যে খাবার আপনার বয়স ধরে রাখবে

128
bdtruenews24.com

বুড়িয়ে যাওয়ার পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাবার অনেকাংশে দায়ী। এছাড়া শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণেও করেও বয়সের চেয়ে বয়স্ক দেখা যায় অনেককে। আর এটি থেকে বাঁচতে হলে কিছু স্বাস্থ্যকর নিয়ম মেনে চলা উচিত। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।

কৈশোর

অল্প বয়সে খাবারের চাহিদা বেশি বয়সের মানুষের তুলনায় ভিন্ন হয়। কৈশোরে প্রয়োজন হয় বেড়ে ওঠার উপযোগী খাবার। এ সময় প্রচুর ক্যালোরি ও পুষ্টি প্রয়োজন। আর এ চাহিদা মেটাতে খাবারও হওয়া চাই বিশেষ ধরনের। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট রবি ক্লার্ক বলেন, ‘এ সময়ে তরুণদের প্রয়োজন প্রোটিনের মতো পুষ্টি উপাদান। এছাড়া ক্যালসিয়াম ও আয়রনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো দেহের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং দেহের সুষম পুষ্টি নিশ্চয়তা দেয়। তবে এ সময় খাবার বাছাইয়ে সতর্ক হওয়া উচিত যেন দেহের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি না ঘটে।’ এ বয়সে কার্বহাইড্রেট গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেহের এনার্জির অন্যতম উৎস। তাই দেহের কোষ ও মস্তিষ্ক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বহাইড্রেট খেতে হবে।

প্রাপ্তবস্কদের খাবার

আমরা যখন তারুণ্যের চৌকাঠ পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাই তখন দেহের বৃদ্ধির পাট শেষ হয়ে যায়। এ সময় আমাদের পুষ্টির চাহিদা শেষ হয়ে যায় না, পরিবর্তিত হয়। আর এ সময় তাই খাবার খাওয়া উচিত দেহ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে। এক্ষেত্রে টাটকা ফলমূল ও সবজি, দানাদার খাবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ডালজাতীয় খাবার খেতে হবে। এ বিষয়ে ক্লার্ক বলেন, ‘এখন আমরা আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারি পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও দেহের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে সক্ষম থাকা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারলে ক্রনিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি এড়ানো যাবে।’ তবে এ বয়সে গর্ভবতী নারীদের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। তাদের বাড়তি কার্বহাইড্রেট প্রয়োজন হবে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে পুষ্টি চাহিদা অপরিবর্তিত থাকবে।

download (1)মধ্যবয়সে

বয়স যখন ৫০ ছুঁই ছুঁই তখন খাবার খেতে হবে বেছে বেছে। এক্ষেত্রে এনার্জির ক্রমহ্রাসমান চাহিদার বিষয়টি মনে রাখতে হবে। এজন্য খাবারও পরিবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে ক্লার্ক বলেন, ‘এনার্জির চাহিদা কমে যাবে এ বয়সে। তাই খাবার বিষয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের দেহের হাড়, মাংসপেশি ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষা করার জন্য খাবার খেতে হবে এ বয়সে।’ এ বয়সে অন্ত্রের ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। এছাড়া ক্যালসিয়াম খেতে হবে। খাবারের প্রোটিনের মাত্রা রক্ষা করতে হবে মাংসপেশি ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষার জন্য। এছাড়া ফ্যাট বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বর্জন করতে হবে ওজন বৃদ্ধি ঠেকাতে। হৃদরোগ ও টাইপ টু ডায়াবেটিস থেকে রক্ষার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক অনুশীলন

শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই শরীর রক্ষা পাবে না। এজন্য পর্যাপ্ত শারীরিক অনুশীলন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ওয়েট-বিয়ারিং এক্সারসাইজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাঁটা, ওজন তোলা ইত্যাদি হতে পারে শারীরিক অনুশীলনের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর। এ বিষয়ে ক্লার্ক বলেন, ‘বুড়িয়ে যাওয়ায়ে আমাদের হাড়ের জয়েন্টগুলো সবচেয়ে প্রভাবিত হয়। এছাড়া মাংসপেশি ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে শারীরিক অনুশীলন করা উচিত নিয়মিত, যা দেহের এ সমস্যাগুলো কাটাতে ভূমিকা রাখে।’

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: