কৃষকদেরও ট্যাক্স দিতে হবে এবং আমার সমর্থন | নাহিদ এনাম

873
bdtruenews24.com

একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বা সেই দেশের চালিকা শক্তির মূল হাতিয়ার হলো সেই দেশের জনসাধারণের কর।তারা কর দেবে সরকার শুধু সেগুলিকে ব্যবহার করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনা করবে এটাই খুব সাধারণ নিয়ম।এখন আমাদের যেহেতু তেমন কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নেই সেহেতু জনগণের ট্যাক্স হলো অন্যতম ভরসা। এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখতে গেলে দেখা যায়, আমাদের সবথেকে বড় শ্রেণি হলো কৃষক শ্রেণি যাদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ ভাগ এখন, অথচ দেশের এই ৬৫ ভাগ জনগণ থেকে আমরা কর পাই না। এটা একটু অস্বাভাবিকই!

ঘটনা হলো গতকাল অর্থমন্ত্রী একটি কথা বলেছেন, সাংবাদিকরা সেটাকে চটকদার (মিথ্যে নয়) শিরোনাম করে ক্লহবর প্রচার করছেন যে, ‘কৃষককেও ট্যাক্স দিতে হবে’! অথচ সেই শিরোনামধারী খবরের মাঝে কি লেখা আছে, অর্থমন্ত্রী আসলে কি বলেছেন, তা অনেকেই পড়ছেন না। মূল কথা হলো, শনিবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় হয়েছে আমাদের চাষী কিষাণরা, তাদেরও এখন ট্যাক্স দিতে হবে। কারণ এখন বেশ বড় কৃষক অনেক হয়ে গেছে। এলাকা বেশি হয় নাই, কিন্তু এলাকার প্রোডাক্টিভিটি এতো বেড়েছে যে, তাদের ওপর করারোপ করা যায়। যদিও এখন পর্যন্ত তারা কর অব্যাহতি পায়। তবে তাদের আয়ের ওপর করারোপ করতে হবে, পুরো উৎপাদনের ওপর নয়।’

দেখুন উনার কথার মধ্যে পরিস্কার করে বলেছেন, একটি বিশেষ শ্রেণিকে করের আওতায় আনা হবে, যে বিশেষ শ্রেণির কৃষক, যারা আমাদের কর নির্ধারণের সর্বনিম্ন পরিমান থেকেও বেশি আয় করে থাকেন। বাংলাদেশের কর নির্ধারণের নীতিমালা হলো নারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৩ লক্ষ টাকার উপরে আয় হলে তা থেকে ১০% কর দিতে হবে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকার বেশি আয় হলে সেখান থেকে ১০% হারে কর দিতে হবে। ঠিক এই পরিমানের আওতায় একজন কৃষকের উপর ট্যাক্স নির্ধারণ হওয়াটা একেবারেই অনৈতিক আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, তবে আমার পরিচিত অন্তত ৬ জন ব্যক্তি আছেন, যারা কৃষি ফার্ম থেকে বছরে ২০ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকার উপরে আয় করেন।কিন্তু এনারা কেউ ট্যাক্স পে করেন না, একজন কৃষক হিসেবে ট্যাক্স ফ্রীর সুযোগ নিয়ে।এই ধরনের বড় কৃষকদের উপর ট্যাক্স আরোপ হোক আমি ব্যক্তিগতভাবে তা চাই।

এখন আসল ঘটনা হলো, হ্যাঁ অবশ্যই আমাদের দেশের এত সংখ্যক সাধারণ কৃষকের উপর যদি ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয় তাহলে সেই ট্যাক্স আদায় করাটা খুবই সহজ হবে, কারন এদেশে দেশকে যারা ফাঁকি দেয় তারা অধিকাংশই উপরতলার মানুষ, কৃষক শ্রমিক মজুর শ্রেণি কখনো দেশের অর্জন চুরি করে না, দেশকে ফাকি দেয়না। ঠিক সেভাবেই কৃষকও দেশের ট্যাক্স ফাকি দেবে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু কথা হলো একজন কৃষককে ট্যাক্স দিতে হলে তাকে ট্যাক্স দেয়ার মতো উপযুক্ত করে নিতে হবে এবং তাকে উপযুক্ত করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্রের।এই রাষ্ট্রকে সকল ব্যবস্থা করতে হবে যে আমাদের দেশের ৬৫ ভাগ কৃষক এই কৃষিকাজ করে বছরে ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারবে, তাহলেই কেবল তারা সেই আয়ের উপর ১০% হারে ট্যাক্স প্রদান করবে, এবং করতে তাদের আপত্তি থাকবে না।

তবে বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে, এই বছরে ইরি ধান চাষ করে দেশের কৃষক গড়ে ১৮% লস করেছে! আর এই ক্ষতির কারণগুলি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত: *কৃষি শ্রমিকের চড়া মূল্য, *ধান বীজের চড়া মূল্য, *সার ওষুধের চড়া মূল্য, *অথচ ফসল ওঠার পরে বাজারজাত করনের মধ্যসত্বভোগীসহ নানান সমস্যায় পড়ে ফসলের নগন্য মূল্য।

এই বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করে একজন কৃষককে ট্যাক্স দেয়ার উপযুক্ত আয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করুন। তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের কৃষকরা ট্যাক্স দেবে এবং সেই ট্যাক্সের পরিমান হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সবথেকে বড় ভরসার জায়গা।হাজার কোটি টাকার মালিক ট্যাক্স ফাঁকি দেবে কিন্তু আমার কৃষক দাদা কখনো ট্যাক্স ফাঁকি দেবে না, আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি…


মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...