একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : নাটোর-৪

নাটোর-৪ (গুরম্নদাসপুর-বড়াইগ্রাম)

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর-৪ (গুরম্নদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী দেড় ডজন নতুন ও পুরনো মুখ নানা কৌশলে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। সাধারণ ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। বিলবোর্ড, পোস্টারিং, ব্যানার, মোবাইলে ম্যাসেজ ও ফেসবুকের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

জানা গেছে, নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন ১১ জন। অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন আটজন। কুলখানি, বিয়ে, জলসাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের সাথে চলছে কৌশলী গণসংযোগ। দলের মধ্যে অভ্যন্ত্মরীণ বিরোধ থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। মনোনয়ন পেলে নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না এমনটিই মনে করছেন তারা। বিগত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমনই বিশ্বাস জন্মেছে। বরাবরই এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে থেকেছে। তবে এবার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা আসনটি দখলে নিতে নানা কৌশলে এগোচ্ছেন।

এই আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিক উদ্দিন সরকার বিজয়ী হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও পরে জাতীয় পার্টির আবুল কাশেম সরকার এমপি হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আব্দুল কুদ্দুস বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সরকারের শেষ দিকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল কুদ্দুস। শুধু ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বিজয়ী হন। সেই সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এশারত আলী। যার কারণেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের পরাজয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। তার অবর্তমানে যেন পরিবারের কেউ এই আসন থেকে মনোনয়ন পান সেজন্য এখনই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তার মেয়ে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি। এ ছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছেন গুরম্নদাসপুর পৌরমেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহাম্মদ আলী মোলস্না, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রতন সাহা, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত সাবেক সংসদ সদস্য রফিক উদ্দিন সরকারের ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফ উদ্দিন সরকার ও কৃষকলীগ নেতা জেলা মানবাধিকার বাস্ত্মবায়ন সংস্থার নাটোর জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহাব, বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল প্রামাণিক, গুরম্নদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী। তিনি ‘৮৬ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ছয়বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিকভাবে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সরাসরি ব্যালটে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পরাজিত করে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সমর্থনে গুরম্নদাসপুর ও বড়াইগ্রামের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ও তিনটি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের রাজনীতিতে তিনি পরীক্ষিত ও দক্ষ খেলোয়াড়। তৃণমূলে রয়েছে তার নিরঙ্কুষ দখল। যার ফলে বারবার তিনিই নির্বাচিত হন এই আসনে।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ভোটের আগে অতিথি পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। যাদের পরে আর কোথাও দেখা মেলে না। এই আসনে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বটবৃক্ষের মতো। তার বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। ভোটযুদ্ধে তিনি পরীক্ষিত সৈনিক, তিনিই এবারও মনোনয়ন পাবেন, এটাই শেষ কথা।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘৮৬ সাল থেকেই নির্বাচনের আগে নতুন নতুন প্রার্থীর উদয় হয়, তার বিরম্নদ্ধে প্রচারণায় নামেন, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। শেষ পর্যন্ত্ম দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকেই ভালোবেসে মনোনয়ন দেন, তিনিও বরাবরই তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার লোকজন ভালোবাসে বলেই তাকে বারবার নির্বাচিত করেছেন। যে যাই বলুক আগামী দিনেও তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন এবং বিজয়ের বিষয়েও শতভাগ আশাবাদী। দলের যারা বিরোধিতা করছেন তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসবেন এমনটাই দাবি।

অ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, তিনি তৃণমূলে কাজ করছেন, যদি মনোনয়ন পান তাহলে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবেন। আর নির্বাচিত হলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরম্নণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করে কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং তাদের নিয়ে কাজ করে যাবেন। তবে তার বাবা বর্তমান সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। দেশের বৃহৎ দল হিসেবে এমপি হওয়ার অনেকের প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তাই তাদের অনেকেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

এলাকায় ক্লিন ইমেজের দাবিদার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সম্ভাব্য প্রার্থী আহম্মদ আলী মোলস্না বলেন, এই আসনে বিজয় লাভের জন্য পুরাতন প্রার্থী পরিবর্তনের বিকল্প নেই। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। তার পক্ষে সবাই এক কাতারে আসবেন।

দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত সাবেক সংসদ সদস্য রফিক উদ্দিন সরকারের ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফ উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব শহীদ পরিবারকে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের পরিবারের কেউ মূল্যায়িত হয়নি। তিনি আশা করছেন আগামী নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানাবে। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না।

গুরম্নদাসপুর পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী মোলস্না বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য বয়সে প্রবীণ, দীর্ঘদিন তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন। এর পরিবর্তন প্রয়োজন। দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন হলে তিনি পাবেন এবং বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন।জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বড়াইগ্রামে কোনো এমপি প্রার্থী নেই। অথচ এখানকার ভোটার গুরম্নদাসপুরের চেয়ে অনেক বেশি। তাই বড়াইগ্রামবাসী পরিবর্তন চান। মনোনয়ন পেলে দল-মত ভুলে সবাই বিজয়ী করার জন্য কাজ করবেন।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, গুরম্নদাসপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইসাহাক আলী, কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন গমেজ, সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউলস্না নুর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নুর কচি, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

দলের মধ্যে অভ্যন্ত্মরীণ বিরোধ ও নিজেদের মধ্যে নানা টানাপড়েনের কারণে দলের কিছু নেতাকর্মী মনে করেন স্থানীয়ভাবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন না করা গেলে প্রার্থী হতে পারেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক মন্ত্রী ও নাটোর জেলা সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী রম্নহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর এলাকায় থেকেই ২০০৮ সালে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। পরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় যেকোনোভাবেই হোক তার উপজেলা সভাপতি হিসেবে দলীয় পদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। এলাকায় না থাকার অভিযোগও মিথ্যাচার। তিনি নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন এবং তার সমর্থক নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। স্বার্থ হাসিলের কারণে প্রতিপক্ষরা তার বিরম্নদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশাল দলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। সবাই ধানের শীষের পক্ষে। দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত্ম তিনি মেনে নিবেন।

গুরম্নদাসপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নাটোরের প্রিয় নেতা রম্নহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ভাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। দলের তৃর্ণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকদের প্রত্যাশা তাকে এই আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নাটোর বার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, অভ্যন্ত্মরীণ বিরোধ মিটিয়ে সব বিভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের এককাতারে আনা তার পক্ষেই কেবল সম্ভব। তাই তিনি মনোনয়ন পেলে অবশ্যই বিজয়ী হবো ইনশালস্নাহ। এই উপজেলায় গুরম্নদাসপুরের চেয়ে ২৫ হাজার ভোট বেশি। এই এলাকার কেউ এমপি না হওয়ায় এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উন্নয়ন ও এমপি বঞ্চিত এলাকার মানুষ এবার বড়াইগ্রাম থেকে প্রার্থী চাচ্ছেন। আঞ্চলিকতার টানে এবার বড়াইগ্রামের প্রার্থীকেই এবার মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, তিনি জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হা-না ভোট থেকে আছেন। তিনি যুবদল গঠনের সময় উপজেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০৩ সাল থেকে বিএনপির উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পুলিশি নির্যাতন, আওয়ামী ক্যাডারদের হুমকি ধামকির মধ্যেও তিনি দলের সকল কর্মসূচি সফলভাবে পালন করেছেন। এলাকার মানুষ পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তাকে এই আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান।

ইছাহাক আলী বলেন, তিনি বিএনপির পরীক্ষিত এক কর্মী। এলাকায় জনপ্রিয়তার কারণে তিনি দু’বার বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ও দু’বার বড়াইগ্রাম পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হন। এবার জোর করে তার বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বড়াইগ্রাম ও গুরম্নদাসপুর উপজেলার সীমান্ত্ম এলাকার প্রার্থী হিসেবে দুই উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নেবেন।

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউলস্না নুর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নুর কচি বলেন, বাবু বড়াইগ্রামে অত্যন্ত্ম জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাই বনপাড়া পৌরসভা থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে সেখানেও বিজয়ী হয়েছিলেন। তার অনুসারীরা তার সাথে আছেন। তাই মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে বিশ্বাস করেন।

অন্যদিকে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ডিএম রনি পারভেজ আলম জোড় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ভাবে মহাজোট থেকে এই আসনের জন্য মনোনীত হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেলে দলীয় প্রতীক নিয়ে হলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এই আসনে মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি নানা কর্মকা-ের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনুরূপভাবে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মৃধা দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া নাটোর জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ও বর্তমানে সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান ২০ দলীয় জোট বা জামায়াতের দলীয় প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতার কারণে প্রয়োজনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করারও প্রস্তুতি রয়েছে তার।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...