নকিব মুকশি’র কবিতা

755
bdtruenews24.com

শোষিত মাটিই আমার জন্মভূমি


আমি এমনই হতভাগা কবি, নারদদুহিতার অধরপল্লবেও মধুবিন্দু ঢালি
উড়ুক্কু হংসময়
দশনজোছনায়…

আমি এমনই কবি
নিম্নজলাভূমের শোষিত মাটিই আমার জন্মভূমি, এখানেই
পরিযায়ী শকুনেরা এসে খেয়ে গেছে দুধমার সোনাধান,
সূর্যগান, জ্ঞানবৃক্ষের পাতাবীথি, নিয়েছে কেঁড়ে মাথার মগজ, থালার ভাত…

অন্ধগ্রামগুলি ভূতপ্রেতের আঁছড়ে আজও কাঁপে এখানে
এখানের মানুষগুলি আজও ভূর্জপত্রে ধুতরার রসে মন্ত্র লিখে!

ওরা পাথর-ভাগ্যে কপাল ঠুকে
এমন-কি জীর্ণ হাড়ে শিঙা টানায়
ঝরে পড়ে পুরুষের মুষ্ক, মহল্লায় বাড়ে নপুংসক যত!!

জানো, রাণী, আমি অভাগা এমন বঙ্গেরই কবি!

মরণগাঙ ঝমঝমকূপ


এমন পিনিকী ঝুমবিষ্টির মদেই তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম সুয়া, অঝর ধারাপাতে হাবুডুবু খেতে খেতে ভাসাবে আমাজনের জলপথে শুশ্রুষাগোছার সোনালী ঝাঁক তোমার

কৈশোরবালখিল্য তোমার গালে নালে চুমু আঁকলেই খিলখিল হাসিতে নাচাবে তুমিই প্রান্তিক জনপদ, বেহুলাবাসর থেকে ছুটবে জলপরীবাসরে
মন্দাকিনী গাঙের সারসরাজ্য যেখানে

চিম্বুকের পাশে ভাতঘুমকাতর স্বচ্ছ সলিলা সাংগু, চূড়ায় এলিয়েনবাসর ডাকবাংলো, সাঙায় বানানো চাকমা তরুণীর মদ তোমার পুষ্ট হাতের মুঠে, ময়ুরপেখম মেলে তুমি আত্মহারা রবীন্দ্রবর্ষণসুরে, জঠরে সুখের বীজ পেয়ে গীতবিতানে চিতসাতার দিবে উরুর উত্থানে উত্থানে— এমনই স্বপ্নবীজের অঙ্কুর গজায় আমারই পরাণগাঙের পলিচরে একে একে

আদিম লীলাচিত্র


জন্মকাল থেকেই আমি ডুডু পাখি জলকাদার জলসায়, পূর্বপুরুষের আদি শ্যাওলাঘন দাওয়ায় খুঁজছি পায়েল, বাঁইজী তোমার, কুপিবাতি আর মায়াসভ্যতার নাচলেওয়ালির স্বচ্ছতোয়া যাদুচোখের রোদননৃত্য, আবেশি নূপুর সানবাধানো ঘাটের ভাঙাচুড়া খাঁজে খাঁজে প্রত্যহকাল

প্রণয়ের বীজে প্রাণ, প্রণয় এক ম্যাজেশিয়ান! আমরা তো অনিবার্য বাহক, পিস্টনথলে সাঁতরিয়ে বাঁচে ব্যাঙাচি যত! আদি কপোত-কপোতীর প্রণয় আজও বেঁচে আছে অদ্ভুতভাবে আমাদের মাঝে! তবু মন চায় দেখি একবার, পিতা-মাতার আদিম লীলাচিত্র!

মন্ত্রগুপ্তি


মাকাশে আমার পাখা মেলে যত গুন্ডা শাদাপ্রেত্নি
প্রতিবেশি মহক্কল দুধমার দেহেতে খামচি কাটে
তবু কবি আনে প্রাণ নিরস কাঠের নুড়িঠোঁটে
মীননাথের জন্মভিটে মাকাল আমার পয়দাভূমি

উর্বর মাটির বুকে জমে আছে তবে মন্ত্রগুপ্তি
খাঁটি মধু জমতে জমতে ওঠে গম্বুজ মায়ের বুকে
অপেক্ষায় জরায়ুর শিশু, মরাঝরা কাকডাকে
বানদুয়ার ঠেলে ঢুকে পুষ্পকামে মাতে ভন্ড নটী

নরম কাদায় পড়ে সুয়া কিষাণি ফুটায় মাঠে
শস্য; শুদ্ধবীজ লুটে ফকির মাজার প্রেগনেন্ট
আসনে আগর, ধূপ, লালসালু, মোমের নারী নাচে
ভোরের মক্তবে রেখে শৈশবের সমস্ত পেটেন্ট
মুক্তমন, স্বপ্নমৌলি বেঁচেছি ক্বারির ভুল পাঠে

এবারের রমণফেনা উঠবে আফ্রিকার কুইটোবসন্তে


কেদার বাড়িতে বসে দেখি
ইসহাকের রক্তচোষা জোঁক,
দেখতে দেখতে লাল জোড়াচোখ
ভেতরে আমার জেগে উঠে ইনানী-প্রণয়

আমাজনে ভেসে ভেসে চলে যাই তন্দ্রায়
কুইটোবসন্তে আমি, চুষে নিলে রস
আফ্রিকার ফুল তুমি, প্রণয়ী আমার
জান তো কবির নেই কোন সীমানা
সবুজ দানার পুরোটাই তার আস্তানা

 

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...