প্রয়োজনে বহিস্কার করবো,কিন্তু এসব সহ্য করা হবে না

প্রয়োজনে বহিস্কার করবো

নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে ডাকা মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘খোঁজ নাও তদন্ত করো। এর জন্য যে দায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শামীমকেও বহিস্কার করবো, কিন্তু এসব সহ্য করা হবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ঘটনা ঘটার কিছুক্ষনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের খবর পান। এরপর তিনি তাঁর দুজন কর্মকর্তাকে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার নির্দেশ দেন। রাতে দলের সম্পাদককেও তিনি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘এই সময়ে এসব কোন্দল, মারামারি দলকে বিপদে ফেলছে, মানুষের কাছে দলের আস্থা নষ্ট হয়েছে। অনেক সহ্য করেছি, আর না। যেই দায়ী হবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যোগাযোগ করা হলে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। শিগগিরই আমাদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখবেন।’

নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জে ফুটপাথ থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের লোকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জও করেছে। হকারদের অভিযোগ, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপস্থিতিতে তাদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর ফলে বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু সড়কের ২ নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে চাষাঢ়া এলাকা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠছে খবর পেয়ে নিকটবর্তী রাইফেল ক্লাব থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু মেয়র আইভী অভিযোগ করেন, এমপির নির্দেশে তাকে হত্যার মতলবে এমপির লোকরা এই হামলা চালিয়েছে। মেয়র পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতায় এই ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, এমপি শামীম বলেন, প্রশাসন যদি তার পক্ষেই থাকত তাহলে হকারদের ওপর গুলি ছোড়া হতো না। তিনি ঘটনাস্থলে যে ছুটে গিয়েছিলেন তার কারণ, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে ফোন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেছিলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমি ওখানে না গেলে গোলযোগটা আরও বেশি হয়ে যেতে পারত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার এমপি শামীমের আশ্বাস (পুনর্বাসন যতদিন না হয়, বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকাররা ফুটপাথে ব্যবসা করবেন) অনুযায়ী হকাররা ফুটপাথে আসতে থাকেন। বিকাল ৪টায় নগর ভবন থেকে বেরিয়ে মেয়র আইভী কড়া পুলিশ পাহারায় ফুটপাথ ধরে হাঁটা শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিটি কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার, ঠিকাদার ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবু সুফিয়ান, শহীদুল্লাহসহ নাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কয়েকশ সমর্থক।

এই সমর্থকরা ডিআইটি থেকে গ্রিনলেজ মোড় পর্যন্ত ফুটপাথে বসার প্রস্তুতিরত হকারদের লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ফলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে যুবদল নেতা কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার ও বিএনপি নেত্রী প্যানেল মেয়র বিভা হাসানের নেতা-কর্মীসহ আইভী সমর্থকরা হকারদের ওপর চড়াও হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সমগ্র পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত প্রেসব্রিফিং করা হবে।

নারায়ণগঞ্জে আইভীর ওপর ‘হামলা’, সংঘর্ষে রণক্ষেত্র; আহত ২০ (ভিডিও)

 

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন , বিডি ট্রু নিউজ ২৪ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

Loading Facebook Comments ...