনও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিলো।

বিকল্প ধারায় যোগ দিলেন শমসের মবিন চৌধুরী

বিকল্প ধারায় যোগ দিলেন শমসের মবিন চৌধুরী
ছবি সংগৃহীত

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাড্ডায় এক অনুষ্ঠানে বি.চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন তিনি।

এছাড়াও সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন ও নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বিকল্প ধারায় যোগ দেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালে ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন গোলাম সারোয়ার মিলন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, এরশাদ সরকারে প্রতিমন্ত্রী হন তিনি।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মিলন অনেক দিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর জরুরি অবস্থার সময় ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর গড়া পিডিপিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। পরে আবার রাজনীতির অঙ্গনে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান তিনি। নাজিম উদ্দিন আল আজাদ চারদলীয় জোট সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি ছাড়ার পর এতদিন নাজমুল হুদার সঙ্গে ছিলেন তিনি।

এদিন এর আগে বিকল্পধারার অঙ্গ সংগঠন বিকল্প যুবধারার বিশেষ কাউন্সিলে যোগ দেন তারা। পরে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী তাদের অামন্ত্রণ জানিয়ে মঞ্চে নিয়ে আসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সদ্য ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা বাংলাদেশ নাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা এবং শুক্রবার ২০ দল ছেড়ে অাসা লেবার পার্টির একাংশের মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদী।

অনুষ্ঠানে হামদুল্লাহ মেহেদীর বিএনপি জোট ছেড়ে অাসার বিষয়টি উল্লেখ করে মাহী বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ২০ দলীয় জোট ছেড়ে এসেছেন লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদী। যারা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের আহ্বান জানাই বিকল্প ধারার পতাকাতলে।

সর্বশেষ সংবাদ