বাংলা সিনেমার বিবর্তন | ১ম কিস্তি || অলভ্য ঘোষ

প্রডাকশন ম্যানেজার থেকে লাইন প্রডিউসার

297
bdtruenews24.com

নাবালক! কথাটার মধ্যে বয়স এবং অভিজ্ঞতার খামতি আছে। কিন্তু এই নাবালকয়ই যখন সাবালকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় তখন আমরা কী বলি? বয়সে নবীন কিন্তু অভিজ্ঞতায় প্রবীণ।

প্রাচীন চিত্র শিল্পের বয়স কত ? প্রায় ৩২,০০০ বছর। ফ্রান্সের Grotte Chauvet এ অবস্থিত। ভাস্কর্য শিল্পের বয়স? জার্মানির Hohlenstein Stadel এলাকার ৩০ সেমি লম্বা Lowenmensch প্রায় ৩০,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের। প্রাগৈতিহাসিক সঙ্গীতের খোঁজ পাওয়া যায় পুরাতন প্রস্তরযুগের পুরাতত্ত্ব ঘাঁটলে। ৪০,০০০ বছর পুরাতন জাপানিদের Shakuhachi বাঁশির মতো; হাড় দিয়ে তৈরি এক মুখ বন্ধ; গায়ে একাধিক ছিদ্র বিশিষ্ট Divje Babe Flute পুরাতন প্রস্তরযুগের গুহা থেকে পাওয়া প্রাগৈতিহাসিক সঙ্গীতের সাক্ষী বহন করে। সাহিত্যের প্রাচীনতার ব্যাপারটাও সকলেই জানেন। প্রাচীন মিশরীয় সাহিত্য; সুমেরীয় সাহিত্যের পাশাপাশি বিশ্বের প্রাচীনতম সাহিত্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এত কথা বলছি কেন বলুন-তো? বলছি এই কারণেই চিত্র, ভাস্কর্য, সঙ্গীত, সাহিত্য, নৃত্য-নাটক সকল শিল্পের সমন্বয়ে গঠিত সবার থেকে নবীন আধুনিকতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী শিল্প মাধ্যম চলচ্চিত্রের নবীনতা এবং সমৃদ্ধতা চিহ্নিত করার জন্যে। মাত্র ১৮৯৫ সালে Lumiere Brothers এর হাতে জন্মানো নবীন এই শিল্প মাধ্যমটি জনপ্রিয়তায় অন্যান্য শিল্প মাধ্যমকে পিছনে ফেলে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

সাহিত্য এবং কলাবিদ্যার সব আঙ্গিকেই কিছু না কিছু কাজ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এমন কি নাচেও। কিন্তু তাঁর জীবন কালের সবচেয়ে শক্তিশালী শিল্প মাধ্যম চলচ্চিত্রে তেমন মন দেননি। নাটকের ধারা অনুক্রমে বিশ্বভারতীর জন্য টাকার প্রয়োজনে চিত্রনাট্য ছাড়া নিউ থিয়েটার্সের বীরেন্দনাথ সরকারের প্রস্তাবে ” নটীর পূজা ” চলচ্চিত্রের রূপ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩২ এর মার্চ এপ্রিল জুড়ে চিত্রা আর পূর্ণ থিয়েটারে দিন পনেরো বাণিজ্যিক ভাবে দেখানোর পর ছবিটি উঠে যায়। লোকে নেয়নি। ১৯২৫ ও ১৯৩০ এর মুক্তি প্রাপ্ত আইজেনস্টাইনের “ব্যাটলশিপ পোটেমকিন” আর “জেনারেল লাইন” কিছুটা হলেও দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ভালোমন্দ কোন মন্তব্য করেননি। ইউরোপে কিন্তু ১৯৩০-এর মধ্যেই শিল্পী-সাহিত্যিক, দার্শনিক সকলেই প্রযুক্তি নির্ভর এই নতুন শিল্প মাধ্যমটির অপার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বময় আলোচনা করেছে। চলন্ত ছায়াছবি দেখানো এক বিশ্বজোড়া ব্যবসায় দাঁড়িয়ে গেছে খুব দ্রুত। ভারতে পার্সি ব্যবসায়ীরা ব্যবসাটা ধরে নিয়েছিল। ১৮৯০ সালে প্রথম কলকাতা শহরে বাইস-কোপ দেখান হয়। হিরা-লাল সেন রয়াল বায়স্কোপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্টার, মিনারভা, ক্লাসিক থিয়েটারে নাটকের দৃশ্যাংশ প্রদর্শন করতে থাকেন। তারপর অনেক দিন বাদে ১৯১৮ সালে ডি.জি; ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি ইন্দ্র ব্রিটিশ ফিল্ম  কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও প্রথম বাঙলা ছবি “বিল্লমঙ্গল ” তৈরি হয় ১৯১৯ সালে ম্যাডান থিয়েটারের ব্যানারে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে ফিল্ম প্রদর্শন ব্যবসার এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল ম্যাডান কোম্পানি। কলকাতাতেও ফিল্ম প্রযোজনায় ম্যাডানদের ভূমিকাই ছিল অগ্রণী। এদের তৈরি “জামাই ষষ্টি” ছিল প্রথম বাংলা টকি। ১৯৩২ সালে “American Cinematographer” নিবন্ধে Wilford E Deming একজন অ্যামেরিকান ইঞ্জিনিয়ার যিনি কিনা প্রথম ভারতীয় সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে যুক্ত ছিলেন। টালিগঞ্জ জেলার নব নির্মায়মান শিল্প অঞ্চল টিকে হলিউডের সাথে তুলনা করে কাব্য করে টলিউড বলে অবিহিত করেছিলেন। হলিউড যেমন ছিল অ্যামেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা শিল্পের কেন্দ্রস্থল। তেমনি টালিগঞ্জ হয়ে উঠেছিল ভারতীয় সিনেমার মধ্যমণি। মহানগরীর বুকে গড়ে উঠতে শুরু করেছিল নিউথিয়েটারস, ইন্দ্রপুরী, ভারত-লক্ষ্মী, রাধা, ক্যালকাটা মুভি-টন-এর মতো Studio-গুলো।

স্মৃতিমন্থন করলে দ্যাখা যাবে, ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পকে হাতধরে হাঁটতে শেখান থেকে কথা বোলতে সবটাই করেছেন কোন-না কোন বাঙালি ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র ব্যবসা শুরু হয়েছে ১৮৯৬-৯৭ সালে। হীরা-লাল সেন সর্বপ্রথম ১৯০১ থেকে ১৯০৩ সালে ক্লাসিক থিয়েটারে অভিনীত “আলি-বাবা”, “ভ্রমর”, “সীতারাম” প্রভৃতি নাটকের দৃশ্যাংশের প্রদর্শন করেন। এ ছবিকে অনেকেই ছবি বলে মনে করেন না। তবে এটুকু-তো মানতেই হবে; এ ভাবনাই পশ্চিম অঞ্চলে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পুরোধা দাদাসাহেব ফালকে-কে ১৯১৩ সালে “হরিশ্চন্দ্র” চলচ্চিত্র নির্মাণে এবং গ্রামে-গঞ্জে প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৯১৩ থেকে ১৯৩২ সালে নির্বাক চলচ্চিত্র যুগে বিশ-তিরিশের সময়কার চলচ্চিত্রে কেউ ভাবতে পারেনি সামাজিক বাস্তবতা–আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে ভারতীয় জাতিসত্তার আত্মীকরণের কথা। শুধুই ছিল এক নিষ্ঠুর অখণ্ড বাজারের প্রচেষ্টা। ১৯২৪ সালে ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়কে মুখ্য করে নির্মাণ করেন “রাজিয়া বেগম”। কিন্তু তদানীন্তন হ্রায়দারাবাদ রাজ্যের শাসক নিজামের হুকুমে এ ছবি সে রাজ্যে দেখান যায়নি। সমকালীনতা-অর্থনৈতিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক আবর্তের প্রভাব সৃষ্টির এই ছিল সর্বপ্রথম এক বাঙালির কিঞ্চিত প্রয়াস। ১৯২৯ সালে রবি ঠাকুরের কাহিনী অবলম্বনে বাংলা ছবি “বিচারক” সেন্সরের শ্যোন নজরে পড়ে। তারপর অনেক ঝামেলার মধ্যে গড়মিলের-স্বাধীনতা এল ! কিন্তু আশার ঝিলিক অবসাদেই মিলিয়ে গেল। ১৯৫২ সালে প্রমথেশ বড়ুয়ার ক্যামেরাম্যান বিমল রায় জমি থেকে কৃষকের বিচ্ছিন্নতার মর্মান্তিক সত্যকে চলচ্চিত্রায়িত করে নির্মাণ করেছিলেন “দো বিঘা জমিন” কার্লোভিভেরি ও কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পুরস্কৃত হয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রবেশ করে সামাজিক বাস্তবতার এক ধারা আর এক বাঙ্গালির হাতে। এ ছিল ঐতিহাসিক পৌরাণিক ছবি থেকে রুচির বদল ঘটিয়ে হৃদয়স্পর্শী সংবেদনশীল ছবি নির্মাণের ইতিবৃত্ত। কিন্তু তখনও ভারতীয় সিনেমা চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা পায়নি। ছায়াছবি যে স্বনির্ভর সার্বভৌম ভারতীয় চলচ্চিত্রে তা সর্ব প্রথম প্রমাণ হয় ১৯৫৫ সালে বাংলা চলচ্চিত্র “পথের পাঁচালী” মুক্তিতে। মেজাজে আঙ্গিকে বক্তব্যে দর্শনে সম্পূর্ণ নতুন ধারার প্রচলন করলেন সত্যজিৎ রায় যা কল্পনা করাও ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের কাছে কষ্টাতীত। ১৯৫১ সালে নিমাই ঘোষের “ছিন্নমূল” ও ১৯৫৩ সালে সলিল সেনের “নতুন ইহুদী” বাংলা ছবি তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের জগতে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল তা “পথের পাঁচালীতে” এসে সুস্পষ্ট রূপ পেল-  ভারতীয় সিনেমায় এ হল এক যুগান্তকারী ঘটনা।

Cinema is a directors media. চলচ্চিত্রের শৈলী মূলত পরিচালক নির্ভর; তা-বলে অভিনেতা, অভিনেত্রী, সুরকার সম্পাদক, শিল্প নির্দেশক, করিয়গ্রাফার, লাইট-ম্যান, ক্যামেরাম্যান, মেকাপম্যান, প্রডাকশন বয়। সর্বোপরি প্রডিউসার বা প্রযোজক ছাড়া ছবি নির্মাণ কী সম্ভব? কখনোই না! এই দেখুন না প্রযোজক যদি না থাকে টাকা আসবে কোথা-থেকে। কম কিংবা বেশী টাকা ছাড়া সিনেমা নির্মাণ এই ডিজিটাল যুগেও সম্ভব নয়। পরিচালক যদি ছবির প্রাণ হন প্রযোজক সিনেমার রক্ত বাকিরা অস্থি মজ্জা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। রক্ত ছাড়া যেমন প্রাণ সঞ্চার সম্ভব নয়; বাজেট অনুসারে অর্থের যোগান ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণও অসম্ভব। বিদেশী চলচ্চিত্রে কোন কোন পরিচালক প্রযোজকের ভূমিকার গুরুত্বটি বুঝে নিজেরাই নিজেদের ছবির প্রযোজনা করেছেন। যেমন  মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গ; তিনি তিনবার একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ভারতের হিন্দি ছবির প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক; যশ রাজ ফিল্ম কোম্পানির যশ রাজ চোপড়ার কথা কে না জানেন। ঋত্বিক ঘটক কিংবা সত্যজিৎ রায় কেও নিজেদের ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব নিতে দেখা গেছে। চন্ডুলাল শাহ কিংবা বীরেন্দনাথ সরকারের নাম প্রযোজক হিসাবে ভারতীয় ছবির আতুর ঘরের ইতিহাসে উচ্চারণ করাহয়। অনেকের ধারনা টাকা দিয়েই প্রযোজকের দায়িত্ব শেষ। তেমনটি নয়। pre production থেকে ছবির Holl release অবধি থাকে অনেক কাজ; পেছনে থাকে অনেক মানুষের অবদান। ছবির শুরুতে পর্দায় যাদের নাম কেবল এক ঝলক খেলে যায় বাকি কথা অব্যক্ত থেকে যায় তেমনি দশরকম প্রযোজকের নাম আপনাদের শোনাচ্ছি। এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার বা নির্বাহী প্রযোজক, সুপার ভাইজিং প্রডিউসার, প্রডিউসার, কো প্রডিউসার, কো আর্ডিন্যাটিং প্রডিউসার বা সমন্বয়কারী প্রযোজক, অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার, লাইন প্রডিউসার, প্রোডাকশন ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ ইন-চার্জ অফ প্রোডাকশন, সেগমেন্ট প্রডিউসার। এই হলো ১০ ধরনের প্রডিউসার। প্রথম ৬ টি পজিশনের প্রডিউসাররা বিশেষত ফিল্মের র প্রফিটের শেয়ার পেয়ে থাকেন। বাকিদের একটি নির্দিষ্ট স্যালারি নিয়েই খুশি থাকতে হয়। তবে সাধারণত একটি ফিল্মে তিন ধরনের প্রডিউসার থাকেন। প্রডিউসার, এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার এবং প্রোডাকশন ম্যানেজার। সবচেয়ে ব্রাত্য যে জোন তিনি এই প্রডাকশন ম্যানেজার। কখনো পাদ প্রতিমের আলোয় আসেন না! ভোগেন অর্থনৈতিক অনটনে। পায়ে হাওয়াই চটি, মুখে আধকাঁচা না কামানো দাঁড়ি, চেহারায় দীনতার ছাপ। আটপৌরে পোশাকে বগলে একটা টাকা ভর্তি ছোট ব্যাগ-নিয়ে কিছুদিন আগেও টালিগঞ্জ পাড়ার এদিক ওদিক ছুটে বেড়াতেন প্রোডাকশন ম্যানেজাররা। শুটিঙটা যাতে যথাযথও ভাবে চলতে পারে তার কোন ব্যাবস্হারই ত্রুটি রাখেননি তারা। অথচ আজ পর্যন্ত প্রোডাকশন ম্যানেজাররা কুশীলবের মর্যাদা পায়নি। ভারতবর্ষের বুকে কত ফিল্ম উৎসব বা ফিল্ম সমারোহের আয়োজন করাহয়; পুরস্কৃত করা-হয় না তাদের। তাদের জন্য নেই তেমন ভাবে কোন সংগঠন কিংবা সরকারি আনুকূল্যতা।

বাংলা ছবির শুরুর থেকে আজ পর্যন্ত প্রোডাকশন ম্যানেজাররা প্রত্যেকটি প্রডাকশন ইউনিটকে তাদের নিজেদের পরিবারের মতো দেখত। প্রত্যেকটি ছবি কে সন্তানের মতো স্নেহকরে তাদের গড়ে ওঠার পেছনে যত্ন আরতির কোন ত্রুটি রাখতেন না। বাজেট অনুযায়ী ইক্যুপমেন্ট ভারা করা বা কেনা; ক্রু মেম্বার হায়ার করা সহ সকল ধরনের টাকা পয়সার অডিট ফ্লো ঠিক করে রাখতে তাদের হতে হয়েছে বিরাট কিপটে। পান থেকে চুন খোসালেই প্রডিউসার কে জবাব দীহি করতে হয়েছে প্রডাকশন ম্যানেজারকে। এদিকে বাজেটের বাইরেও খরচা চলে আসে রাহুর মতো। বাজেট ফেইল করলে আর রক্ষে থাকে না প্রডাকশন ম্যানেজারদের।

প্রডাকশন ম্যানেজাররা এযাবৎ কাল পর্যন্ত টালিগঞ্জে প্রডাকশনের আর্থিক আনুকূল্যতার দিকেই শুধু লক্ষ্য রাখেননি কার্য সমাধা করতে প্রত্যেকের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আদায় করেছেন। প্রাক উৎপাদন থেকে উৎপাদন সমাপ্তি ও সরবরাহ পর্যন্ত প্রডাকশন ম্যানেজাররা সমস্তরকম দায়িত্ব বহন করেছেন। উৎপাদন বাজেট ও শুটিঙয়ের আবশ্যকীয় চাহিদা গুলোর সম্পৃক্তই করন ঘটিয়েছেন। শুধু ক্র সদস্যদের ক্ষতিপূরণ, মীমাংসা ও আপসেই নয় প্রাত্যহিক উৎপাদন জনিত সমস্তরকম সমস্যার এমন কি প্রশাসনিক সমস্যারও সমাধান করে এসেছেন এতদিন ধরে প্রডাকশন ম্যানেজার। শুধু শিডিউলিং নয়; উৎপাদনের দাবীকৃত লোকেশন ও সমস্ত রকম দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যাপারে তাদের জুড়ি মেলা ভার। বাংলা সিনেমায় এতদিন পর্যন্ত প্রডাকশন ম্যানেজারয়ই ছিল অপরিহার্য।

চলচ্চিত্রের নীতি নির্দেশের বিষয়টি পাউন্ড ডলার লিরার ঘেরা টোপে গচ্ছিত। পৃথিবীতে চলচ্চিত্রের প্রসার ও প্রচারে চালকের আসনে মহাজন ব্যবসায়ী জমিদার মধ্যবিত্ত যাদের শ্রেণি বৈশিষ্ট্যই হল সংঘর্ষের পথকে বর্জন। সেজন্য চলচ্চিত্রের বৃহৎ অংশই সমগ্র পৃথিবীতে কালান্তরের ঘটনাকে এড়িয়ে গিয়েছে। ১৮৯৫ সালে চলচ্চিত্রের জন্ম থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ইউরোপের চলচ্চিত্রের কর্ণধারেরা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন অন্তত তিনটি কালজয়ী ঘটনা। প্রথমটি হল ১৮৭১ সালের প্যারী কমিউনের অভ্যুত্থান ও ব্যর্থতা। দ্বিতীয়টি হল ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে আট ঘণ্টার লড়াই এবং তৃতীয়ত জার্মানিতে নাৎসিবাদের উত্থানের পশ্চাতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন ষড়যন্ত্রীদের ভূমিকা।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...