চা বিক্রি করে পড়া, ইনি এখন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

52
bdtruenews24.com

সব সাফল্যেই মানবজাতিকে উদ্বুদ্ধ করে। আবার সেই সাফল্যের পেছনে যে দুঃখ-কষ্ট-পরিশ্রম মিশে রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা থাকে। নিজের স্বপ্নকে পূরণ করতে একজন মানুষের জেদ, নিষ্ঠা, পরিশ্রম কতটা কাজে লাগতে পারে, তা হয়তো আজকের জেনারেশন ভাবতেই পারেন না।

তেমনই একটি কাহিনীর রূপকার হলেন সোমনাথ গিরাম। কোন বাধাই তাঁর লক্ষ্য থেকে পিছু হঠতে দেয়নি। একই সঙ্গে চা বিক্রি করা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। শুধু তাই নয়, ভারতের সবচেয়ে কঠিনতম পরীক্ষা সাফল্য পাওয়া মুখের কথা নয়।

মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে পুনে চলে আসেন কৃষক বাবার একমাত্র সন্তান সোমনাথ। একসময় মনে হয়েছিল, শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে পরিবারকে বাঁচানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পুনে এসেও যখন কোনো কাজ জোটাতে ব্যর্থ হয়, তখন দেবদূতের মতো একজন বন্ধুকে পেয়ে যান সোমনাথ। সেই বন্ধুর পরামর্শে একটি চায়ের দোকান খোলে সে।

একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাত্‍কার দেওয়ার সময় সোমনাথ বলেছেন, ‘২০০৮ সালে যখন পুনে আসি, তখন পকেটে একটা টাকাও ছিল না। যেভাবে হোক সদাশিব পেথ এলাকায় চায়ের দোকান খুলি। আস্তে আস্তে দোকানের ব্যবসা বাড়তে থাকে। তখন উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদাভাবে তৈরির হওয়ার কথা ভাবি। দোকানের কাজ শেষ হলে রাতে পড়াশোনা করতাম।’

ছোটবেলা থেকেই চায়ের দোকানই তাঁর পড়াশোনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু কলেজে পড়াশোনা! সেটা চালাবেন কীভাবে? এমবিএ পড়ার ইচ্ছা থাকলেও, টাকা-পয়সার কথা ভেবে পিছিয়ে আসতে হয় তাঁকে। পরে সিদ্ধান্ত নেন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার জন্য পরীক্ষায় বসবেন। ভারতের সবচেয় কঠিন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শুরু হয় লাগাতার পরিশ্রম। ‘দিনের বেলায় দোকানে কাজের পর আর শরীর দিত না। তবুও রাত ২টা পর্যন্ত প্রতিদিন পড়াশোনা করতাম পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য।’

গ্রামের এই সাফল্যের কাহিনীতে মুগ্ধ হয়ে মহারাষ্ট্র সরকার তাঁকে উপার্জন ও পরিকল্পনা প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর পদে নিযুক্ত করে। সোমনাথের মত বহু শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁরা শুধুমাত্র আর্থিক কারণে উচ্চশিক্ষার পড়া চালিয়ে যেতে পারছেন না। তাঁদেরকে সরাসরি সাহায্যের হাত বাড়াতেই সরকার একটি ফান্ড চালু করেছেন সম্প্রতি।

সূত্র: এই সময়

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...