কী উদ্দেশ্যে জঙ্গি হামলা?

55
bdtruenews24.com

জঙ্গিদের ‘অপ্রতিরোধ্য’ তৎপরতায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা৷ প্রধানমন্ত্রীর “আমার কাছে এসব গুপ্তহত্যার তথ্য আছে।” বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রমাণ থাকলে অপরাধীদের আাইনের আওতায় আনা হোক৷

গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে জঙ্গিদের পরিচিত স্টাইলে মোট ৪৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে নিহত হন ৪৮ জন৷ এদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীও আছেন৷ গত আড়াই মাসে হত্যা করা হলো ১১ জনকে৷ এ সব হামলার অনেকগুলোরই দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস ও আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশের কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলাম৷

গত রোববার চট্টগামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে হত্যার পর পুলিশ জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে৷ এরইমধ্যে গত তিন দিনে মোট ছয় ‘জঙ্গি’ পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুক যুদ্ধ’ বা ‘ক্রস ফায়ারে’ নিহত হয়েছেন৷ তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নেতা-কর্মী বলে দাবি করছে পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, “চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার৷ তবে এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে খুঁজে বের করা হবে।”

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এ সব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে আটক করার পর যখন তথ্য পাই, তখনই বলি৷ একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না আমি ‘হেড অফ দ্য গভর্নমেন্ট’৷ আমার কাছে নিশ্চয়ই সব তথ্য আছে৷ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু প্রকাশ, প্রচার করা যায় না৷ কিন্তু সূত্র জানা যায়৷ আমরা সেই সূত্র ধরেই কথা বলি৷”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মনে করেন বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিক কারণে দায়ী করছি, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, তারা যদি জানেন এ সব গুপ্তহত্যার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের নাম ঠিকানা দিন, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না “

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যখনই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে, কোনো না কোনোভাবে দল দু’টির যোগসূত্র পাওয়া গেছে৷”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “…এমন মানুষকে মারা হচ্ছে যাতে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়, মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি হয়৷”

এ প্রসঙ্গে নিরপাত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল আনাম খান (অব.) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার কাছে তথ্য বা খবর থাকার কথা বলেছেন৷ এখন এইসব তথ্য বা খবর প্রমাণসাপেক্ষ৷ যদি এ ধরনের প্রমাণ থাকে তাহলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত দ্রুত৷”

তিনি বলেন, “এইসব হামলার মূল উদ্দেশ্য কী? এর রাজনৈতিক লক্ষ্য কী? তা স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন৷ কারণ এই হত্যার মাধ্যমে নিশ্চয়ই তারা একটি লক্ষ্য অর্জন করতে চায়৷ আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক কথা বলেননি৷ তিনি যা বলেছেন তা বাস্তব হলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীরা আটক হবে বলে আশা করি “

শাহেদুল আনাম খান বলেন,“গত কয়েকদিন ধরে জঙ্গিরা তাদের তৎপরতা চূড়ান্ত মাত্রায় নিয়ে গেছে৷ এর বিপরীতে ক্রসফায়ারে আমরা জঙ্গি নিহত হওয়ার খবর পাচ্ছি৷ কিন্তু জঙ্গি দমনে পুলিশের সার্বিক তৎপরতা আশাব্যঞ্জক নয়৷ দেশে এক ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে৷ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত৷ তাই কথা নয় প্রধানমন্ত্রীর কথার কাজে প্রমাণ দেখতে চাই৷”

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ উল আলম লেনিন বলেন, “মাজাভাঙা জঙ্গিরা এই হামলা চালাচ্ছে তা বিশ্বাস করা যায় না৷ তাদের পিছনে রাজনৈতিক শক্তি আছে৷ তাই এখন তারা গুপ্তহত্যায় নেমেছে৷ শুধু লেখক, ব্লগার বা ভিন্ন ধর্মের মানুষ নয়, তাদের টর্গেট সবাই৷ কারণ তারা দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চায়৷ এইসব হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে বিদেশি শক্তি যেন হস্তক্ষেপ করে।”

তিনি বলেন, “২০০৪ সালে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জঙ্গিরা যেমন জড়িত তেমনি বিএনপি-জামায়াতও জড়িত৷ তদন্তে তা জানা গেছে৷ সুতরাং পরিস্থিতি এখনও সেরকমই৷ খালেদা জিয়া এবং তাঁর প্রবাসী ছেলে তারেক রহমান দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে৷ আর যুদ্ধপরাধীদের দল এখন শেষ কামড় দিতে চাইছে৷ বিষয়টি তাই খুবই স্পষ্ট যে কারা এই হামলা এবং নাশকতার সঙ্গে জড়িত৷”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “অবশ্যই অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে৷ কারণ তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে৷” -ডিডব্লিউ

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: