মো ফারাহ নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়েছেন!

26

চমকে উঠার মতোই কথা। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অ্যাথলেট মো ফারাহ নিয়েছেন নিষিদ্ধ ড্রাগ, আর সেটার অনুমতি দিয়েছে খোদ বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) ! ওয়াডার ডেটাবেজ থেকেই এ প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গোপনীয় এ নথিগুলো সম্প্রতি ফাঁস করেছে রাশিয়ার হ্যাকার গ্রুপ ফ্যান্সি বিয়ারস। ডোপ-পাপের কারণে রাশিয়ার শতাধিক অ্যাথলেট রিও অলিম্পিকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই খেপে আছে তারা। এর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে বলে দাবি রাশিয়ানদের। সেই দাবি প্রমাণ করতেই এখন বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থার ডেটাবেজ হ্যাক করে একের পর এক বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে যাচ্ছে ফ্যান্সি বিয়ারস হ্যাকার গ্রুপ। যেখানে নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণকারী অ্যাথলেট হিসেবে মো ফারাহ ছাড়াও নাম এসেছে গলফার জাস্টিন রোজ, ডাবল অলিম্পিক রোয়িং চ্যাম্পিয়ন হেলেন গ্রোভারসহ এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের।

তবে নিষিদ্ধ ড্রাগ নিলেও এই কাজটা আসলে অপরাধ নয়! ওয়াডাই অনুমতি দেয় অ্যাথলেটদের এই নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার। এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় ‘থেরাপিউটিক ইউজ এক্সেমশন (টিইউই)’। অনেক সময় অ্যাথলেটদের চিকিৎসার জন্য এমন ওষুধ নিতে হয় যেটি ওয়াডার তালিকায় নিষিদ্ধ। বিশেষ ব্যবস্থায় তখন চিকিৎসকের অনুমতি ও অসুস্থতার প্রমাণ সাক্ষেপে ওয়াডা সেই অ্যাথলেটকে অনুমতি দেয় ওই ওষুধ নেওয়ার। আর এই রকম অ্যাথলেটদের তালিকা সংরক্ষণ করে রাখা হয় ওয়াডার নিজস্ব ডেটাবেজে। পুরো প্রক্রিয়াটাই একেবারে স্বচ্ছ এবং এর মধ্যে অনৈতিক কিছু নেই। ফ্যান্সি বিয়ারস হ্যাকার গ্রুপ এই রকমই কিছু অ্যাথলেটের তালিকা প্রকাশ করে যাচ্ছে। আইএএএফ সভাপতি সেবাস্তিয়ান কোও তাই বলেছেন, ‘এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। টিইউই একটি ভালো প্রক্রিয়া।’ একই সঙ্গে তিনি গোপন নথি ফাঁস করার নিন্দাও জানিয়েছেন।

তবে তালিকায় লন্ডন ও রিও-দুই অলিম্পিকেই ৫০০০ ও ১০০০০ মিটারের ডাবল জেতা মো ফারাহর নাম আসায় অনেকেই ভুল বুঝছেন তাঁকে। বিশেষ করে যারা প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাদের আশ্বস্ত করতে মো ফারাহর মুখপাত্র কাল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মো ফারাহর চিকিৎসার সবকিছুই ব্রিটিশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁকে মাত্র দুইবার টিইউই নিতে হয়েছে। এ নিয়ে ওর লুকানোর কিছু নেই।’ ডেইলি মেইল, বিবিসি।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: