আগামী জুনে বাংলাদেশ-আসাম সীমান্ত বন্ধ

142

বাংলাদেশ-আসাম সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ ২০১৭ সালের জুন নাগাদ সীমান্ত বন্ধ হবে৷ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিক করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাদ দিয়ে এ খবর দিয়েছে জার্মান ভিত্তিক আন্তর্জাতি গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ-আসাম সীমান্ত স্থল ও নৌ সীমা মিলিয়ে মোট ২৮৪ দশমিক ৪ কিলোমিটারের৷ ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আসামে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত তারা বন্ধ করে দেবে৷

গত জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আসামের করিমগঞ্জ জেলার সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ করা হবে৷”

আসামে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের সুবাদে সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন সর্বানন্দ সনোওয়াল৷ নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাত্‍কারে তিনিও বলেছিলেন, ‘‘অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা আসাম রাজ্যের সীমান্ত বন্ধ করে দেবে৷ নদী-সীমান্তও এর বাইরে থাকবে না৷” সেই ধারাবাহিকতায় এবার সীমান্ত বন্ধের কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বেধে দেয়া হলো৷

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ-আসামের ২২৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে৷ তবে এখনো ৬০ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকার ১২২টি জায়গায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই৷

সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১১ দশমিক ৯ কি.মি এলাকার ১০০টি অংশে কাঁটাতারের বেড়াসহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে৷ আর জলসীমার ৪৮ দশমিক ৮ কি. মি. এলাকায় প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করা হবে৷ আর আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ এই কাজ শেষ হবে৷

খবরে বলা হয়, ‘‘নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই আসাম-বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার৷ এর বিপরীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের (হিন্দু) নাগরিকত্ব দিতে ভারতের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ চূড়ান্ত করা হয়েছে আইনের খসড়া সংশোধনী৷’

খসড়া অনুযায়ী ধর্মীয় কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুরা ভারতে গেলে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বিবেচনা করা হবে না৷ তাদের ভারতে থাকার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে৷

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য আসাম সীমান্ত বন্ধ করছে ভারত৷ তবে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়৷ আর সীমান্ত ‘সিল’ করা বা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করাও সমাধান নয়৷ কাঁটাতারের বেড়ায় দুই দেশের সম্পর্কও আহত হয়৷”

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে দেয়াল তুলে মনের দেয়াল খোলা রাখা যায়না৷ আস্থায় চিড় ধরে৷ ভারত রাজনৈতিক কারণে এটা করছে বলে আমার মনে হয়৷’

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: