বাংলাদেশেও আইসিস ও আল কায়েদার মধ্যে খুনোখুনি হবে? | নির্ঝর মজুমদার

180
bdtruenews24.com

জেএমবি-আইসিস থেকেও বেশি ভয়ংকর হচ্ছে আল কায়েদা-আনসার আল ইসলাম। তারা ধর্মের পাশাপাশি পপুলারিটি আর পাবলিক ডিসকোর্সগুলিকে আমলে নিয়ে জঙ্গিবাদ ছড়ায়। আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বোঝা দরকার, দুটি জঙ্গিদল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিন্তাধারা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে তাদের নিজেদের মধ্যে কোন ধরনের ওভারল্যাপিং নেই এবং অন্তত বাংলাদেশে তাদের মধ্যে কোন ধরণের ক্ষমতা দখলের লড়াই নেই। যে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে একমাত্র প্রতিযোগিতা, তা হল কে কত বেশি জনসমর্থন অর্জন বা ভীতি প্রদর্শন করতে পারে, সেটি।

প্রথম গ্রুপ অর্থাৎ আইসিস-জেএমবির চিন্তাভাবনাটা বলি। তাদের কাছে নিজের দলের লোকেরা ছাড়া এই জগতের সবাই শত্রু। সুতরাং সেতার বাজানো, খ্রিস্টান হয়ে যাওয়া, পুরোহিত হওয়া, এমনকি পুলিশ অফিসারের স্ত্রী হয়ে তার সাথে সংসার করাও তাদের কাছে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতই অপরাধ। অন্যদিকে, আল কায়েদা বা আনসার আল ইসলাম (প্রাক্তন আন্সারুল্লাহ বাংলা টিম) শুধুমাত্র “কটুক্তিকারিদের এবং মুরতাদদের” হত্যা করে। তারা বাদবাকি প্রায় সবাইকে মার্সি দেওয়ার চেষ্টা করে এবং তারা অন্যান্য অনেক ব্যপারে ইদানিং “মডারেট” হওয়ার চেষ্টা করছে। বার বার করেই তারা এটি বলার চেষ্টা করে যে, সাধারণ সেকুলার, হিন্দু বা এমনকি ঘরে লুকিয়ে থাকা নাস্তিকেরাও তাদের শত্রু না। এমনকি তাদের বিগত একটা ষ্টেটমেন্টে তারা এটিও বলার চেষ্টা করেছিলো যে, বাংলাদেশের “মার্কিন স্বার্থ বিরোধী” সেকুলার বুদ্ধিজীবীরা তাদের মিত্র এবং পুলিশ প্রধানের কিঞ্চিত প্রশংসাও সেই বিবৃতিতে ছিল।

এখানে দু’টি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। গত বছর নিলয় হত্যার পরে প্রথমবারের মত আনসার আল ইসলামের নামে দ্বায় স্বীকার আসে এবং তখন পুলিশের বক্তব্য ছিল যে, এই নামের জঙ্গি সংগঠনটি ভুয়া। মূলত একই গ্রুপ দু’টি ভিন্ন নাম ব্যবহার করছিলো তখন এবং শেষমেষ আল কায়েদার সদস্যপদ পাওয়ার পরে তারা আনসার আল ইসলাম নামে কাজ করা শুরু করে। খেয়াল রাখতে হবে, নিলয়ের হত্যাকাণ্ডে আন্সারুল্লাহ বাংলা টিমের থেকে একটি বিবৃতি এসেছিলো, যাতে তারা নিলয় হত্যার দ্বায় অস্বীকার করেছিলো, তবে হত্যার ঘটনার প্রশংসাও করেছিলো। এর ঠিক কিছুদিন পরেই আল কায়েদার সদস্যপদ পাওয়ার পরে সেই একই গ্রুপ (আন্সারুল্লাহ বাংলা টিম) আবার নিলয় হত্যার দ্বায় নিয়েছিল। এখন তারা ‘আন্সারুল্লাহ বাংলা টিম” নামটি আর ব্যবহার করছে না।

২. গত বছরের মার্চ মাসের দিকে একটা কমেন্ট করেছিলাম। আইসিস এবং আল কায়েদার মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

হাউএভার, আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাছ থেকে তদন্তের কিছু পর্যায়ে এমন কমেন্টও এসেছিলো যে, “আইসিস এবং আল কায়েদা” ফেসবুক গ্রুপে আলোচনা করে কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। যদিও সেই সময়ে তাদের প্রকাশ্য কিছু ডিবেট (পাবলিক ফোরামে) থেকে এটি পরিষ্কার ছিল যে, সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এত বড় রকমের ভুল যারা তদন্তে করে, যারা জঙ্গিবাদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপট না জেনে তদন্ত করতে বসে, তাদের যে কোন তদন্তে সন্দেহ বাতিক হওয়াই যৌক্তিক।

আইসিসের প্রধান বাংলা সাইটটা গত কয়েকদিন ধরে আবারও বন্ধ রয়েছে। ইরাক এবং সিরিয়াতে তাদের যে পরিমাণ কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তাতে আসলে আগের মত করে জোরদার প্রচারণা চালানোটা খুব কঠিন ব্যপার তাদের জন্য। এটির ভয়ংকর দিক হচ্ছে, তারা এখন দুনিয়ার অন্যান্য দিকে নজর দেবে বেশি।

বিগত কয়েক মাস ধরে এই দুই গ্রুপে মতাদরশিক দ্বন্দ্ব চরমে। এই প্রসঙ্গে আনসার আল ইসলামের একজন তাত্ত্বিক হাফিজুল্লাহ আহমেদ নাবিল বেশ সম্প্রতি তিন পর্বের একটা বই লিখেছেন। বইয়ের মূল বিষয়ই হল, “দাওলা” অর্থাৎ আইসিস কি কারণে ভুল এবং কি কারণে তাদের পক্ষে যুদ্ধ করা উচিত না।

সিরিয়ার মত বাংলাদেশেও যদি এই দুই গ্রুপের মধ্যে খুনাখুনি শুরু হয়ে যায়, সেটা আপাত দৃষ্টিতে লাভজনক হলেও বেশ ভয়ংকর একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...