আসছে ‘কোটা কমিশন’

65
কোটা কমিশন

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা নিয়ে বিতর্কের কারণে সরকারি চাকরীতে সবধরনের কোটা বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকারের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। জনপ্রশাসন সচিব মোজাম্মেল হক খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এখনও প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশনা পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী কাজ করবো।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে, দেখা গেছে মিশ্য প্রতিক্রিয়া।

ড. আকবর আলী খানের মতো সাবেক জাঁদরেল আমলা এটাকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অবার অনেকে প্রশ্ন করেছেন এটা বাস্তবে করা সম্ভব নয়। এর ফলে চাকরীতে একটা ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরী হবে। এসব প্রতিক্রিয়া ছাপিয়ে মূল যে প্রশ্ন তা হলো, সত্যিকি কোটা বাতিল হবে? নাকি অন্য কিছু করা হবে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষনার পর আপাতত কোটা সংরক্ষন থাকার কোন কারণ নেই। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু সরকার জানে এটাই শেষ না। এরকম প্রজ্ঞাপনের সাথে সাথে আন্দোলন এবং আইনগত সমস্যা সৃষ্টি হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ কোটার সুবিধাভোগীরা যে আন্দোলন নামবেন, তা পরিস্কার। তাছাড়া কোটা বাতিলের গেজেট হলেই তা আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পরবে। একাধিক আইনজীবীর সংগে কথা বলে জানা গেছে, পুরোপুরি কোটা বাতিল সংবিধানে ১৯ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। এই অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা এবং নারীদের অংশগ্রহণের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, এরকম আন্দোলন এবং আইনগত চ্যালেঞ্জ প্রত্যাশিত জেনেই প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এরপর, সরকার এইসব দাবী ও আইনগত বিষয়গুলো নিরীক্ষার জন্য একটি কমিশন করার চিন্তাভাবনা করছে। যে কমিশনে পদস্থ বর্তমান এবং প্রাক্তন আমলারা ছাড়াও থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি সহ পুর্বের কোটা সুবিধার আওতায় যারা ছিলেন, তাঁর প্রতিনিধিরা। এই কমিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন ক্যাবিনেট সচিব অথবা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন। এই কমিশন আলোচনা করে কোটার ব্যাপারে তাদের চূড়ান্ত মতামত দেবে। সরকার তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত কোটা বিন্যাস করবে। আর এই কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না। তবে এসময় সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ বিসিএস, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বিসিএস এরকম আলাদা নিয়োগের চিন্তা করছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান নির্বাহী। তাই তিনি যে কোটা বিলপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাই তখন বহাল থাকবে। শিগগিরই এব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’ তিনি বলেন‘এরপর যদি বিভিন্ন মহল থেকে দাবী ওঠে এখন আমরা একটা কমিশন করবো। তবে, এই বিষয়টিকে আমরা রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা সরকারী কর্মকমিশন বা ক্যাবিনেট ডিভিশনকে এই দায়িত্ব দিতে চাই।’ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন,‘আমরা এই কোটা বিতর্কের চির অবসান চাই, এজন্যই প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি বলেন,‘নতুন করে কমিশনের মাধ্যমে যদি কোটা পূন: বিন্যাস হয় তাহলে হয়তো আর বিতর্ক হবে না।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: