মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আইএস প্রধান আল বাগদাদি!

89
bdtruenews24.com

আইএসআইএস জঙ্গি সংগঠনের প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি অথবা সংক্ষেপে আল বাগদাদি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আইএসআইএসের ঘাঁটি সিরিয়ার রাকা শহরে বাগদাদি রয়েছে। এই খবর পেয়ে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনা। সেই হামলায় কয়েকদিন আগে গুরুতর আহত হয় বাগদাদি। এরপরই তার মৃত্যু সংবাদ সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে এই বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনা।

এরপরই আইএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নেতা ‘আল-বাগদাদি’ আর বেঁচে নেই। এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় আরব সংবাদমাধ্যম। আইএস জঙ্গিদের পক্ষে কথা বলা সংবাদ সংস্থা আল-আমাক এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতা ‘আল বাগদাদি’ নিহত হয়েছে একথা এই সংবাদ সংস্থার মাধ্যমেই প্রকাশ্যে এনেছে আইএস জঙ্গিরা।

আরও জানানো হয়েছে, রমজানের পঞ্চম দিনে বাগদাদির মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সিরিয়ার রাকা ও মশুলে যে বাগদাদির গতিবিধি টের পাওয়া গিয়েছিল তা স্বীকার করে নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

‘শান্ত অধ্যাপক’ থেকে হিংস্র আইএস প্রধান আল-বাগদাদি

বিশ্বের পয়লা নম্বর সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআইএসের প্রধান এই ব্যক্তিই। তবে জানেন কি কেমন ভাবে তৈরি হয়ে উঠল এমন ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসবাদী?

অপরাধী হয়ে ওঠার কাহিনি আল-বাগদাদির স্ত্রী সাজা আল-দুলাইমি জানিয়েছেন, অতীতে এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠার কোনও লক্ষণ ছিল না বাগদাদির। সে আদ্যন্ত পারিবারিক মানুষ ছিল। পেশায় সে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। এমনটাই এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে উল্লেখ করেছেন দুলাইমি। একজন আদর্শ মানুষ, আদর্শ পিতা ও ভালো শিক্ষক হিসাবেই পরিচিতি ছিল বাগদাদির। এমনটাই দাবি তার স্ত্রী দুলাইমির। তবে ব্যক্তিত্ব হিসাবে একটা রহস্য বাগদাদির মধ্যে সবসময়ই ছিল বলে তিনিও স্বীকার করে নিয়েছেন।

আল-বাগদাদির জীবনী ঘাঁটতে গিয়েও বারবার এমন কথাই উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই ইরাকের সামমারা এলাকায় জন্ম হয় বাগদাদির। কমবয়সের বাগদাদির সঙ্গীরা জানিয়েছেন, মুখচোরা, লাজুক, বিবাদ থেকে দূরে থাকা ছেলেটি ধর্মজ্ঞানী ছিল।

২০০৪ সাল পর্যন্ত বাগদাদি বাগদাদের তবচি এলাকায় একটি মসজিদের মধ্যেই ছোট্ট একটি ঘরে থাকত। সেই ছেলেই যে এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হয়ে উঠবে তার আঁচ কেউ তখন ঘুণাক্ষরেও পাননি।

মার্কিন ও ইরাকি গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আল বাগদাদি ইসলামিক স্টাডিজে ডক্টরেট করেছে। জেহাদিদের মধ্যে তার যে জীবনীমূলক লেখা বিলি করা হয়েছে, সেখানে লেখা রয়েছে, বাগদাদি বিএ, এমএ-র সঙ্গে ইসলামিক স্টাডিজে পিএইচডি করেছে। তারপরই ধীরে ধীরে প্রথমে আল কায়েদা, মুজাহিদিন সুরা কাউন্সিল হয়ে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক ও পরে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক ও সিরিয়ার সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছে আল বাগদাদি। নিজের দল আইএসে বাগদাদি ‘দ্য ইনভিজিবল শেখ’ নামে খ্যাত বলেও জানা গিয়েছে।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: