সাধ্বী প্রাচীর ভারতকে মুসলিমমুক্ত করার ডাক | সুষুপ্ত পাঠক

795
bdtruenews24.com

ভারতের একজন উগ্র হিন্দত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচী ভারতকে মুসলিমমুক্ত করার ডাক দিয়ে সমগ্র ভারতের অমুসলিম সম্প্রদায়ের কোপানলে পড়েছেন। খোদ বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই মতামত ঐ নেত্রীর, বিজেপি এর সঙ্গে একমত নয়।

বিজেপি একটি হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন। আমরা অনেকেই ভারতের বিজেপিকে জামাতে ইসলামী বা অন্যান্য ইসলামী মৌলবাদী দলের সঙ্গে সমতালে মিলাই। কিন্তু বিজেপিতে মুসলিম নেতা-কর্মী দুর্লভ নয়। জামাতে ইসলামী কিংবা ইসলামী খেলাফত বা ঐক্যজোটে কোন হিন্দুকে নেতা বানাবে? বিজেপি হিন্দুত্ববাদ চায়, কিন্তু সাধ্বী প্রাচীর এই বক্তব্যে দল দায় না নিয়ে এড়িয়ে গেছে। এতে পরিষ্কার হয় ভারতে আধুনিক ও প্রগতিশীল মানুষের শক্তিশালী অবস্থান। অভিনেতা অনুপম খের বিজেপির সমর্থক, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সাধ্বীকে জেলে ঢুকাতে বলেছেন। জম্মু-কাশ্মিরের শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার সাধ্বীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করে বলেন, ‘মুসলিমরা ভারতে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করছেন।’ গোটা ভারতে অমুসলিম নেতা, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, অভিনেতা, সেলিব্রেটি সাধ্বীর এই বক্তব্যকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছেন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রাহুল এসাওয়ার সাধ্বীর বিরুদ্ধে এফআরআই দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই হিন্দু মনোভাবাপন্ন। কিন্তু আমি কোনও দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নই। তারপরও আমি মনে করি, প্রাচীর এমন মন্তব্যের কোনও অর্থই হয় না। তার এই বক্তব্য আমার কাছে হিটলারের ইহুদিমুক্ত জার্মানি গড়ার মতোই। আমি মনে করি, তার এই বক্তব্যের জন্য তাকে গ্রেফতার করে কিছুদিন অন্তত কারাগারে রাখা দরকার।’

অথচ বাংলাদেশে যখন শরৎকালীন মূর্তিভাঙ্গা উৎসব চলে আমাদের সলিমুল্লাহ খানরা অন্ধ হয়ে যান। সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নরুল কবীররা কখনই সরব হোন না। আমাদের সিনেমা-টিভি আর্টিস্টরা কখনই নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ান না। আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বই পড়তে বলেন কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান না। ওলামা লীগ ও হেফাজত ইসলাম যখন শিক্ষাক্রমে ‘হিন্দু সাহিত্যিকদের’ বাদ দিতে বলে, হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের প্রশাসনে স্থান পাওয়ার বিরোধীতা করে, প্রধান বিচারপতিকে যা ইচ্ছা বলে অপমান করে— তখন গোটা বাংলাদেশ নিশ্চুপ! কোন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা, সেলিব্রেটি একবারের জন্যও প্রতিবাদ করেন না। অথচ গোটা ভারত সাধ্বীর উগ্র বক্তব্যের প্রতিবাদ করে উঠেছে। আশ্চর্য হয়ে দেখবেন, যেসব বাংলাদেশী সুশীলদের কথা বললাম, এরা টিভিতে বা লেখায় শুধু সাধ্বীর উগ্র হিন্দুত্ববাদের কথাটাই বড় করে দেখাবে, গোটা ভারতের প্রতিবাদকে নয়। ভাবখানাটা এমন, শুধু বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা খারাপ না, ভারতেও খারাপ।

এ কারণেই কথিত ‘মুসলিম নিপীড়নের’ পরও ভারত থেকে একটাও মুসলিম পাকিস্তান বা বাংলাদেশে আসে না। কিন্তু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে স্রোতের মত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা ভারতে আশ্রয় নেয়। এইসব নষ্ট বুদ্ধিজীবী, নেতা, সেলিব্রেটিদের প্রত্য্যখ্যান করি! ভারতের একজন মৌলবাদী দলের সমর্থক অভিনেতার ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ থেকে এই দেশের প্রগতিশীল বলে দাবীদাররা শিখতে পারেন!


মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: