বড়াইগ্রামে সুনীল গমেজ হত্যা: সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেয়া তথ্যে পরিবারের সদস্যরা ও খ্রিষ্টান নেতৃবৃন্দ ক্ষুদ্ধ

106
bdtruenews24.com

অমর ডি কস্তা, বড়াইগ্রাম (নাটোর) থেকে: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া খ্রিষ্টান মিশন পাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুনীল গমেজ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাই এর বরাত দিয়ে বুধবারের দৈনিক প্রথম আলো ও একটি টিভি চ্যানেল যে তথ্য প্রকাশ করেছেন তাতে ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় খ্রিষ্টান নেতৃবৃন্দ। সংবাদে বলা হয়েছে ওই কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজন আটক ট্রাক ড্রাইভার সবুজ আলীর স্ত্রী ও নিহত সুনীলের স্ত্রী পরস্পরের আত্মীয়। ধর্মান্তরিত হওয়া নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিলো।

ওই সংবাদের প্রতিবাদে বুধবার বিকাল ৪টায় বনপাড়া গীর্জার হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বনপাড়া খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী জাসিন্তা রিবেরু ও মামলার বাদি একমাত্র মেয়ে স্বপ্না জানান, এ ধরণের তথ্য আদালতকে দেয়া মানেই হত্যার ঘটনাটিকে অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা। সবুজ আলী ও তার পরিবার তাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। বনপাড়া পৌর শহরের স্থায়ী খ্রিষ্টান পরিবারের সংখ্যাই বেশী। যার ফলে এখানে বাইরের জেলা ও উপজেলার অনেক লোকজন ভাড়ায় বসবাস করছে। সবুজ আলী মুসলিম সম্প্রদায়ের এবং তাদের কোন আতœীয় স্বজন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নাই। সুতরাং তাদের সাথে আতœীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এই তথ্য ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

নিহতের ভাই ফাদার (পাল-পুরোহিত) প্রশান্ত গমেজ জানান, এই ধরণের তথ্য প্রকাশ নিহতের পরিবারকে আরও আঘাত করেছে। এটার পেছনে নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। এই উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখারও দরকার রয়েছে। বনপাড়া খ্রিষ্টান ধর্মপল্লীর সহ-সভাপতি বেনেডিক্ট গমেজ জানান, এই তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে ওই কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন, এই ধরণের কথা তিনি আদালতে বলেননি।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হলে এই ধরণের ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে দেশের মানুষকে বিব্রত করতে পারতো না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাইকে মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এই ধরণের তথ্য তিনি সাংবাদিকদের দেননি। তিনি আরও জানান, সংবাদটি সংশোধন করে পুনরায় পত্রিকা বা অন্যান্য মিডিয়াতে প্রচারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করেছেন।

বনপাড়া খ্রীষ্টান ধর্ম পল্লীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফাদার বিকাশ রিবেরু বলেন, আমরা সত্যিই আস্থা খুঁজে পাচ্ছি না যে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হবে। গত জানুয়ারী মাসে বনপাড়ার প্রবীণ দম্পত্তি শিক্ষক গাব্রিয়েল কস্তা ও তার স্ত্রী বীণা পিরিচ কে সন্ধ্যার পর তার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। অত্যান্ত নম্র ও শান্তিপ্রিয় ওই দম্পত্তির এই হামলার ঘটনায় দীর্ঘ ৫ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে পারেনি। মনে হচ্ছে পুলিশ ওই মামলার তদন্তকাজে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। একই বিষয় হয়তো সুনীল হত্যা মামলার বেলাতেও ঘটবে। তাই শঙ্কিত এই অঞ্চলের খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠি। পাশাপাশি আতঙ্কিত ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে সকলে। এই অবস্থার পরিত্রাণ ঘটাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের আন্তরিকতা এবং পাশাপাশি প্রভাবমুক্ত তৎপরতা কামনা করেছেন তিনি।

গত রবিবার সুনিল গমেজ (৬৫) কে তার বাড়ি সংলগ্ন নিজ দোকানের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ সুনীলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাক ড্রাইভার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সবুজ আলীকে গ্রেফতার করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে বুধবার দুপুরে রাজশাহী রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি মো. মাসুদুর রহমান ভুঁইয়া ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল মুখার্জি, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: