ই-বুক: মাসিক সম্পাদক ৪র্থ সংখ্যা

94
bdtruenews24.com

সম্পাদক মাসিক সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে ৪র্থ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০১৪’র অক্টোবরে। সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক মাসিক হিসেবে আমরা বেশ কিছু সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরেছিলাম। আমরা সেই সংখ্যাগুলো ই-বুক আকারে সম্পাদক ডটকমের পাঠকের সামনে হাজির করবো। সম্পাদক ৪র্থ সংখ্যা ই-বুক পড়ুন, মতামত দিন।

সম্পাদকীয়: মানুষ যতদূর স্বপ্ন দেখবে ততদূর কাব্যচর্চা করুক

কবি হয়ে ওঠা ও কবিতা লেখার চেষ্টা করার বিষয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে। কিন্তু এই বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব অনেকের ক্ষেত্রেই কম। প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যম সহজলভ্য হওয়ার কারণে জল পড়ে পাতা নড়ে’র সাথে ‘জল পড়ে কবি নড়ে’ মনে হচ্ছে এখন। কোন মেয়েকে ভালো লাগার অনুভূতি, সমাজের বৈষম্য ও অন্যায্যতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, না পাওয়ার হতাশা, সমাজকে বদলে দেবার স্পর্ধা, তারুণ্যের চুরমার স্বপ্ন প্রতিটি তরুণের মধ্যে জমতে থাকে, আলোড়িত হতে থাকে ও বিস্ফোরিত হতে থাকে। সে তখন পথ খুঁজতে থাকে, পথটি হচ্ছে নিজেকে তাবৎ ভাবনার বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া। সে তখন বন্ধু খোঁজে, যে বন্ধু তাকে উদ্ধার করবে। এই বন্ধু খোঁজার চেষ্টাটির অন্যতম উপায় হচ্ছে লেখালেখির চেষ্টা। আমার ক্ষোভ, হতাশা ও স্বপ্নময়তাকে আমি নান্দনিক সাঁচে উপস্থাপন করতে পারবো বন্ধুদের বোধগম্যতার ভেতরে, আমার লেখালেখিতে আলোড়িত হবেন বন্ধুরা। আমার বন্ধুর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আমাতে আলোড়িত হবেন বন্ধুরা। আমার সাথে ব্যথিত হবেন, সুখি হবেন, আনন্দিত হবেন।

সাহিত্য করতে গেলে শৈল্পীক মান থাকা জরুরি। শৈল্পিক মান হচ্ছে বিশেষ কলাকৌশল, যা শিল্পের পুরাতন ইমারতকে ভেঙে নতুন শিল্পমান নির্মাণ করার চেষ্টা করে যেতে হয়। নতুন উপস্থাপনার সাথে নতুন ভাবনার সহযোগে একটি বিশেষ শিল্পরূপ দাঁড় করাবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। সেটি অগ্রজদের মতো করে নয়, সমসাময়িকদের মতো করে নয়, একেবারেই নতুন করে নিজস্ব করে।এই চেষ্টা চালিয়ে যাবার মধ্যে যা কিছু তৈরি হবে, যা চূড়ান্ত এমন কিছু নয়, তা অবশ্যই আবর্জনা; বড়জোর সেগুলো নিজের পাঠের প্রয়োজনে, নিজের আয়নায় নিজেকে দেখার প্রয়োজনে বালিশের তলায় লুকিয়ে রাখা যেতে পারে।

আমার মানবিক বোধ-বুদ্ধি রয়েছে। আমি ভাববো, আমি স্বপ্ন দেখবো। সমাজ-সভ্যতা বিকাশে আমার ভাবনার অংশগ্রহণ থাকা জরুরি। আমি যা ভাবছি, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবো এবং অবশ্যই যুক্তিতে ও নান্দনিকভাবে গ্রহণযোগ্যরূপেই আমাকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আমি কাব্যচর্চা করি, আমি সাহিত্যকর্মী। আমার মেধা, আমার যোগ্যতা ও শিল্পবোধ, আমার শ্রম ও নিষ্ঠার উপর নির্ভর করছে আমার নান্দনিক সফলতা। আমি সফল হলে অনেকের লাভ। আমি ব্যর্থ হলে কারো কোন ক্ষতি হবার কথা নয়।

এই সময়ে কবিতাচর্চাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি বলে অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেন। আমি উৎসাহিত বোধ করি। এই চর্চাকারীর সংখ্যা আগেও অনেক বেশি ছিলো না কি? সেগুলো মিডিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতো না, এখন ফেসবুকের পাতায় তার খসড়া লেখাটি লেখে। এটি তার খেরো খাতা। এই খেরো পাতার লেখাটিই মূল মিডিয়া হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আগের প্রজন্মের তরুণরা আরো বেশি বিক্ষুব্ধ ছিলো। তাদের ভাবনাটি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে ও সফল হয়েছে অথবা চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে, তবু তারা সংগ্রামের নতুন গতিপথ তৈরি করতে সচেষ্ট থেকেছে। আগের দিনে যারা সফল হতে পারেনি, তাদেরকে আমরা কখনোই দেখিনি, চিনিনি। এখন আমরা সফল ও বিফল প্রত্যেককেই চিনি-জানি।

মানুষ যতদূর স্বপ্ন দেখবে ততদূর কাব্যচর্চা করুক। মহান কবি মহাকালের কবি হবার দরকার আছে কি সবার?


পূর্ণ আকারে পড়তে চাইলে পত্রিকার প্রচ্ছদের উপর click to view in fullscreen লেখাতে ক্লিক করুন:

[raw_html_snippet id=”shompadak 4th issue”]

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...