প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

71
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে শিগগিরই। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে চলতি মাসেই এ নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে। প্রধান বিচারপতির শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিমকোর্টসহ সরকারের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য রয়েছে দুই মাস সাত দিন ধরে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ছুটিতে থাকাবস্থায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন। এর আগে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা ছিল এসকে সিনহার। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮১ দিন আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। এসকে সিনহা বিদেশে আছেন।

এদিকে কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি- এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। প্রথা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ বিচারপতিই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় প্রথমে আছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তার পরের অবস্থানে আছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী। এরপর যথাক্রমে আছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। তবে এর আগে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে কাউকে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এবার কি হবে তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। যদি প্রথা ভাঙা হয় তবে তালিকার অন্য কেউ এ পদে নিয়োগ পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকেই সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে রাখছেন।

প্রধান বিচারপতির শূন্যপদ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির একক এখতিয়ার সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিচ্ছেন, ততক্ষণ ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ কখন দেবেন- সেটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতির অনুরূপ ক্ষমতা পালন করতে পারবেন। ‘অনুরূপ’ মানে হচ্ছে প্রধান বিচারপতি যা যা করতে পারতেন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি সেটাই করবেন। আনিসুল হক বলেন, একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ কেয়ারটেকার সরকারের চিফ অ্যাডভাইজার (উপদেষ্টা) হয়েছিলেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতিও হন। তখন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছেন, শপথও পড়িয়েছেন। এটার যে নজির নেই তা না। নজির আছে। অনুরূপ কথার ওপরে জোর দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির নাম প্রস্তাব করে মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন। আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে তারপর রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করবে।

প্রধান বিচারপতির শূন্যপদ নিয়ে রিট শুনানি মুলতবি : আইনজীবীদের মধ্য থেকে আপিল বিভাগে সরাসরি বিচারক নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনের শুনানি সাত দিন পিছিয়ে গেছে। রোববার রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি আগামী রোববার শুনানির জন্য রেখেছেন।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের ওই রিট আবেদন এর আগে হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চ শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তা গ্রহণ করে রোববার শুনানির জন্য রাখেন। আদালতের রোববারের কার্যতালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ছিল মামলাটি। ক্রম অনুযায়ী তা শুনানির জন্য এলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এ সময় রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের কাছে জানতে চান- রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন নিয়ে তার আপত্তি আছে কিনা। ইউনুছ আলী ‘আপত্তি নেই’ জানালে আদালত মামলাটি আগামী রোববার শুনানির জন্য রাখেন।

প্রধান বিচারপতির শূন্যপদে নিয়োগ এবং আইনজীবীদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতি পদে সরাসরি নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে এর আগে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী। তাতে সাড়া না পেয়ে তিনি এ রিট আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য থাকা এবং নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেয়া কেন ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল চাওয়া হয়েছে সেখানে।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...