ইংল্যান্ডের সেই পুরোনো গল্পই

62
bdtruenews24.com

বড় প্রতিযোগিতা মানেই সেই একই গল্প—ইংল্যান্ডের না পাওয়ার গল্প, কিংবা পেয়ে হারানোর আক্ষেপের গল্প। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সূচনাটা ইংল্যান্ড করল ‘পেয়েও হারানো’র এক আখ্যান দিয়ে। রাশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও পুরো পয়েন্ট ঘরে তুলতে পারেনি ইংলিশরা। খেলার একেবারে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ইউরোয় নিজেদের প্রথম ম্যাচটা ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রয় হজসনের দলকে।

এক ঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে নতুন ইংল্যান্ডের স্লোগান তুলে এবারের ইউরোতে হাজির হওয়া দলের শুরুটা কিন্তু সেই পুরোনো গল্প দিয়েই হলো। ৭৩ মিনিটে এরিক ডায়ারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। একদম যোগ করা সময়ে হেড থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে ২ পয়েন্ট বঞ্চিত করেছেন রাশিয়ার ভ্যালিরি বেরেজুটস্কি। ড্রটা কিছুতেই তাই হজম হচ্ছে না কোচ হজসনের, ‘আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ার ব্যাপারটা মেনে নেওয়া কঠিন।’

গোলদাতা ডায়ার নিজেও হতাশ, ‘ব্যাপারটা খুবই হতাশাজনক। আমরা ম্যাচটা ড্র হতে দিলাম। আমরা আসলে ঠিকমতো সময়টা পার করতে পারিনি। আমাদের উচিত হবে হতাশা থেকে বেরিয়ে নিজেদের নতুন করে উজ্জীবিত করা।’

হজসনের ৪-৩-৩ ফরমেশনে দুই উইংকে আক্রমণের অস্ত্র বানিয়ে বারবার আক্রমণে ঝাঁপিয়েছে ইংলিশরা। ওয়েইন রুনি একটু নিচের দিকে নেমে খেলে সামনের দিকে বল বাড়িয়েছেন বারবার। কিন্তু স্ট্রাইকারদের বাজে সব মিস প্রতিটি আক্রমণই শেষ করেছে হতাশা দিয়ে। দুই উইংয়ে কাইল ওয়াকার ও ড্যানি রোজ ছিলেন দারুণ। রুনি দারুণ খেটে খেলেছেন। গোলে শটও নিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজটা করতে পারেননি।

৭৩ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি কিকে ইংল্যান্ডকে কাঙ্ক্ষিত গোলটি এনে দেন ডায়ার। রাশিয়ান গোলকিপার আকিনফিভের কিছুই করার ছিল না। এক গোলের সুবিধাটা যে খুব বড় কিছু নয়, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে ইংলিশদের দেখিয়ে দেন রাশিয়ান খেলোয়াড়েরা। খেলার যোগ করা সময় কর্নার থেকে বেরিয়ে আসা বলে ক্রস থেকে বক্সের জটলায় বল ফেলে রাশিয়া। আর শেষ মুহূর্তে স্নায়ুটা ধরে রাখতে পারল না ইংল্যান্ড। বেরেজুটস্কির হেড থেকেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেরিয়ে গেল জয়টা। তীরে এসে তরি ডোবার সেই পুরোনো গল্প দিয়েই শুরু হলো ইংল্যান্ডের।

ম্যাচ শেষে ইংলিশ কোচ হজসনের যেন চুল ছেঁড়ার দশা, ‘আমরা প্রচণ্ড হতাশ—এই কথাটাও যেন আমাদের মনের অবস্থা বোঝাতে পারছে না।’

নিশ্চিত হার থেকে বাঁচার পর আনন্দ যেন ধরছিল না রাশিয়ান কোচ লিওনিদ স্লাতস্কির কণ্ঠে। তিনি পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন তাঁর দলের খেলোয়াড়দের, ‘ইংল্যান্ড যথেষ্ট শক্তিশালী দল। শক্তিধর দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে আমার ছেলেরা প্রতিপক্ষের ওপর সব সময়ই চাপ তৈরি করে গেছে। আমার ছেলেরা ম্যাচ বাঁচিয়েছে। ইংল্যান্ড যদিও পুরো খেলায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে, কিন্তু আমার ছেলেরাও গোলের সুযোগ তৈরি করেছে।’ সূত্র: রয়টার্স।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...