নাপিত এখন ৩৭৮টি গাড়ির মালিক!

477
bdtruenews24.com

পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য কীভাবে নিজের হাতে নির্মাণ করতে হয়, তার জলন্ত উদাহারণ সৃষ্টি করলেন বেঙ্গালুরুর রমেশ বাবু। তার সম্পর্কে যে তথ্যটি অবিশ্বাস্য, তা হল তিনি একটি রোলস রয়েস গাড়ির মালিক! যে গাড়ির দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা।!

পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানু‌ষের জীবনে উন্নতির এ এক অনুপম দৃষ্টান্ত। বেঙ্গালুরুর রমেশ বাবুর প্রথম জীবন কেটেছিল দুর্ভাগ্য ও দারিদ্র্যের করাল ছায়ায়। তিনি যখন ৭ বছরের তখনই প্রয়াত হন তার বাবা। তিন সন্তান ও নিজের পেট চালাতে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করা শু‌রু করেন রমেশের মা। রমেশের বাবার ছিল একটি ছোট সেলুন। তার মৃত্যুর পর রমেশের কাকা সেই সেলুনের দায়িত্ব নেন। প্রতিদিন ৫ টাকা করে দিতেন তিনি রমেশদের সংসারে। রমেশের মায়ের রোজগার আর কাকার এই সামান্য অনুদান, বলা বাহুল্য, সংসার চালানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না।

কাজেই কিশোর বয়স থেকেই রোজগারের চেষ্টা শুরু করতে হয় রমেশকেও। যখন রমেশের বয়স বছর ১৪ তখনই উপার্জনের প্রয়োজনে কখনও বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ বিলি করে, কখনও বা বাড়ির দোরে দোরে দুধের বোতল পৌঁছে দিয়ে তার দিন কাটত। রমেশের বয়স যখন ১৮ তখনই কাকার হাত থেকে সেলুনটির দায়িত্ব তিনি নিজের হাতে তুলে নেন। সেই সময়ে রমেশ কলেজে পড়াশোনা করছেন। দিনের বেলা সেলুনে চুল কাটতেন, আর সন্ধ্যায় ইভনিং কলেজে ক্লাস করতে যেতেন।

১৯৯৩ সালে খানিকটা শখ করেই রমেশ একটা সেকেন্ড হ্যান্ড মারুতি ওমনি কেনেন। গাড়ির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিজের ঠাকুরদার সামান্য সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয় রমেশকে। রমেশের মা সেই সময়ে যে সব বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন নন্দিনী। তিনিই রমেশকে এই পরামর্শ দেন যে, গাড়িটিকে ফেলে না রেখে কোথাও বরং ভাড়া খাটাক সে। রমেশ শোনেন সেই পরামর্শ। নন্দিনী যে অফিসে কাজ করতেন সেই অফিসেই গাড়িটি ভাড়া খাটাতে শুরু করেন রমেশ। লাভের মুথ দেখতে সময় লাগেনি তার। ১৯৯৪ সালে পরিকল্পনা মাফিক গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তারপর আর জীবনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৪ সালে রমেশের মালিকানাধীন গাড়ির সংখ্যা ছিল ৬‌টি। কিন্তু তারপর দ্রুত উত্থান শুরু হয় তার জীবনে। আজ তিনি মোট ৩৭৮টি গাড়ির মালিক, যার মধ্যে ১২০টি লাক্সারি কার। তার গাড়ির সম্ভারে শোভা পাচ্ছে বিশ্বের দামীতম সব গাড়ি। অডি, বিএমডব্লিইউ, মার্সিডিজ— কোন গাড়ি নেই তার মালিকানায়!

এমনকী, কিছুদিন আগে একটা রোলস রয়েস পর্যন্ত কিনে ফেলেছেন তিনি, যার দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা। তবে নিজের শিকড়কে এখনও ভোলেননি রমেশ। তার সেলুনটি এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত সেই সেলুনে চুলও কাটার কাজও তিনি করেন। পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য কীভাবে নিজের হাতে নির্মাণ করতে হয়, তার জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছেন বেঙ্গালুরুর রমেশ বাবু।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...