বিপাকে কেজরিওয়াল সরকার

‘অফিস অব প্রফিট’ সংশোধনী বিলে সই করেননি রাষ্ট্রপতি

106

বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে চলেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের আম আদমি সরকার। এ সরকারের পাঠানো ‘অফিস অব প্রফিট’ আইনের সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সই করতে অস্বীকার করেছেন। এর ফলে শাসক দল নিযুক্ত ২১ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যেতে পারে। গত বছর এই বিধায়কদের রাজ্য সরকার সংসদীয় সচিব পদে নিযুক্তি দিয়েছিল।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের ‘হাত’ দেখতে পাচ্ছেন। টুইট করে তিনি বলেছেন, দিল্লির ভোটে হার বিজেপি সহ্য করতে পারেনি। এই সরকারকে তারা কাজ করতে দিতে চায় না। সরকারের নির্দেশেই তাই এই বিলে রাষ্ট্রপতি সই দেননি। অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বহু বিধায়ক এই পদে বহাল রয়েছেন।

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী সাংসদ ও বিধায়ক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাঁরা অন্য কোনো বেতনভুক্ত পদে থাকতে পারেন না। কেজরিওয়াল সরকার সেই বিধি অমান্য করে ২১ জন বিধায়ককে সংসদীয় সচিব পদে নিযুক্ত করেন ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ। নিযুক্তির পর রাজ্য সরকার এই পদকে ‘অফিস অব প্রফিট’-এর আওতা থেকে বাদ দিতে একটি আইন পাস করে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠায়। সেই বিলে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নেন প্রণব মুখার্জি। এর ফলে ২১ জন বিধায়ক তাঁদের সদস্যপদ হারানোর মুখে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি বিধানসভার মোট সদস্যসংখ্যা ৭০। মোট সদস্যের ১০ শতাংশ মন্ত্রী হতে পারেন। অর্থাৎ দিল্লির মন্ত্রীর সংখ্যা সাতের বেশি হতে পারে না। আম আদমি পার্টির মোট বিধায়ক ৬৭ জন। কেজরিওয়াল এঁদের মধ্যে ২১ জনকে সংসদীয় সচিব পদে নিযুক্ত করেন। বেতন না পেলেও তাঁদের অন্য ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সরকারি কাজের তদারক করেন। এঁদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে গেলে ওই ২১ কেন্দ্রে উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে যাবে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেছেন, আইন পাস করে এই পদে নিযুক্তি দিলে সংকট সৃষ্টি হতো না। কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, কেজরিওয়াল স্রেফ পাইয়ে দেওয়ার নীতি নিয়েছেন।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...