সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা নিয়ে ফের মিথ্যাচার করল বিএসএফ মহাপরিচালক

38
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তরক্ষী সংস্থাগুলোর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। তাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক কে কে শর্মা দাবি করেছেন, ‘আনন্দের কথা, চলতি বছরে সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।’

এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো তাদের “বিএসএফ প্রধানের দাবি: এ বছর সীমান্তে একজনেরও মৃত্যু হয়নি” শিরোনামের সংবাদ প্রতিবেদনে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট–

প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

বিএসএফ মহাপরিচালক এবারই প্রথম নয়, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ঢাকায় একই পর্যায়ের বৈঠকেও একই দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে ডেইলি স্টারের বাংলা ভার্সনের এই সংবাদটি পড়তে পারেন- “চলতি বছরে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি হত্যার খবর নেই: বিএসএফ মহাপরিচালক”

অবশ্য ডেইলি স্টার তাদের ওই প্রতিবেদনেই মানবাধিকার সংস্থার বরাতে জানিয়েছিলো বিএসএফ মহাপরিচালকের দেয়া তথ্য সঠিক নয়। পত্রিকাটি থেকে উদ্ধৃত দিচ্ছি–

“এদিকে, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, চলতি বছরে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে তিনজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, তিনজনকে অপহরণ করা হয়েছে।”

বিএসএফ মহাপরিচালকের আজকের দাবির প্রেক্ষিতে প্রথম আলো তাদের রিপোর্টে বাংলাদেশের দুটি মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে লিখেছে–

“অবশ্য বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকারের তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।”

তবে অধিকারের ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চলতি বছরের আট মাসের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪ জন। জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ১ এবং জুলাই মাসে ১ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট দেখুন–

অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট
অধিকারের রিপোর্টের স্ক্রিনশট

তবে  অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে নিহতের এ সংখ্যা আরও বেশি বলে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

#৫ জানুয়ারি দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিবেদন– ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত

#১১ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

#২৮ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে বাংলাদেশি কিশোর নিহত

#৬ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইনাডু বাংলা’ এর বরাতে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন– বিএসএফের গুলিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

#২১ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন– ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন
সংবাদপত্রে প্রতিবেদন

উপরের সবগুলো সংবাদ প্রতিবেদনগুলো মতে, চলতি বছর বিএসএফের গুলিতে অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

জুলাই মাসের ৬ তারিখ ৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। যুগান্তরকে রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শামীম আল মাসুদ ইফতেখার বলেছিলেন, “খোঁজ নিয়ে রাজশাহী বিজিবি জানতে পেরেছে নিহতরা সম্ভবত ভারতেরই নাগরিক। এর পরও তারা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা সেটির সত্যতা যাচাইয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্তের ওই এলাকায় সম্ভাব্য সব উপায়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।”

পরে এ নিয়ে আর কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায় না। ফলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ৩ জন নিহতের কথা উল্লেখ করেছে। অধিকার-এর রিপোর্টে ফেব্রুয়ারি মাসে একজনের নিহত হওয়ার যে তথ্য দেয়া হয়েছে সেটি অনলাইনে  তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে খোঁজে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন হয়নি।

বিএসএফের হাতে চলতি বছর নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৩, ৪ বা ৭ জন- যা-ই হোক না কেন এটা স্পষ্ট যে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার দাবি পুরোপুরি অসত্য। (নিহতের বাইরে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এমনকি বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি স্কুলছাত্রের চোখ অন্ধ হওয়ার ঘটনাও আছে।)

শেয়ার করুন :
  • 5
    Shares
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...