সুনীল গোমেজ হত্যা: বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ

85
bdtruenews24.com

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া খ্রিষ্টান ধর্মপল্লীর সুনীল গোমেজের হত্যাকারীদের সাত দিনেও পুলিশ গ্রেফতার না করায় ও মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন খ্রিষ্টান ধর্মপল্লী থেকে আগত ৬ সহস্রাধিক খ্রিষ্টান জনগণ। পরে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিনকে প্রদান করেন খ্রিষ্টান নেতৃবৃন্দরা। পাশাপাশি সকল গীর্জা ও খ্রিষ্টান ধর্মপল্লীর বাড়িতে আগামী সাত দিন কালো পতাকা উত্তোলন করার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। ৫ জুন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজকে (৬৫) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করার পর ওই দিনই বিকেলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে খুনীদের গ্রেফতার করতে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয় বনপাড়া খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন।

সকাল সাড়ে ১০টায় বনপাড়া কেন্দ্রিয় গির্জা প্রাঙ্গন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে তা নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাইপাস মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে ওই মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয় ও পাশাপাশি নাটোর-ঢাকা ও নাটোর-পাবনা মহাসড়ক ১ ঘন্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এসময় মোড়ের তিনপাশের সড়কে ৭ শতাধিক যান-বাহন আটকা পড়ে।

বনপাড়া ধর্মপল্লীর সহ-সভাপতি বেনেডিক্ট গোমেজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নাটোর শাখার সভাপতি চিত্ত রঞ্জন সাহা, বড়াইগ্রাম শাখার সভাপতি ধীরেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার বিকাশ হিউবার্ট রিবেরু, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মিলন আই গোমেজ, ঢাকা খ্রিষ্টান ক্রেডিট ইউনিয়নের সাবেক সেক্রেটারী দীপক পিরিছ, বনপাড়া খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি বাবলু রেনেতোষ কোড়াইয়া, যুগ্ম সম্পাদক পদ্মিনী কস্তা ও বনপাড়া, জোনাইল, শ্রীখন্ডি, বোর্ণি, রাজাপুর, পাবনা জেলার চাটমোহর মথুরাপুর, ফৈলজনা খ্রিষ্টান ধর্মপল্লী থেকে আগত বিভিন্ন খ্রিষ্টান নেৃতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু নয় সুনীল গোমেজ বাংলাদেশের একজন অতি নিরীহ ও সাধারণ মানুষ। তাকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা সহ দেশে চলমান গুপ্ত হত্যার প্রতিবাদে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে সরকারকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি প্রভাবমুক্ত ও কারও আজ্ঞাবহ না থেকে নিরপেক্ষভাবে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও জানান, সুনীল হত্যার পর সাত দিনের আলটিমেটাম দিলেও মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। পুলিশ হত্যাকারী কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। সুনীল হত্যার বিচার দাবি করে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সমাজ আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে এই হত্যার আসল রহস্য ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

এ্যালবাম:

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...