একটা মেয়েকে দুইবার রেপ করার পর | নির্ঝর মজুমদার

420
bdtruenews24.com

ফেসবুক ফিডে একটা ঘটনা দেখলাম। একটা মেয়েকে দুইবার রেপ করার পর রেপিস্ট জামিন পেয়ে বের হয়েই সেই মেয়ে এবং তার সাহায্যকারীকে হুমকি দিয়েছে। হবিগঞ্জের ঘটনা।

এধরনের ঘটনা দেখামাত্রই নিজের ব্যাক্তিগত নেটওয়ার্কটা কাজে লাগিয়ে একটা সমাধান বের করা-সোজা কথায় একটিভিস্ট ইন্টারভেনশন করা আমার বহু পুরোনো অভ্যাস ছিলো।

শুধু গত তিন সপ্তাহের কয়েকটা ঘটনা বলি, যেগুলোতে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার জড়িত থাকার সুযোগ হয়েছে:

১. চট্টগ্রামে একজন মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে তাঁর মেয়ে সন্তান এর মাথা ফাটিয়ে মাত্র একরাত হাজতবাস।

২. কক্সবাজারে এক প্রচন্ড গরীব ঘরের ছেলেকে এবং তার চাকরীদাতাকে শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ধর্ম অবমাননাতে ফাঁসিয়ে দেয়া। একই জেলায় দুই সংখ্যালঘুর জমি দখল। দুটো ঘটনা আলাদা।

৩. দুই জন শিক্ষককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার পর হুমকিদাতাদের ব্যাপারে সব জানা থাকা অবস্থায় পুলিশ বা অন্য কোন মাধ্যমে ব্যাপারটার সুরাহা করা।

৪. কোন এক পার্বত্য জেলায় এক বিশাল (নাম বলতে বারন, জলপাইদের নাম মুখে আনা যায় না) অফিসার দ্বারা এক আদিবাসীর জমি দখল।

৫. শ্যামল স্যারের বিষয়টাতে কোন ধরনের স্টেপ নেয়ার ক্ষমতা আমার ছিলো না। তাই পুরো ব্যাপরটা ভেতর থেকে পর্যবেক্ষণ করেই ক্ষান্ত দিয়েছিলাম।

বলা বাহুল্য, তিন বছর আগেও এসমস্ত ঘটনায় কয়েকটা পুলিশ বা পলিটিকাল লিডারদের পত্রিকা অফিস থেকে ফোন, রিপোর্ট করানো এবং তাদের উপরওয়ালা পর্যন্ত পৌঁছানো গেলে সমস্যার সূরাহা হয়ে যেত এবং এই পরীক্ষিত উপায় দ্বারা অনেক ঘটনার খুব সফল সমাধান করা গিয়েছিলো।

এখন বাংলাদেশে এমনকি এলাকার একটা গুন্ডাকেও আপনি কোনভাবে শায়েস্তা করতে পারবেন না। ল এন্ড অর্ডার ভেঙ্গে পড়া এক জিনিস, সেটা ভয়ংকর। তবে আরও ভয়ংকর হল সেই মেকানিজমটাই ক্ষমতাহীন হয়ে পড়া।

বাংলাদেশে এই বিচার পাওয়ার সমস্ত ক্রিটিকাল রাস্তাগুলোও বল্ধ হয়ে গেছে। কোন এলাকার গুন্ডাকে শায়েস্তা করার জন্য পুলিশের বড়কর্তার কাছে আপনি পৌঁছাতে পারলেও তাদের নিজেদেরই অনেক সময় কিছু করার থাকে না। ক্ষমতাসীন দলের কারো সাথে বিরোধ হলে আপনি যদি প্রাইম মিনিস্টার পর্যন্তও পৌঁছে যান, তাহলেও নিশ্চয়তা নেই যে আপনি সমস্যার সমাধান পাবেন। এই অবস্থায় যে কোন ধরনের এক্টিভিস্ট ইন্টারভেনশন কাজে লাগবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত হতে পেরেছি আমি।

এটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বললাম। টাইপ করতে করতেও থেমে গেছি। অচেনা ওই মেয়েটার জন্য কিছু না করার অক্ষমতা কস্ট দিচ্ছে। কারণ জানি, বিষয়টাতে জাম্প করলেও কোন ফল আসবে না।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...