খেলার কার্ড এখন জনতার হাতে, আরেকটি পতনের অপেক্ষা য় জাতি

লেখক ও কলামিস্ট সায়েক এম রহমান

111
খেলার কার্ড এখন জনতার হাতে

এক . ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে, ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর জাতীয় সংসদের ৩০০ টি আসনে আসীন বিনা ভোটের সাংসদরা! সেখানে সমাসীন আছেন স্পীকার, ডিপুটি স্পীকার, সংসদ নেতা, এ সবই আছে কিন্তু নেই কোন বিরোধী দল, নেই বিরোধী কোন মত ও পথ! অধিকাংশ সময় টিভির পর্দায় দৃর্শায়িত হয় তন্দ্রায় নিমজ্জিত সাংসদরা! মাঝে মধ্যে অভিনব কায়দায় পালা গান ও কবিতায় সংসদ হয়ে উঠে প্রাণ চঞ্চল এবং পালা গানের সুরে প্রধান মন্ত্রীর গুণগান প্রকাশ পায়। কি আশ্চর্য সংসদ!!

এ ছাড়া সংসদের প্রায় পুরো সময় জুড়ে বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ঘিরে যতো সব বয়ান। শুধু সংসদে নয়,,,,তাদের মিলাদ মাহফিল থেকে শুরু করে যত প্রকার সভা সেমিনার আছে,সব খানেই এ দলটিকে ঘিরে সব বয়ান। এমন কি প্রধান মন্ত্রী থেকে শুরু করে দল নেতারা বিশ্বের যেখানেই যান, সেখানেই এই একই বয়ান। মজার ব্যাপার হলো, এই দল কিন্তু আবার সংসদে নেই, রাজপথেও নেই,কোন জনসভা সেমিনারেও নেই। আবার কোন সভা সেমিনার করতে হলে, কোন অনুমতি ও মিলবে না, হাউ ফানি !!! একটি দল এবং দলের নেতার প্রতি কতো ভয় হলে এমন হতে পারে। তা কিন্তু মানুষ সহজেই অনুমেয়।

প্রধান মন্ত্রী সংসদে দাঁড়াইয়াপাঠক মজার বিষয় হলো, যদিও আমরা প্রায়সই রাজনীতিতে বিভিন্ন ধরনের মজার ব্যাপার দেখে থাকি, এ বিষয়টা কিন্তু অনেকটা ভিন্ন,,,,,, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালী সফর থেকে ফিরে গণভবনে সংবাদ সন্মেলনে বললেন,” বিএনপিতে কি এমন কেউ নেই যে, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত। একটা লোক কি খোঁজে পাওয়া গেল না? বিএনপির নেতৃত্বে কি এতই দৈন্যদশা? এ ব্যাপার টি নিয়ে তাঁহার ও তাঁহার দলের শীর্ষ নেতাদের এত মাথা ব্যাথা শুরু হলো, শেষ পর্যন্ত প্রধান মন্ত্রী সংসদে দাঁড়াইয়া পুনরায় এই কথাগুলি ব্যক্ত করলেন এবং বিএনপির গঠনতন্ত্রের নিয়মাবলি পর্যন্ত পড়ে শুনালেন। অন্য একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যাপার নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর এ রুপ বক্তব্যে অনেকের হাসি মুখে চাপা দিয়ে আটকিয়ে রাখতে কষ্ট হয়েছিল।

প্রধান মন্ত্রীর বিএনপির প্রতি এত দরদ দেখে, বিএনপির তৃর্ণমূলের সাধারন নেতাকর্মী বলছে, আপনাকে এ ভাবে আফসোস করে কোন লাভ হবে না, বিনাভোটের সংসদে বক্তৃতা দিয়ে কোন লাভ হবে না। আপনার যখন এই দলের জন্য এতই দরদ ও ভালবাসা,তা হলে বিএনপির একটি সদস্য ফরম পূরন করে জমা দিন। মঞ্জুর হলেই আপনি অবজেকশন দিতে পারবেন এবং আপনার কথা মূল্যায়িত হবে এমন কি আপনি নিজেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে পারেন। এ কথাগুলি আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৃর্নমূল নেতাকর্মীরা বলছে। দুই. বিএনপির চেয়ার পারসন, গণতন্ত্রের প্রতিক, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় সন্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দী করে রাখে সরকার।

আবার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ প্রায় সবকটি কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা প্রদান করা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাহিলে অনুমতি না দেওয়ায়, ২২ ফেব্রুয়ারি নয়া পল্টনের অফিসের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দিলে তা ও পন্ড করে দেওয়া। ঐ দিন সকাল ১০ ঘটিকা থেকে নেতাকর্মী জমায়েত হতে না হতে ই নেক্কার জনক হামলা, লাটি চার্জ এবং জলকামান দিয়ে বিএনপি অফিসের মেইন গেইট পর্যন্ত গরম পানি স্প্রে করা, তাতে-ই শেষ নয় বিএনপির যুগ্ন মহা সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে ডাকাত ধরার কায়দায় ৪/৫ জন মিলে সাপের মতন বেরি দিয়ে গ্রেপ্তার করা।

বিএনপির যুগ্ন মহা সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
বিএনপির যুগ্ন মহা সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে ডাকাত ধরার কায়দায় ৪/৫ জন মিলে সাপের মতন বেরি দিয়ে গ্রেপ্তার

উনি তো কোন ব্যাংঙ্ক ডাকাত ছিলেন না। ব্যাংঙ্ক ডাকাতরা তো সগৌরবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উনি সন্মানিত একজন নাগরিক, মানষের অধিকারের কথা বলছেন। মানুষজন ধিক্কার জানিয়েছে। সৈয়দ আলাল সহ প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী দের গ্রেপ্তার করা ও অসংখ্য মহিলা নেতাকর্মী সহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে নেক্কার জনক ভাবে আহত করা। আর পরক্ষনে সরকারী দলের সাধারন সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াবায়দুল কাদের বললেন, ঘরে ও অফিসে বসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে। আবার ও বলতে হচ্ছে, হাউ ফানি !!!

সে দিন জাতি প্রত্যক্ষ করেছে, এ ফ্যাসিষ্ট সরকার আইয়ুব এহিয়ার বর্বরতাকে ও ক্রস করে ফেলেছে। এই দিন সর্ব স্তরের মানুষ ফ্যাসিষ্ট সরকারকে ধিক্কার জানিয়েছে।

আজ অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, ” হাসিনা সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যাচার ও বানোয়াট মামলায় নির্বাচনের পূর্ব মহুর্ত্তে জেলে দিয়ে এবং বিএনপির বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাঁধা প্রদান করে,বিশেষ করে দলের কেন্দ্রিয় অফিসের সামনে বর্বরোচিত ও ঘৃর্ণিত হামলা করে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে না দিয়ে এবং দলের সাধারন সম্পাদকের বক্তব্যে সরকার প্রমান করলো, সরকার বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সাথে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে,,,,,,, এই ঘৃর্ণিত বর্বরোচিত কাজগুলি করলো।অর্থাৎ তাদের হাতে খেলার আর কোন কার্ড নেই। সব কার্ড খেলা হয়ে গেছে। এখন কিন্তু সব কার্ড চলে গেছে জনতার হাতে। যার মাল তার হাতে চলে গেছে।

তিন. আজ হাজার কোটি টাকার দুর্ণীতির সাগর নিয়ে সরকারী দলের নেতারা ইনসাফের কথা বলে বড় বড় বাণী প্রসব করছেন। সরকারী দলের যুগ্ন সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ কুষ্টিয়ার এক অনুস্টানে বেগম জিয়াকে দুর্ণীতি পরায়ন হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের জনগন বিএনপির এ সব দুর্ণীতিবাজ ও সন্ত্রাসী কে কারাগারে দেখতে চায়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়ার অনুষ্টানে
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়ার অনুষ্টানে

আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়ার অনুষ্টানে বললেন,” বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্নসাতের দায়ে এখন জেল হাজতে,তিনি একজন চিহ্নিত অপরাধী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন অপরাধী অংশ নিতে পারবে না। এখন প্রশ্ন হলো, তা হলে আগামি সংসদ নির্বাচনে কারা ফেরেস্তা হয়ে বসে আছেন তাদের একটু দেখে আসি।

১/শেখ হেলাল গত পাঁছ বছরে আয় বেড়েছে ১০গুণ। ২/নূর-এ-আলম চৌধরী সম্পদ বেড়েছে পাঁছ বছরে ৬৭ গুণ। ৩/ মাহবুব-উল-আলম-হানিফ পাঁছ বছরে ৭০ একর জমি। ৪/ শেখ ফজলে নূর তাপস পাঁছ বছরে সম্পদ বেড়েছে ২৯ গুণ। ৫/ শেখ সেলিম সম্পদ বেড়েছে ২ গুণ। ৬/ কাজী জাফরুল পাঁছ বছরে ১০০ কোটি টাকার সন্পদ। ৭/ এডঃ কামরুল ইসলাম পাঁছ বছরে আয় বেড়েছে ৮০গুণ। উল্লেখ্য, এখানে যারা আছেন বেশীর ভাগ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আত্নীয়। এই গুলা সরকারী হিসাবে বিভিন্ন পত্রিকার রির্পোট। এই ভাবে শত শত নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তা হলে ওদেরকে এখন কি বলবেন? অপরাধী না ফেরেস্তা? নিশ্চয় এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের ভাষায় ওরা ফেরেস্তা। আর বাকীরা সব অপরাধী?
ওরা-ই কি আগামী সংসদ নির্বাচনের বর?

চার. পাঠক, বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবি ডঃ কামাল হোসেন এক সেমিনারে বললেন, সংবিধান বলে জনগন ই দেশের মালিক কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্টটি এখন বেদখল হয়ে গেছে। তাই তিনি বলছেন,” আমি দেশের মানুষকে বলছি, আপনারা নেমে আসুন, মালিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন।

আর সময়ের সাহসী সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি ও দেশপ্রেমিক অধ্যাপক বদরুদ্দিন ওমর সম্প্রতি কলকাতায় সাংবাদিকদের সাথে এক আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন,” আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা একজন ক্রিমিনাল! She is a চোর! সে, তাঁর বেটা, ও তাঁর বোন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্ণীতির মাধ্যমে লোপাট করেছে, এখনও করছে। তাঁরা যেটা করছে, সেটা-ই আবার জনগনকে করতে মানা করছে। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে বললেন,” রাষ্ট-ই বড় সন্ত্রাসবাদী, তাঁরা গুম করছে, খুন করছে, জেলে মার্ডার করছে, ক্রস ফায়ারে মারছে!! We are all Bangladeshis are ruled by fassist and criminals.

পাঁছ. পাঠক এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ফ্যাসিষ্ট এসেছে, তাদের রুপ, গন্ধ ও লক্ষ্য ছিল এক। তাদের মূল কাজ হলো, একনায়ত্ব প্রতিষ্টা করা এবং কলে বলে কৌশলে মিডিয়া আয়াত্ব করা এবং মতের বিরোধী প্রতিষ্টান, দল বল ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনদের জেলজুলুম,নির্যাতন, ফাঁসি ও গুমখুনের মাধ্যমে রাষ্ট পরিচালনা করা । পরিশেষে কিন্তু সব-ই ব্যর্থ হয়। দুনিয়াতে অনেক জাদরেল ফ্যাসিষ্ট এসেছেন কিন্তু কেউ- টিকে থাকতে পারেন নাই। তারা সবাই-ই ইতিহাসে কালো পাতায় আটকা পড়ে গহীন গহ্বরে পতিত হয়েছেন। তার-ই জ্বলন্ত প্রমান,,,,আজ থেকে আট বৎসর পূর্বে ২০১০ সালে ২৩ বছরের স্বৈরশাসক জয়নুল আবেদীন বিন আলী বিদায় হলো তিউনিসিয়া থেকে। এই তো সে দিন ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনে মোবারক তাহরির স্কয়ারে মাত্র তিন সপ্তাহের গন আন্দোলনের মুখে লজ্জ্যা জনক বিদায় নিলো মিশর থেকে।

এ ছাড়া লৌহ মানব খ্যাত কর্ণেল গাদ্দাফির ৪২ বছর শাসনের করুণ পরিণতি হলো লিবিয়া থেকে। এদের অবিশ্বাস্য ভয়াভহ পরিণতি দেখেছে সারা বিশ্ব। আর বাংলাদেশ দেখেছে, আইয়ুব-এহিয়ার পতন, শেখ মুজিবের বাকশালীয় পতন ও এরশাদ স্বৈরাচারের পতন। আপোষহীন নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে-ই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটিয়ে গনতন্ত্রকে পূনঃউদ্ধার করেছিলেন। বিধির খেলা বুঝা বড় কঠিন,,,,,আজ আবার-ও সেই গনতন্ত্রের জন্য দেশমাতা ৭২ বৎসর বয়সে লড়ে যাচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন,জেলে বন্দী যাপন করছেন!

পতনের অপেক্ষাপাঠক, ৩রা ফেব্রুয়ারী জেলে যাওয়ার পূর্বে শেষ বক্তব্যে লা-মেরিডিয়ান থেকে দেশমাতা জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলছিলেন, ” আমি যেখানে-ই থাকি না কেন? আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমাকে কোন ভয়-ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবে-ও না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে আছি। সাহস সঞ্চয় করে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। আসুন, সবাই মিলে এই দেশ টাকে রক্ষা করি, গনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি।। পাঠক স্বৈরাচার এরশাদের পতনের ২৮ বছর পর-আরেকটি পতনের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। তাই বলছি, জাগ্রত হোন, ঝাঁপিয়ে পড়ুন, খেলার সব কার্ড কিন্তু এখন জনতার হাতে, আরেকটি পতনের অপেক্ষায় জাতি।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, বিডি ট্রু নিউজ ২৪ ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

শেয়ার করুন :
  • 68
    Shares
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...