পাল্টা প্রশ্ন: ভারতেও মুসলিমদের উপর নির্যাতন হয় | সুষুপ্ত পাঠক

375
bdtruenews24.com

প্রথমে পাকিস্তান সত্য! তারপর পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ না হলে এদেশের আহমদ-ছফা, বদরুদ্দিন-উমর, জাকির- তালুকদার, আসিফ-নজরুল, সলিমুল্লাহ-খান ইত্যাদিরা অবিভক্ত ভারতে মুখার্জি-গাঙ্গুলি-চ্যাট্টার্জিদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতেন না। আমার কথা বিশ্বাস না করলে একবার ভেবে দেখুন তো, বাংলা একাডেমির মেলাতে পশ্চিম বাংলার বই নিষিদ্ধ কেন? বাংলাদেশের যেখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কেন্দ্র হবার কথা, সেখানে বাংলা একাডেমি পুরস্কার কেন শুধু বাংলাদেশীদের মধ্যে সীমিত? আনন্দ পাবলিকেশন যদি তাদের পুরস্কার বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে, সেখানে বাংলা একাডেমির ভয়টা কাদের? যাদের ভয়ে দেশভাগ সেই ভয়েই?

সেক্যুলারিজমে বিশ্বাস করলে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগকে মন থেকে মানা যায় না। আপনি যদি মনেই করেন, আপনার একটা ‘হিন্দু’ কিংবা ‘মুসলমান’ পরিচয় আছে; যার কারণে আপনি লাভবান কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তার ভিত্তিতেই আপনি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মতবাদী হতে পারেন। আমরা প্রথমে পাকিস্তান প্রশ্নে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী হয়েছিলাম, পরে সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হয়েছিলাম, কিন্তু কখনই ‘সেক্যুলার’ ছিলাম না। আওয়ামী লীগ একদা ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ কথা বলত, সেক্যুলারের কথা না। রাষ্টের পরিচয় হবে নাস্তিক— এরকম কথা উপমহাদেশের কোন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দলই দাবী করেনি। “ধর্মনিরক্ষেতা” উপমহাদেশের চতুর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভোট কৌশল মাত্র। আমাদের সমস্ত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বিশজনও পাওয়া যাবে না, যারা সেক্যুলারের বিশ্বাস করেন বা করতেন।

ভারত বিরোধীতা কিছুতেই সাম্প্রদায়িকতা বা হিন্দু বিদ্বেষ নয়, এটা ভারত নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধতা— এরকম ওয়াজকারী বদিরুদ্দীন-উমর, আসিফ-নজরুল, সলিমুল্লাহ-খান, জাকির-তালুকদারদের লুকানো থাবা বেরিয়ে পড়ে, যখন আপনি বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়নের জন্য শোরগোল তুলবেন, উনারা তখন পাল্টা প্রশ্ন করবেন, ভারতেও মুসলিমদের উপর নির্যাতন হয়। বাংলাদেশের জেগে ওঠা ইসলামী মৌলবাদের জন্য উদ্বেগ জানালে তারা পাল্টা উদ্বেগতা জানাবে, ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। ভারতে, আমেরিকায়, ইউরোপে হিন্দু মৌলবাদী দল, খ্রিস্টান মৌলবাদী দল থাকতে পারলে বাংলাদেশে কেন ইসলামী দল থাকতে পারবে না— এই যুক্তি কিন্তু তাদের ইসলামী সমাজ কায়েমের ইচ্ছায় না, হিন্দুরা হিন্দুত্ববাদী করবে তো আমাদের ইসলামী দল থাকবে না কেন— এই রকম জেদাজেদি। যদিও বেগানা নারী নিয়ে মদের আসর বসানো ইসলামী পার্টি অনুমোদন দিবে কিনা সে হুঁস নেই!

শুনেছি মুস্তফা সরওয়ার ফারুকী ফেইসবুকে লিখেছে, বাংলাদেশের সেক্যুলাররা এক-একটা ডোনাল্ড ট্রাম্প! “বাংলাদেশের সেক্যুলাররা” এভাবে যারা কথা বলেন, তারা নিশ্চিত করেই “সেক্যুলারে” বিশ্বাস করেন না। তাদের একটা আদর্শিক জায়গা আছে। সেটির নাম “বাংলাদেশী” জাতীয়তাবাদ। আমাদের পাসপোর্টে জাতীয়তা বলতে যে ‘বাংলাদেশী’ লেখা আছে, এটি কিন্তু সেই সরল অর্থে নয়। এই “বাংলাদেশী” টার্মটা গড়ে উঠেছে মাত্র কয়েক দশকে। এসব “বাংলাদেশীরা” প্রথমত বিশ্বাস করে পাহাড়ে আদীবাসীরা আসলে বাংলাদেশের কেউ না। এরা বহিরাগত। হিন্দুদের কোন দেশপ্রেম নেই। তারা ইন্ডিয়াকে নিজেদের দেশ মনে করে।…এই ‘নব্য বাংলাদেশীরা’ জাতিগত দিক থেকে তারা মনে করে, বাংলাদেশী মুসলমান বাঙালিই সহি বাঙালি। তাদের সাহিত্য-সিনেমাও ‘বাংলা সাহিত্য’ কিংবা ‘বাংলা সিনেমা’ নয়। তারা তাদের সংস্কৃতিকেও কয়েক দশকে গড়েপিটে নিয়েছে। তাদের অভিযোগ সেক্যুলারদের দুর্গাপুজাতে, ভাইফোঁটাতে গ্রোগ্রাম থাকে অথচ শবে বরাতে কোন প্রোগাম থাকে না! তো শবে বরাতের প্রোগামে কি থাকবে সেটা কিন্তু তারা খোলসা করে বলে না। আসলে আক্রোশ, শবে বরাতের রাতে পার্টি দিলে যে পাছায় বেত মারা হবে সে হুঁশ নেই!

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...