চাইনিজ সরকার সঠিক সময়েই লাগাম টেনে ধরছে | সুষুপ্ত পাঠক

184
bdtruenews24.com

চীন সরকার সেদেশের মুসলিমদের রোজা পালন নিষিদ্ধ করেছে— এই নিউজটি বাংলাদেশী মিডিয়াতে বিকৃত করে এসেছে বলেই ধারণা করি। আমার ফেইসবুকবন্ধু তানভির ভাইয়ের পোস্টেই জেনেছি, তার মুসলিম চাইনিজ বন্ধুটি রোজা ছিল পরিবার সমেত।

আসল ঘটনা হচ্ছে, চীন সরকার সেদেশের মুসলিমদের রমজান উপলক্ষ্যে মামার বাড়ির আবদারগুলোকেই নিষিদ্ধ করেছে। যেমন কাজে ফাঁকি দেয়ার মতলব (কর্মঘন্টা পরিবর্তন করা, কমিয়ে দেয়া), প্রকাশ্যে দোকান-পাটে খাবার দাবার বিক্রি হলে অনুভূতিতে আঘাত লাগার অজুহাতে বন্ধ রাখা, মুসলিম অধ্যুষিত জায়গায় স্বউদ্যোগে মুসলিম ব্যবসায়ীরাই এই দোকানপাট বন্ধ রাখে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যহত করে। আমাদের দেশেই অমুসলিম নাগরিকরা অফিস-আদালতে দুপুরের খাবারের জন্য কি পরিমাণ নাকাল হন, তা নিজের চোখে দেখেছি। যারা রোজা রাখেন না তেমন মুসলিম, নাস্তিকরাও প্রায় ফাও রোজা রাখতে বাধ্য হন! চীন সরকার মুসলিমদের এইসব অসভ্যতা বরদাস্ত করেনি, ব্যস্ এটুকুই। কিন্ত আমাদের রমজান অনুভূতিতে আক্রান্ত মুসলিম মিডিয়াতে নিউজটি এসেছে ইসলাম বিদ্বেষী কভার হিসেবেই।

চাইনিজরা সাংঘাতিক জাতীয়তাবাদী। ইসলাম নিজে আরব জাতীয়তাবাদের উপনিবেশ চালায়। ইসলাম ধর্মকে আমরা অন্যসব ধর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। এই গুলিয়ে ফেলার কারণে ধর্মের যে সাধারণ বৈশিষ্ট— সে হিসেবে ইসলামকে বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায়। ইসলাম কেবল নামাজ-রোজা করার কোন ধর্ম না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদী কতগুলো ধর্মীয় রীতিতেই যেখানে শেষ, ইসলাম সেখানে দাবী করে, “ইসলামী সংস্কৃতি” “ইসলামী অর্থনীতি” “মুসলিম জাতীয়তাবাদ” “ইসলামী আইন” “ইসলামী রাষ্ট্র” “ইসলামী উম্মাহ” ইত্যাদি। বহুধায় বিভিক্ত মুসলিম পরিচয়— যা নাকি অলঙ্ঘনীয়!

যেমন একজন সাঁওতাল, চাকমা, মারমা কিংবা চাইনিজ যদি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়, তাহলে ইসলাম তাকে “ইসলামী সংস্কৃতি” ভিন্ন অন্যসব সংস্কৃতি ত্যাগ করতে বলবে, যা তার ইসলামী তথাকথিত সংসস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেমন সাওতাল বা চাকমাদের ছেলেমেয়েদের হাত ধরে নাচা, বিভিন্ন উৎসবে যেখানে নারী-পুরুষ মিলিতভাবে বন্ধুর মত মেশে— ইসলাম সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। আদীবাসীদের মধ্যে খ্রিস্টধর্মের অনুসারী প্রায় ৯৯ ভাগ, খ্রিস্টান ধর্ম কিন্তু তাদের কালচারের উপর কোন নাক গলাতে আসেনি। বাঙালি মুসলমানদের উদার বলে একটা প্রচার ছিল, সেই তারাই নিজেদের নববর্ষ পালনকে হারাম বলে পরিত্যাগ করার দিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকে পড়ছে, নিজেদের সংস্কৃতিকে ইসলাম বিরোধী বলে ত্যাগ করছে।

চাইনিজ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর মসজিদের ইমামদের মুসলিম কমিউনিটিদের ‘চাইনিজ সভ্যতার’ বিরুদ্ধে আরবি কালচারকে উসকে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কতখানি সত্য আর বাস্তব তা আমাদের চেয়ে আর কে বেশি জানবে? আমরা তো আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির উপনিবেশন দেখছি বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার উপর। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন বাঙালি মুসলমান ধনীরা উর্দু ভাষা ব্যবহার করত। পাকিস্তান আমলে অহেতুক আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দের ব্যাপক আমদানি ঘটানো হয়েছিল বাংলা ভাষাতে। কাজেই চাইনিজ সরকার সঠিক সময়েই লাগাম টেনে ধরছে।

এটিকে “রোজা রাখতে বাধা দেওয়া হচ্ছে” বলে জোর প্রচার চালানো হবে মুসলিম বিশ্বে। কিন্তু চাইনিজ সরকার তো “মদিনা সনদে” দেশ চালায় না যে, ছল্লু-বল্লুরা কি বলল আর না বলল তাকে কান দিবে। চীনে কোন মুসলিমকেই রোজা ও নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয় না। তবে এসবের নাম করে কেউকে ফাঁকি দিতে বা নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে দেওয়া হবে না। তারাবি নামাজের মত দীর্ঘ সময়ের অপচয় একমাত্র দুম্মা চালানো আরবদের পক্ষেই সম্ভব ছিল। আজকের উৎপাদনশীল বিশ্বে, চীনের মত পরিশ্রমি ও কাজ পাগল জাতির জন্য এইসব তারাবি আত্মহত্যার সামিল। এসবকে চাইনিজ সরকার যে অগ্রাহ্য করে দমন করছে, তারজন্য তাদের প্রশংসা না করে পারছি না।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: