ভাল্লুকের জঙ্গলে কিভাবে বেঁচে ছিল ৭ বছরের জাপানি শিশুটি?

96
bdtruenews24.com

পাথর নিক্ষেপের শাস্তি দিতে গিয়ে জাপানের সাত বছর বয়সের এক শিশুকে ভাল্লুক অধ্যুষিত গহীন জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছিলেন তার বাবা-মা। তবে এরপর তাকে ফেরত আনতে গিয়ে আর খুঁজে পাননি তারা। ফলে তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

এরপর প্রায় এক সপ্তাহ পর ইয়ামাতো তানোকা নামের ওই শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর কিভাবে ভাল্লুক অধ্যুষিত ওই জঙ্গলে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কিভাবে বেঁচে ছিল শিশুটি, তা নিয়ে বহু মানুষেরই আগ্রহ তৈরি হয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি। যে জঙ্গলে শিশুটিকে ছেড়ে এসেছিলেন তার বাবা-মা সেখানে ওই অঞ্চলের তাপামাত্রা খুবই কম। প্রায়েই তা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

এছাড়া উঁচু পর্বতের কিছু অঞ্চলে তুষারপাতও হয়। এছাড়া ছিল ভারী বৃষ্টিপাত। শিশুটির পরনে ছিল একটি টি শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। বনে ছিল ভাল্লুক। তবে ভাল্লুকের হাত থেকে বাঁচার জন্য গাছে চড়ারও উপায় ছিল না। কারণ বনের গাছগুলো খুবই চিকন, অনেকটা বাঁশের মতো। এতে চড়ে থাকা সম্ভব নয়। এছাড়া আবার কোনো ধরনের পূর্ব প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ গাছে চড়তেও পারে না। অত ছোট একটি শিশুর জন্য মাটিতে রাত কাটানোও বিপজ্জনক। জঙ্গলে কি খেয়ে বাঁচা যাবে তাও শিশুটির পক্ষে জানা সম্ভব নয়। সেই বনে রয়েছে অনেক বিষাক্ত গাছ, যা খেলে বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিশুটিকে খুঁজে বের করতে প্রায় ছয় দিন ধরে জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছে জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ)। এতে ১৮০ জন অংশ নিয়েছে। তাদের সঙ্গে ছিল ডগ স্কোয়াড। অবশ্য শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে আশা ছেড়েই দিয়েছিল এসডিএফ সদস্যরা। জঙ্গলে অনুসন্ধানকারী সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ) বাহিনীরই একটি ভবনে শিশুটিকে পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানকারীরা জানান, এসডিএফের ঘাঁটির কাছে একটি ভবনের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তানুকাকে। সেটি ছিল তার হারিয়ে যাওয়ার স্থান থেকে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। তানোকা যে ওই ঘাঁটিতে যাবে, একথা কেউ ভাবতেও পারেনি। তাই সেখানে আগে অনুসন্ধান চালানো হয়নি। কিভাবে ওই ঘাঁটিতে গিয়েছে তা অনেকের কাছেই রহস্য।

untitled

তানুকা জানায়, তার বাবা মা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরই সে হেঁটে সে স্থানে চলে আসে। এরপর সে ঘাঁটিটি দেখতে পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ে। তবে সেখানে কোনো মানুষ ছিল না। এরপর তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সে পানি পান করে। তবে সেখানে কোনো খাবার না থাকায় কিছু খেতে পারেনি। তবে মেঝেতে বিছানো ম্যাট্রেসে সে ঘুমিয়ে পড়ে। উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শারীরিকভাবে সুস্থই আছে তানুকা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দেহে কয়েকটি সামান্য আঘাত থাকলেও কোনো বড় সমস্যা নেই। তবে সে ঠাণ্ডার কারণে কিছুটা হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার উপায় কি?

untitled(2)

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ রস ফিন্ডলে বলেন, এ অঞ্চলে শুকনো থাকা, উষ্ণ থাকা ও শান্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি হারিয়ে যান আর বহু দূরে চলে যান তাহলে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই যে স্থানে হারিয়েছেন সে স্থানে থাকলেই আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এছাড়া ভালুকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালুকগুলো সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। আপনি যদি হঠাৎ তাদের সামনে পড়ে যান তাহলে তারা আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু দূর থেকে শব্দ করতে করতে এগোলে তারা নিজেরাই সরে যায়। তাদের জন্য হুমকি হয়ে দেখা না দিলে বিনা কারণে আক্রমণ করে না।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...