তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

67
তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, একুশে আগস্টের হত্যাকারী তারেক রহমান, তাকে কী আমরা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই? আমাদের সুশীলরা তো মনে হচ্ছে সেটাই চায়। না, সেটা আমরা হতে দিব না। বাংলার মানুষ যতদিন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে যাবে এ রকম জঙ্গি ও খুনি দলের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এদের বিচার হতে থাকবে। তারেক রহমানকেও আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেব। এটা আমাদের ওয়াদা।

শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘২১ শে আগস্ট : বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই যে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিএনপির জোট করেছে, তারা নাম দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না- এই যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যাদের নামও আমি জানি না। তারা এখন বিএনপির সঙ্গে হাত মেলালো।

তিনি বলেন, আমার দুঃখ, বাংলাদেশকে যেটা থেকে আসলে রক্ষা করা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে এই যে জঙ্গি দল বিএনপি। তাদের হাত থেকে রক্ষা করায় এখন বাধা দিচ্ছে এই ঐক্যফ্রন্ট। জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপিকে বাঁচিয়ে দেয়া এবং রিহ্যাবিলেট করা। এই সুশীলরা এখন ঐক্য করেছে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে।

জয় বলেন, ২১ আগস্টের পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা তাকের রহমানকে গ্রেফতার করে সামরিক বাহিনী। কিন্তু কারা তাকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন-এই ঐক্যফ্রন্টেরই লোকজন। এই মইনুল হোসেনই তারেক রহমানকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তখন থেকে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বসে আসে। এই কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও মইনুল হোসেন সেই ১/১১ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে যড়যন্ত্রে যুক্ত। এটা আজকে প্রমাণিত হলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আওয়ামী লীগ খুনী না, সন্ত্রাসীর দল না- আওয়ামী লীগ হলো স্বাধীনতার দল।আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। বন্দুকের নালা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। তাই এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কোনো যায় আসে না।

জয় আরও বলেন, আমি জরিপ করে দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেই। বিএনপি-সুশীল-জামায়াত এক হয়েও এখন বাংলাদেশের কোনো শক্তি নাই আওয়ামী লীগকে ভোটে হারাতে পারে। তাই আমাদের আর কোনো ভয় নাই। আওয়ামী লীগের কোনো ভয় নাই। দেশ এগিয়ে এসেছে, দেশের মানুষ সুখে ও শান্তিতে আছে। আওয়ামী লীগ এখন কাউকেই ভয় পায় না। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ এই অবস্থানে এসেছে। আওয়ামী লীগকে সরানো এতো সহজ নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি আমাদের মতো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতো তাহলে কী আওয়ামী লীগের একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতো? একটা নেতাকর্মীও বেঁচে থাকতো না। আপনারা কী মনে করেন, এই সুশীলরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে। আমার চরিত্র যদি তারেক রহমানের হতো তাহলে কী আজকে বেগম জিয়া শুধু মাত্র জেলে থাকতো? না। এই কথা তাদের মনে রাখা উচিত। আওয়ামী লীগ বিএনপি না, আমাদের চরিত্র তাদের মতো না। আমরা খুনি না, আমরা সন্ত্রাসী না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার দল।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সুশীলরা নিরপেক্ষতার কথা বলে। সন্ত্রাস, মানুষ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কী কোনো নিরপেক্ষতা হতে পারে? তাহলে তারা নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝাতে চাইছে? যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়। তারা বলে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। কিসের থেকে রক্ষা করতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে আছে, একুশে আগস্টের মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না, এখান থেকে রক্ষা করতে হবে?

তিনি বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়েছে, যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ছাড় হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে থাকব। নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চায়। যারা একটি ভোট পায় না তাদের আমরা ভয় পাই না। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। এই সুশীল বাবুদের হুমকিতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না। আমরা পরোয়া করি না।

শেয়ার করুন :
  • 43
    Shares
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...