‘উদারমনা’ এক মাওলানার কিচ্ছা | সুষুপ্ত পাঠক

102
bdtruenews24.com

সেক্যুলার, প্রগতিশীল ও নাস্তিকদের প্রিয় ইসলামিস্ট মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ অবশেষে তার ‘মুসলমানিত্ব’ দেখাতে সক্ষম হয়েছেন! “ইহুদী ষড়যন্ত্র” ও “পাঠ্যসূচিতে হিন্দুয়ানী” খুঁজে পেয়ে এই ‘উদারমনা’ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন, “মুসলমানদের ইমান নিয়ে কোনও ধরনের টালবাহানা এ দেশের তাওহিদি জনতা সহ্য করবে না!”

আমি মুখ্যসুখ্য মানুষ, তায় ‘রেন্ডিয়ার দালাল’ ‘মোদাদের বেতনভুক্ত বোলগার’, তয় একটা কথা, গরীবের কথা বাসি হলেও ফলে। বলেছিলাম এইসব উদারমনা মুফিত, ক্বারী, হাফেজ, আল্লামারা কি জিনিস…। যখন নাস্তিক, মালাউন, খ্রিস্টাননাসারাদের কুপানো চলছিল দেশব্যাপী, তখন এই ফরীদ উদ্দীন ‪#‎তাকিয়া নিয়ে মাঠে নামছিলেন ইসলামের ইমেজ রক্ষার্থে। আমার কথা তখন অনেক নাস্তিকেরই ভাল লাগে নাই। এখন দেখেন এই “উদারমনা” মাওলানা সেমিনার করছে, তার নাম দিছে, “‘শিক্ষানীতি, ইহুদি ষড়যন্ত্র: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।” ইসলাম ও মুসলিমদের চিরকালীন ইহুদী বিদ্বেষ, হিন্দু বিদ্বেষ তাদের কথিত উদারদের মধ্যে চললেও আমাদের বলতে হবে কিছু শুনি নাই! কিছু দেখি নাই! বাহ্…!

ফরীদ উদ্দীন মাসউদসহ এই কিসিমের উদারদের মতলব অনেক আগেই বলেছিলাম, আবার বলি, এদের টার্গেট হচ্ছে ইসলাসকে কৌশলে রাষ্ট্রের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া। যারা চাপাতী চালাইয়া ইসলাম কায়েম করতে চায়, বা ইসলামী রাজনীতি করে কায়েম করতে চায় তাদের সঙ্গে এদের তফাত, তারা মনে করেন রাজনীতিবিদদের মাথায় বসে কাঁঠাল ভেঙ্গে খাবো, এতে বদনাম হবার চান্স কম। ফরীদ উদ্দীন মাসউদ মুরতাদ বা নাস্তিকদের হত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কি বলেছিল মনে আছে আপনাদের? উনি এবং উনার মত আলেমরা আনসারুল্লাহর বিরোধীতা করে বলেছিলেন, আল্লাহ ও তার নবীর কটুক্তিকারীর বিচার করবে আদালত। আইন দ্বারা দোষীকে বিচারের সম্মুখিন করতে হবে, আইন নিজের হাতে নেয়া যাবে না। নেহাত উজবুক না হলে থলের বিড়ালটিকে এবার আপনাদের দেখার কথা।

যে আইন ও আদালতের কথা এই উদারমনারা বলছেন সেটি ব্লাসফেমি। ইসলামী শরিয়ায় এই ধরণের আদালত গঠনের কথা বলা আছে। ফরীদ উদ্দীনরা কোন মিশনের জড়িত আছেন এবার বুঝেছেন? উনি কত বড় উশকানি দিয়েছেন শিক্ষাক্রম নিয়ে শুনুন- “‘পাঠ্যবইয়ের অসঙ্গতি শিশুমানসিকতার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। নবীজী, আবুবকর, উমরের জীবনী বাদ দিয়ে রামের জীবনী সংযুক্ত করা হয়েছে। মুসলিম শিশুদের বোধ ও বিশ্বাসের কথা কেন বাদ দেওয়া হলো? অবিলম্বে শিক্ষানীতি ২০১০ ও শিক্ষা আইন ২০১৬-এর খসড়া পুনরায় কমিটি গঠন করে, তাতে আলেমদেরকেও সংযুক্ত করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানদের ইমান নিয়ে কোনও ধরনের টালবাহানা এ দেশের তাওহিদি জনতা সহ্য করবে না।”

তো, এই হচ্ছে আপনাদের উদারমনা এক মাওলানার কিচ্ছা!

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...