মানিকগঞ্জে ইউপি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য জনসংলাপ

142
bdtruenews24.com

মানিকগঞ্জ হতে নজরুল ইসলাম: ”জ্বীবাশ্ম জ্বালানি হবেই শেষ সূর্যের আলো হবে না নিঃশেষ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বেসরকারি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করছে। বারসিক তার কর্ম এলাকাসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দরিদ্র জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতসহ জ্বালানি সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৯ এর আলোকে পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে কিভাবে জ্বালানিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায় সেই লক্ষ্যে এই প্রথম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউপি কার্যালয়ে নবায়ণযোগ্য জ্বালানিতে ইউপি বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে জনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারমেন জনাব মো. নাসির উদ্দিন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিক-এর সহযোগী গবেষক মো. নজরুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের (অব.) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত কৃষক মো. শরিফ আলি। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমাদের গবেষণার আগে হতেই সভ্য দেশ জার্মান, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশ ব্যবহার শুরু করেছে। আমরা এখনো ৩জি ব্যবহার সকল জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। এতকিছুর পরও আমাদের দেশে যে পরিমাণ বিকল্প জ্বালানির কাঁচামাল রয়েছে পৃথিবীর কোন দেশেই তা নেই। বিশেষ করে সূর্যের আলোর আধিক্য আমাদের দেশে বেশি। সেটিকে কিভাবে ব্যবহার করব সেটি হলো এই প্রজন্মের গবেষণার বিষয়।

বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান মাষ্টার। তিনি বলেন জ্বাীবাশ্ম জ্বালানি শেষ হবে, এটি নিয়ে কোন বিতর্ক নেই বলে আমি মনে করি। তাহলে সংকট মোকাবেলায যদি নবায়ণযোগ্য জ্বালনির ব্যবহার বাড়াতে হয়, তাহলে আমরা শুধু অফগ্রীড এলাকার বা দরিদ্র মানুষকে ব্যবহার করতে বলব কেন? আমার মতে, আগে সচেতন মহল এবং উচ্চবিত্তশালী মানুষদেরকে সরকার এই জ্বালনি ব্যবহারে বাধ্য করবে, আর সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের পাশাপাশি সোলার হোম ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে।

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব আব্দুল মান্নান বলেন, সরকার ইতেমধ্যে এই বিষয়ে খুবই জোর দিয়েছে। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহদোয় আলহাজ্ব জাহিদ মালেক স্বপন তার একটি বিশেষ বরাদ্দ আছে, সেখান হতে আমরা গত বছর প্রায় ১৫০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে চেয়ারমেনের মাধ্যমে সোলার হোম বিতরণ করি। আজকের আলচনাটা খুবই যুগোপযোগী, কেননা যেভাবে বিদ্যুত এর চাাহিদা বাড়ছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে, সেটি মোকাবেলায় নবায়ণযোগ্য জ্বালানিই একমাত্র মাধ্যম। এ বছর বাজেটে জ্বালানি খাতে ভাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নবায়ণযোগ্য জ্বালানিতে বেশি ভর্তুকি রাখা হয়েছে। সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করবে এই জ্বালানি দিয়েই।

বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য সাগর আহমেদ সাবু, নুরজাহান বেগম, রহিমা বেগম, রৌশন আরা, মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। সভাপতি তার সমাপনি বক্তব্যে বলেন, সকলের কথাই শুনলাম আমি গত বছর সোলার হোম দিয়েছি, যা খুবই নগন্য। আমি ইতেমধ্যে একটি প্রকল্প পাঠিয়োছি, কাবিখার জন্য সরাসরি টাকা না দিয়ে সোলার হোম দেয়া হোক এবং বিভিন্ন ভাতার মত। যারা জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে সেই পরিবারকে বিনামূল্যে সোলার হোম দেয়া হোক। তারপর আমরা জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যক্তি ও পরিবারকে সম্মানিত করব এবং এই বিষয়ে প্রকল্প তৈরির জন্য আপনাদের সহযোগীতা চাই।

আরো উপস্থিত ছিলেন বারসিক কর্মকর্তা গাজী শাহাদত হোসেন বাদল, মো. ইউসুফ আলি প্রমুখ।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: