আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল , সরকার সম্পূর্ণ ভাবে প্রশাসন এবং পুলিশ নির্ভর

আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল , সরকার সম্পূর্ণ ভাবে প্রশাসন এবং পুলিশ নির্ভর

অক্টোবরকে টার্গেট করেই এগুচ্ছে বিএনপি। নূন্যতম দাবিতে সব দলকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। সাম্প্রতিক সময়ের কোটা আন্দোলন এবং নিরাপদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিএনপি অনেক কিছু শিখেছে বলে দাবি করেছে দলের সিনিয়র নেতারা। আর এবার বিএনপির আন্দোলন হবে ঢাকা কেন্দ্রিক। ঢাকাকে ঘিরেই বিএনপি সব আন্দোলনের কৌশল তৈরি করছে।

বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ‘২০০৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, এবার বিএনপি ঢাকার রাস্তায় তেমনি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। ঐ নেতা বলছেন, ‘লন্ডন থেকে আন্দোলনের কৌশলপত্র আসছে।’ বিএনপির অন্য একজন নেতা জানিয়েছেন ‘সাম্প্রতিক দুটি আন্দোলনে সরকার এবং আওয়ামী লীগের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। দুর্বলতাগুলো কী জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন ‘আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল। সরকার সম্পূর্ণ ভাবে প্রশাসন এবং পুলিশ নির্ভর। নেতাদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে।’ বিএনপির নেতারা মনে করছে, সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ দেখেছে বিএনপি।’ নেতারা বলছেন, ‘এটা তাদের আশান্বিত করে তুলেছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করেন, ‘সরকার ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এখনই আন্দোলনের ভালো সময়।’

বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মুখে যতই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলা হোক, শিগগিরই বিএনপির সহিংস আন্দোলন দৃশ্যমান হবে। লন্ডন থেকে তারেক জিয়া তাঁর নিজস্ব লোকদের ঢাকাকে অচল করার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বিএনপি তার নিজস্ব বৈঠকেও সর্বাত্মক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকাকেন্দ্রিক সহিংস এবং সর্বাত্মক আন্দোলনের দাবি এসেছে। দলের মধ্যে এতদিন যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, শিক্ষার্থীদের পরপর দুটি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, ‘২০১৪র পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। সরকারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। বড় আন্দোলনের ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই।’ তবে আন্দোলনের ধরণ কি হবে, সে সম্পর্ক স্পষ্ট করে নজরুল ইসলাম খান কিছু বলেননি।

বিএনপি একাধিক সূত্র বলছে, মূলত রাজপথ দখল করে, ঢাকাকে অচল করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। আর এটা করতে দলটি কি ধরনের কর্মসূচি নেবে তা ঠিক হচ্ছে লন্ডনে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে তারা চাইছে ২০ দলের বাইরে আরও দলকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে। জোটগত না হোক অন্তত যেন যুগপৎ আন্দোলন হয়, যে লক্ষ্যে দলটির নেতারা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। গতকাল বিকেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিএনপি মহাসচিব আন্দোলনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘অপেক্ষা করেন, দেখেন। আমরা কি করতে পারি দেখাবো। আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এখন অস্তিত্বের জন্যই আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।’

তবে এই আন্দোলন থেকে বিএনপি কি অর্জন করেতে চায়? এরকম প্রশ্নে দুরকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি অংশ বলছে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তবে অন্য একটি অংশ বলছে, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর বাস্তবতা নেই। এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনের কিছু দাবি দাওয়া আদায় করবো। সরকারকে কিছু যৌক্তিক দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। সরকারকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা আন্দোলনের মোমেন্টাম নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। বিএনপির এই অংশ মনে করছে, আন্দোলন তীব্র করতে পারলে বেগম জিয়ার মুক্তিও অসম্ভব নয়।

Follow Facebook

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন: