আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হিন্দুদের ওপর হামলা ও হুমকির খবর

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

116
bdtruenews24.com

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিয়মিতই হামলা হচ্ছে বাংলাদেশে৷ মাদারীপুরের কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলা ও ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের সবাইকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর তাই আবার সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন– বাংলাদেশ কি জঙ্গিবাদের ঘাঁটি হতে চলেছে? টাইম ডটকমের এক প্রতিবেদন এমনটিই বলছে৷

সেখানে বিশেষ্জ্ঞদের অভিমত হিসেবে জানানো হয়েছে, ‘আইএস আর আল-কায়েদার নতুন ঘাঁটি হয়ে উঠছে বাংলাদেশ৷’ অনেক বছর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশে জঙ্গি হামলার খবর প্রকাশিত হতো৷ এখন পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রায় নিয়মিতই আসছে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার খবর৷

বুধবার মাদারীপুরের নাজিমুদ্দীন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে কুপিয়ে আহত করে তিন সন্ত্রাসী৷ হামলাকারীদের একজনকে জনতা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে৷ পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় এসেছে এ খবর৷

ডন লিখেছে, গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান, সুফি মুসলমান, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি এবং বিদেশিরা ব্যাপক হামলার শিকার হচ্ছে এবং হামলায় এ পর্যন্ত ৫০ জনের মতো নিহত হয়েছে৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও প্রকাশ করেছে নিজের ভাড়া বাসায় এক হিন্দু কলেজ শিক্ষকের নির্মম হামলার শিকার হওয়ার খবর৷

এদিকে বিবিসি-র প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বলেছেন, জঙ্গি হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এ বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য আছে – সেকথাও উল্লেখ করা হয়েছে৷ পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান জঙ্গি বিরোধী অভিযানে অনেক মানুষ গ্রেপ্তার হলেও পুলিশ যে খুব বেশি জঙ্গি ধরতে পারেনি সে বিষয়টিও পাঠকদের জানিয়েছে তারা৷ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ৫০ বছর বয়সি শিক্ষক রিপন চক্রবর্ত্তীর ওপর হামলার খবরটি গুরুত্ব পেয়েছে৷

ইন্ডিয়ান এক্স্রপেস, এবিপি নিউজ, হিন্দুস্থান টাইমসসহ প্রায় সব ভারতীয় সংবাদপত্রই প্রচার করেছে এ খবার৷ মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলার পরই ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের পুরোহিতসহ সবাইকে চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ চিঠির ওপরের অংশে প্রেরক হিসেবে কোনো এক এ বি সিদ্দিক ও ‘ইসলামিক স্টেট অফ বাংলাদেশ’-এর নাম উল্লেখ করা হয়৷ ইসলামিক স্টেট অফ বাংলাদেশের কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে লেখা হয়, ‘চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাঁও মার্কেট, গাজীপুর মহানগর’৷ চিঠিতে বলা হয়, ‘‘তোমরা হিন্দু৷ বাংলাদেশ একটি ইসলামি রাষ্ট্র, এ দেশে ধর্ম প্রচার করতে পারবে না৷ তোমরা ভারতে যাও৷ না হলে তোমাদের কুপিয়ে হত্যা করা হবে৷” এই খবরটিও এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে৷

আতঙ্কজনক এ সব খবরের পাশাপাশি একটি স্বস্তির খবরও অবশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷ তথাকথিত জঙ্গি হামলার অনেক খবর প্রকাশিত হলেও হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের খবর খুব কমই পাওয়া যায়৷ তবে বুধবার পুলিশ জানায়, প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত এক জঙ্গিকে তারা গ্রেপ্তার করেছে৷

শেয়ার করুন :
Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন:

Loading Facebook Comments ...