শফিক রেহমান কনস্যুলার সুবিধা পাচ্ছেন

89

কারাবন্দী সাংবাদিক শফিক রেহমানকে কনস্যুলার সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি পেয়ে যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের কর্মকর্তারা এখন শফিক রেহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দিতে পারবেন।

বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হলে সেই দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রয়োজনে আইনিসহ অন্যান্য সহায়তা দিতে পারে। এটাই হলো কনস্যুলার সুবিধা।

শফিক রহমান দ্বৈত নাগরিকত্ব ভোগ করছেন—এমন কারণ দেখিয়ে এত দিন তাঁকে কনস্যুলার সুবিধা দেওয়া হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করে দেখেছে, শফিক রেহমানের যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন করেননি। তাঁর পাসপোর্টে ‘অন ভিসা রিকোয়ার্ড’ সিল রয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রবীণ এই সাংবাদিকের জন্য এই সুবিধা চেয়েছে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনগত দিক খতিয়ে দেখে তাদের আবেদন মঞ্জুর করেছি। এখনযুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা দেখা করতে পারবেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীকে লেখা চিঠিতে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার। চিঠিতে তিনি যুক্তরাজ্যের এখানকার হাইকমিশনের কর্মকর্তারা যাতে শফিক রেহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার বিষয় উল্লেখ করেন।

জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শফিক রেহমানের পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাই। এত দিন তা না পাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় আমরা বিষয়টি তুলেছি। আর অনুমতির বিষয়টি এখনো আমাদের জানানো হয়নি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সরকারের অনুমতিতে শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। তিনি আদালতের আদেশ অনুযায়ী ডিভিশন পাওয়া কয়েদি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কোন দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিক কি না। আর তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হলে কোন ধরনের ভিসায় এসেছেন বা অবস্থান করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শফিক রেহমানের যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন করেননি। ভিয়েনা কনভেনশনের কনস্যুলার রিলেশন ১৯৬৩-র আর্টিকেল ৩৬(১) অনুসারে কনস্যুলার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দেখা করেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ৮১ বছর বয়সী শফিক রেহমান বর্তমানে অসুস্থ। এ অবস্থায় একজন ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় শফিক রেহমানের কল্যাণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...