আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরানোর দাবি

নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের ছয় বছর

67
bdtruenews24.com

পুরান ঢাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে পৃথক মানববন্ধন করেছে সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) ২৩টি সংগঠন। ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল এ কর্মসূচি পালিত হয়।

নিমতলীর ছাতা মসজিদের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম মানববন্ধনটি করে সিটিজেন রাইটস মুভমেন্টসহ পাঁচটি সংগঠন। অন্য চার সংগঠন হলো পরিবেশসম্মত বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদ, গ্রিনক্লাব অব বাংলাদেশ (জিসিবি), নবাব কাটারা সমাজ কল্যাণ সংগঠন ও নবাব কাটারা পঞ্চায়েত কমিটি।

সিটিজেন রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুসার রেহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীতে ৯৯৪টি রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম, দোকান ও কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২৭টির ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। এই বৈধ ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরান ঢাকা থেকে সরাতে হবে। পাশাপাশি ৩ জুনকে নিমতলী ট্র্যাজেডি দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তারা ২০১০ সালের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২৪ জনের স্মরণে নিমতলী ট্র্যাজেডি স্তম্ভ নির্মাণ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

এই মানববন্ধন শেষ হওয়ার আগে বেলা ১১টার দিকে একই স্থানে আরেকটি মানববন্ধনের আয়োজন করে পবাসহ ১৮টি সংগঠন। এ সময় দুই মানববন্ধনের বক্তারা একই সময়ে পৃথক মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পবার মানববন্ধনে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫-এর কঠোর বাস্তবায়নসহ সাতটি সুপারিশ করা হয়।
আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম সরানোর দাবিতে নিমতলীর ছাতা মসজিদের সামনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন। l ছবি: প্রথম আলো

দুই মানববন্ধনে নবাব কাটারা সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাজি মোহাম্মদ শহীদ, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হুমায়ুন গোলা, পবার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান, দেবীদাশ ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি মো. মুসা, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্যসচিব জাভেদ জাহান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ছয় বছর আগে এই দিনে পুরান ঢাকার ৪৩/১ নবাব কাটারায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। বাড়িটির নিচতলায় ফোম তৈরির উপকরণ টলুইন ডাই আইসো সায়ানাইড ও মিথাইল ক্লোরাইডের গুদাম ছিল। এখান থেকে যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা মুহূর্তে বহু মানুষকে স্বজনহারা করেছিল।

২০১০ সালে নিমতলীতে আগুন লাগার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আবাসিক এলাকায় নতুন করে কোনো কারখানাকে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ দেয়নি, পুরোনো প্রতিষ্ঠানের সনদও নবায়ন করেনি।

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...