মাংস না খেলে যা ঘটে আপনার শরীরে

305
bdtruenews24.com

স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর রেড মিট। গত এক বছরে এক-তৃতীয়াংশ ব্রিটিশ মাংস খাওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে বলে এক জরিপে জানানো হয়। নয় শতাংশ জানান, তারা মাংস খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। অনেক হয়ে উঠেছেন নিরামিষভোজী। মাংস খাওয়া বন্ধ করলে আসলে কি ঘটে দেহে? এ সম্পর্কে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. ওজন কমে: জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের এক দল গবেষক জানান, মাংস খেলে ওজন কমে। মাংস থেকে নিরামিষভোজী হয়ে গেলে ওজন বেশ কমতে থাকে। একাডেমি অব নিউট্রিশন ডায়েটেটিকস থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়, এক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা মাংস ছেড়ে দেওয়ার কারণে এবং অন্যান্য খাবার ইচ্ছেমতো খেয়ে ১০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। আসলে নিরামিষের মাধ্যমে অনেক ক্যালোরি গ্রহণ করা হলেও তাতে ওজন বৃদ্ধি পায় না।

২. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বদলে যায়: আপনি যা খাচ্ছেন তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে হজম প্রক্রিয়া কাজ করে। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, মাংসভোজী ও নিরামিষভোজীদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ভিন্ন ভিন্ন হয়। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের গবেষকরা জানান, যারা সবজি খান তাদের অন্ত্রে নিরাপদ ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়।

৩. পুষ্টির অভাব হতে পারে: ভারসাম্যপূর্ণ সবজি ও উদ্ভিজ্জ খাবারে যথেষ্ট পুষ্টি মিলতে পারে। তবে এর মাধ্যমে আয়রন, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২ পাওয়া খুব কঠিন বিষয়। এসব তথ্য জানায় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস। উদ্ভিজ্জ খাবার খেলে ডাল, ফল, বাদাম, গাঢ় রংয়ের শাক, শস্যদানা এবং সিরিয়াল প্রয়োজন পড়ে দেহের। এ ছাড়া সয়ার খাবার, সিরিয়াল এবং ইয়েস্টে ভিটামিন বি১২ মেলে।

৪. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে আসে: সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রক্রিয়াজাত মাংসে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে। অনেক মাংসে এমন সব উপাদান পাওয়া গেছে যা কিনা ফরমালডিহাইড, গামা রেডিয়েশন এবং সিগারেটে থাকে। মাত্র ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস বা দুই পিস ব্যাকনে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ১৮ শতাংশ।

৫. হৃদরোগের ঝুঁকি: এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, রেড মিট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি লার্নার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়, মাংসে থাকা কার্নিটাইন উপাদান রয়েছে যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। লার্নার রিসার্চের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রধান গবেষক স্ট্যানলি হাজেন বলেন, বহু মানুষকে পরীক্ষা করে রেড মিটের সঙ্গে তাদের হৃদরোগের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...